জাতীয়

ইমিগ্রেশন ফাঁকি দিয়ে দিল্লি ছাড়লেন ৩ বিদেশি, ভারতে তোলপাড়

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
ইমিগ্রেশন ফাঁকি দিয়ে দিল্লি ছাড়লেন ৩ বিদেশি, ভারতে তোলপাড়
ইমিগ্রেশন ফাঁকি দিয়ে দিল্লি ছাড়লেন ৩ বিদেশি, ভারতে তোলপাড়

দিল্লি বিমানবন্দর থেকে বাধ্যতামূলক ইমিগ্রেশন ছাড়পত্র ছাড়াই মিউনিখগামী আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে উঠেছেন তিন বিদেশি নাগরিক। ঘটনাটি নিয়ে এয়ার ইন্ডিয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়।

নোটিশের জবাব দিতে এয়ার ইন্ডিয়াকে সাতদিন সময় দেওয়া হয়েছে।

কীভাবে ইমিগ্রেশন ছাড়াই উড়োজাহাজে উঠলেন

ঘটনাটি ঘটে গত ৪ সেপ্টেম্বর ভোরে। তিন ইতালীয় নাগরিক রাত ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে এয়ার ইন্ডিয়ার AI-1115 ফ্লাইটে অমৃতসর থেকে দিল্লি পৌঁছান।

আরও পড়ুন

ঢাকার সঙ্গে সরাসরি ফ্লাইট স্থগিত করলো এয়ার ইন্ডিয়া

প্রায় এক ঘণ্টা পর রাত ১টা ৪৫ মিনিটে তারা লুফথানসার LH-763 ফ্লাইটে মিউনিখের উদ্দেশে দিল্লি ছাড়েন। তবে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ওঠার আগে তারা বাধ্যতামূলক ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেননি।

ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ের নোটিশে বলা হয়েছে, ঘটনাটি এয়ার ইন্ডিয়ার যাত্রী ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের ত্রুটির বিষয়টি সামনে এনেছে।

অমৃতসরে দেওয়া হয়েছিল ‘ডি’ বোর্ডিং পাস

তিন যাত্রী এয়ার ইন্ডিয়ার ‘হাব অ্যান্ড স্পোক’ ব্যবস্থার আওতায় অমৃতসর থেকে দিল্লি যান। অমৃতসরে তাদের এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটের জন্য ‘ডি’ বা ডমেস্টিক বোর্ডিং পাস দেওয়া হয়।

একই সময় মিউনিখগামী লুফথানসার পরবর্তী ফ্লাইটের বোর্ডিং পাসও দেওয়া হয় তাদের। ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় এ নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে।

আরও পড়ুন

এয়ার ইন্ডিয়ার ড্রিমলাইনারে ফের গোলযোগ, মাঝ আকাশ থেকেই ফিরলো প্লেন

এয়ার ইন্ডিয়ার প্রচলিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর বা SOP অনুযায়ী বোর্ডিং পাসের দুটি শ্রেণি রয়েছে। ‘ডি’ ডমেস্টিক এবং ‘আই’ আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য।

নোটিশে বলা হয়েছে, ওই তিন যাত্রীর ক্ষেত্রে অনুসরণ করা প্রক্রিয়ার কোনো বিধান SOP-তে নেই।

আন্তর্জাতিক ট্রান্সফার এলাকায় কীভাবে গেলেন

দিল্লিতে পৌঁছানোর পর তিন যাত্রীকে আন্তর্জাতিক যাত্রী হিসেবে শনাক্ত করে ইমিগ্রেশনের দিকে পাঠানোর কথা ছিল।

কিন্তু মন্ত্রণালয়ের নোটিশ অনুযায়ী, তাদের গেট ৩৯ থেকে ইন্টারন্যাশনাল-টু-ইন্টারন্যাশনাল ট্রান্সফার এলাকায় নেওয়া হয়।

সেখান থেকে তারা ইমিগ্রেশন চেকপয়েন্টে না গিয়েই আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের নির্ধারিত এলাকায় পৌঁছান। পরে লুফথানসার ফ্লাইটে উঠে মিউনিখের উদ্দেশে দিল্লি ছাড়েন।

এই ঘটনায় যাত্রীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণে এয়ার ইন্ডিয়ার ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আরও পড়ুন

এবার এয়ার ইন্ডিয়ার বাসে আগুন, ফের প্রশ্নের মুখে যাত্রী নিরাপত্তা

SOP-এর পাঁচটি বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ

ঘটনার সঙ্গে এয়ার ইন্ডিয়ার ডমেস্টিক-ইন্টারন্যাশনাল বা DI Operations SOP-এর পাঁচটি বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে মন্ত্রণালয়।

এর মধ্যে রয়েছে বোর্ডিং পাসের নির্ধারিত শ্রেণি অনুসরণ না করা। দিল্লিতে পৌঁছানোর পর ডমেস্টিক ও আন্তর্জাতিক যাত্রীদের আলাদা না করার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া শুধু ‘আই’ ক্যাটাগরির বোর্ডিং পাসধারী যাত্রীদের ইন্টারন্যাশনাল-টু-ইন্টারন্যাশনাল ট্রান্সফার ডেস্কে যাওয়ার কথা। ‘ডি’ বোর্ডিং পাস থাকা তিন যাত্রী সেখানে কীভাবে পৌঁছালেন, তা জানতে চেয়েছে মন্ত্রণালয়।

হাব ও স্পোক বিমানবন্দরে সার্বক্ষণিক নোডাল কর্মকর্তা ও মনিটরিং টিম রাখার বিধানও রয়েছে এয়ার ইন্ডিয়ার SOP-তে।

আরও পড়ুন

প্লেন দুর্ঘটনার পর অফিসে পার্টি, এয়ার ইন্ডিয়া ভেঞ্চারের ৪ শীর্ষকর্তা বরখাস্ত

এই কর্মকর্তাদের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে ভুল পথে কোনো যাত্রী আন্তর্জাতিক প্রস্থান প্রক্রিয়ায় ঢুকে পড়ছেন কি না, তা নিশ্চিত করা। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, এ ঘটনায় সেই নজরদারি ব্যবস্থা কার্যকরভাবে কাজ করেনি।

ম্যানুয়াল যাচাইয়ে ধরা পড়ে ত্রুটি

ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত হয়নি। পরে ম্যানুয়াল রিকনসিলিয়েশনের সময় বিষয়টি ধরা পড়ে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর ফলে শুধু সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ভূমিকা নয়, পুরো যাত্রী ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

বিশেষ করে ডমেস্টিক যাত্রী হিসেবে নথিভুক্ত তিনজন কীভাবে ইমিগ্রেশন ছাড়াই আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে উঠলেন, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।

আরও পড়ুন

বিধ্বস্ত হওয়ার আগে জ্বালানি সুইচ বন্ধ হয় এয়ার ইন্ডিয়ার প্লেনের

এয়ার ইন্ডিয়ার কাছে যেসব তথ্য চাওয়া হয়েছে

তিন যাত্রী কীভাবে ‘ডি’ ক্যাটাগরির বোর্ডিং পাস নিয়ে আন্তর্জাতিক ট্রান্সফার এলাকায় প্রবেশ করলেন, তার ব্যাখ্যা চেয়েছে মন্ত্রণালয়।

অমৃতসরে তাদের লুফথানসার পরবর্তী ফ্লাইটের বোর্ডিং পাস কেন দেওয়া হয়েছিল, সেটিও জানতে চাওয়া হয়েছে।

যাত্রীদের ব্যবস্থাপনা ও স্থানান্তরে এয়ার ইন্ডিয়ার কর্মী এবং SATS-এর কর্মীদের ভূমিকা সম্পর্কেও তথ্য চাওয়া হয়েছে।

ঘটনার সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত নোডাল কর্মকর্তা ও মনিটরিং টিম কোথায় ছিলেন এবং তারা কী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ডমেস্টিক ও আন্তর্জাতিক যাত্রীদের রিকনসিলিয়েশন যথাসময়ে কেন সম্পন্ন হয়নি, সেই ব্যাখ্যাও চেয়েছে মন্ত্রণালয়।

আরও পড়ুন

এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটে বোমা হামলার হুমকি, থাইল্যান্ডে জরুরি অবতরণ

ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে General Declaration, passenger manifest এবং API-PNR তথ্য যথাসময়ে পাঠানো হয়েছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সাতদিনের মধ্যে জবাব দিতে হবে

নির্ধারিত SOP অনুসরণে ব্যর্থতা এবং পর্যাপ্ত সতর্কতা না নেওয়ার কারণে কেন এয়ার ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে।

নোটিশ পাওয়ার সাতদিনের মধ্যে জবাব দিতে হবে উড়োজাহাজ সংস্থাটিকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না দিলে এয়ার ইন্ডিয়ার কোনো ব্যাখ্যা নেই বলে ধরে নেওয়া হতে পারে।

এরপর নথিপত্রের ভিত্তিতে প্রশাসনিক ও নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছে।

আরও পড়ুন

এয়ার ইন্ডিয়ার প্লেন দুর্ঘটনার রহস্য আরও জটিল করলো ককপিটের অডিও

কী এই ‘হাব অ্যান্ড স্পোক’ ব্যবস্থা

হাব অ্যান্ড স্পোক ব্যবস্থায় ছোট বা আঞ্চলিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রীদের বড় একটি বিমানবন্দরে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তারা আন্তর্জাতিক গন্তব্যের ফ্লাইটে ওঠেন। যেমন- অমৃতসর থেকে কোনো যাত্রী দিল্লি হয়ে মিউনিখ যেতে পারেন।

তবে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর ওই যাত্রীকে আন্তর্জাতিক যাত্রী হিসেবে শনাক্ত করতে হয়। এরপর নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করতে হয়।

এই ঘটনাকে ঘিরে মূল প্রশ্ন হলো, সেই বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া এড়িয়ে তিন বিদেশি নাগরিক কীভাবে দিল্লি থেকে মিউনিখগামী আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে উঠতে পারলেন।

সূত্র: এনডিটিভি
কেএএ/

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ

ভারতের তরুণ নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টি শুক্রবার দেশজুড়ে নতুন করে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেছে। লাখ লাখ নাগরিকের ভোটাধিকার অন্যায়ভাবে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে—এমন ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যেই মুম্বাইতে হাজার হাজার মানুষ এই আন্দোলনে শামিল হয়েছেন বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।

News অক্টোবর ২, ২০২৬ 0
‘আমি এহন কার মুখ দেইখা বাঁচুম’

‘আমি এহন কার মুখ দেইখা বাঁচুম’

কলকাতার হস্তশিল্প মেলায় চাহিদার শীর্ষে বাংলাদেশের লুঙ্গি, গামছা

কলকাতার হস্তশিল্প মেলায় চাহিদার শীর্ষে বাংলাদেশের লুঙ্গি, গামছা

অপশক্তি মোকাবিলায় বিএনপি প্রস্তুত: হাবিব

অপশক্তি মোকাবিলায় বিএনপি প্রস্তুত: হাবিব

পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকার দাবি
পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকার দাবি

পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে গাজীপুরে শ্রমিক সমাবেশ করা হয়েছে। আগামী ১ ডিসেম্বরের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে সারা দেশে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।

News অক্টোবর ২, ২০২৬ 0
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর

মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর

মা, মেয়ে ও নাতিকে নিয়ে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন মোফাজ্জল, ফিরলেন লাশ হয়ে

মা, মেয়ে ও নাতিকে নিয়ে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন মোফাজ্জল, ফিরলেন লাশ হয়ে

১০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়তে সম্মত হয়েছে জি-৭

১০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়তে সম্মত হয়েছে জি-৭

মারা গেছেন বিডিনিউজের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী
মারা গেছেন বিডিনিউজের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী মারা গেছেন। রাইজিংবিডিকে এ তথ্য জানিয়েছেন বিডিনিউজের লেখক ও সিনিয়র সাংবাদিক আমীন আল রশীদ।

News অক্টোবর ২, ২০২৬ 0
কিশোর অপরাধ দমন: লক্ষ্মীপুরে ৩ দিনে আটক ৫৪৯

কিশোর অপরাধ দমন: লক্ষ্মীপুরে ৩ দিনে আটক ৫৪৯

ছেলে দ্বিতীয় বিয়ে করায় অভিমান, বৃদ্ধের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

ছেলে দ্বিতীয় বিয়ে করায় অভিমান, বৃদ্ধের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

৪ ঘণ্টা পর সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক

৪ ঘণ্টা পর সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক

0 Comments