মহাকাশে বলয় বলতেই আপনার চোখের সামনে নিশ্চয়ই শনি গ্রহের সেই রাজকীয় ছবি ভেসে ওঠে। সৌরজগতের সবচেয়ে সুন্দর এই অলংকারের জন্য শনির কদর সবার চেয়ে আলাদা। আমাদের চেনা ইউরেনাস, নেপচুন বা বৃহস্পতিরও রিং আছে, তবে সেগুলো শনির মতো অতটা জাঁকজমকপূর্ণ নয়। কিন্তু মহাকাশের নিয়মকানুন যে কতটা অদ্ভুত, তা প্রমাণ করতে এবার মঞ্চে হাজির হয়েছে একেবারে ছোট্ট একটি মহাজাগতিক পাথরখণ্ড। এর নাম চ্যারিকলো।
আকারে মাত্র ২৫০ কিলোমিটার চওড়া এই গ্রহাণুটি সূর্যের চারদিকে ঘুরছে শনি ও ইউরেনাসের ঠিক মাঝখান দিয়ে। বিজ্ঞানীরা একে ডাকেন সেন্টর পরিবারের সদস্য বলে। গ্রিক পুরাণের অর্ধেক মানুষ আর অর্ধেক ঘোড়ার রূপকথার দানবদের মতো, মহাকাশের এই সেন্টররাও গ্রহাণু ও ধূমকেতুর এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এত ক্ষুদ্র হওয়ার পরও এর চারপাশে রয়েছে চমৎকার দুটি পুরু রিং! সম্প্রতি মহাকাশের সবচেয়ে শক্তিশালী চোখ জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ এই রিংগুলোর এমন এক অদ্ভুত পরিবর্তন ধরেছে, যা বিজ্ঞানীদের রীতিমতো অবাক করেছে।
২০১৩ সালে যখন প্রথম চ্যারিকলোর রিং আবিষ্কার হয়, তখন জ্যোতির্বিজ্ঞানের দুনিয়ায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। বিজ্ঞানীরা আগে ভাবতেন, রিং থাকার মতো আভিজাত্য শুধু বড় গ্রহগুলোরই মানায়। কিন্তু চ্যারিকলো এবং এর চেয়েও ছোট কাইরন নামে আরেকটি বস্তু প্রমাণ করে দিয়েছে, মহাকাশে ছোটদেরও ফ্যাশন করার অধিকার আছে! তবে সেই ফ্যাশন যে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এমন অদ্ভুতভাবে বদলাবে, তা কেউ ঘুণাক্ষরেও ভাবেননি।
আকারে মাত্র ২৫০ কিলোমিটার চওড়া চ্যারিকলো গ্রহাণুটি সূর্যের চারদিকে ঘুরছে শনি ও ইউরেনাসের ঠিক মাঝখান দিয়ে। বিজ্ঞানীরা একে ডাকেন সেন্টর পরিবারের সদস্য বলে।
স্পেনের ইনস্টিটিউট অব অ্যাস্ট্রোফিজিক্স অব আন্দালুসিয়ার একদল গবেষক ২০২২ সালের অক্টোবরে জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ দিয়ে এই গ্রহাণুটির ওপর নজরদারি শুরু করেন। মহাকাশের এত দূরের কোনো ছোট বস্তুকে সরাসরি দেখা যায় না। তাই বিজ্ঞানীরা স্টেলার অকালটেশন নামে একটি দারুণ কৌশল ব্যবহার করেন। এর মানে, চ্যারিকলো যখন কোনো দূরের তারার সামনে দিয়ে পার হয়, তখন তারার আলো কতটুকু বাধা পেল বা কমে গেল, তা মেপে এই গ্রহাণু ও এর রিংয়ের আকার-আকৃতি বোঝা যায়। ব্যাপারটা অনেকটা এমন—অনেক দূরে জ্বলতে থাকা একটি বাতির সামনে দিয়ে একটি মশা উড়ে গেলে বাতির আলো ঠিক যতটুকু ম্লান হয়, সেই ম্লান আলোর হিসাব কষে মশাটির ডানার আকার মেপে ফেলা!
গত এক দশকের পুরোনো তথ্যের সঙ্গে জেমস ওয়েবের নতুন ডেটা মিলিয়ে গবেষক দলের প্রধান পাবলো সান্তোস-সাঞ্জ এক চমকপ্রদ বিষয় আবিষ্কার করেন। তিনি দেখলেন, চ্যারিকলোর দুটি রিং সম্পূর্ণ বিপরীত আচরণ করছে! ভেতরের দিকের রিংটি আগের চেয়ে অনেক বেশি অস্বচ্ছ বা ঘন হয়ে গেছে, অন্যদিকে বাইরের রিংটি হয়ে গেছে বেশ হালকা। এত ছোট একটি গ্রহাণুর রিং সাধারণত শান্ত ও স্থিতিশীল থাকার কথা। কিন্তু এমন নাটকীয় পরিবর্তন বুঝিয়ে দিচ্ছে, এর ভেতরের পদার্থবিজ্ঞান আমাদের আগের ধারণার চেয়েও অনেক বেশি জটিল। সান্তোস-সাঞ্জের মতে, এই পরিবর্তনগুলো আমাদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে যে মহাকাশের এই বলয়গুলো আসলে কীভাবে তৈরি হয়, কীভাবে বছরের পর বছর টিকে থাকে আর কোন জাদুবলে এরা নিজেদের স্থিতিশীলতা বজায় রাখে।
পাবলো সান্তোস-সাঞ্জ দেখলেন, চ্যারিকলোর দুটি রিং সম্পূর্ণ বিপরীত আচরণ করছে! ভেতরের দিকের রিংটি আগের চেয়ে বেশি অস্বচ্ছ বা ঘন হয়ে গেছে, অন্যদিকে বাইরের রিংটি হয়ে গেছে বেশ হালকা।
এই আবিষ্কারটি কেবল একটি গ্রহাণুর রিংয়ের পরিবর্তন দেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের নিখুঁত সক্ষমতার মাইলফলক। একটু ভেবে দেখুন, সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্বের প্রায় ১৭ গুণ দূরে থাকা মাত্র ২৫০ কিলোমিটারের একটি বিন্দুর চারপাশের রিংয়ের পরিবর্তন মাপা হচ্ছে!
গবেষক দলের সদস্য ইউসেল কিলিক জানিয়েছেন, এই অসাধ্য সাধনের জন্য মহাকাশের তিনটি জিনিসের একেবারে কাঁটায় কাঁটায় নিখুঁত অবস্থানের তথ্য জানা প্রয়োজন ছিল। প্রথমত, চ্যারিকলো ঠিক কোন কক্ষপথে ঘুরছে তা জানা। দ্বিতীয়ত, পেছনের যে নক্ষত্রের আলো মেপে এই পরীক্ষা চলছে, মহাকাশে তার সঠিক অবস্থান জানা। এ কাজে অবশ্য ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির গায়া মিশনও ভূমিকা রেখেছে। আর তৃতীয়ত, জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের নিজের অবস্থান নিখুঁত রাখা।
একটু ভেবে দেখুন, সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্বের প্রায় ১৭ গুণ দূরে থাকা মাত্র ২৫০ কিলোমিটারের একটি বিন্দুর চারপাশের রিংয়ের পরিবর্তন মাপা হচ্ছে!
জেমস ওয়েব পৃথিবী থেকে প্রায় ১৫ লাখ কিলোমিটার দূরে এল২ ল্যাগ্রাঞ্জ পয়েন্টে বসে মহাকাশের দিকে চোখ পেতে আছে। এটি এমন একটি জায়গা, যেখানে পৃথিবী ও সূর্যের মহাকর্ষীয় টান একটি নিখুঁত ভারসাম্য তৈরি করে। কিন্তু সেখানেও টেলিস্কোপটিকে নিজের জায়গায় স্থির রাখার জন্য মাঝেমধ্যেই রকেটের থ্রাস্টার জ্বালিয়ে ছোটখাটো অরবিটাল কারেকশন করতে হয়। এত দূর থেকে, এতগুলো চলক নিখুঁতভাবে সামলে এমন একটি সূক্ষ্ম পরিবর্তন ধরতে পারাটা জ্যোতির্বিজ্ঞানের ইতিহাসে সত্যিই এক অনন্য অর্জন।
এই ছোট্ট গ্রহাণুর রিং কেন এমন অদ্ভুতভাবে বদলাচ্ছে, তার আসল কারণ এখনো রহস্যের চাদরেই ঢাকা। তবে এই পরিবর্তনের ধারা ধরতে পারার সক্ষমতা বিজ্ঞানীদের সামনে মহাজাগতিক বিবর্তনের এক নতুন জানালা খুলে দিয়েছে। আগামী দিনগুলোতে হয়তো আমাদের সৌরজগতের অন্যান্য রিং সিস্টেম, এমনকি খোদ শনির বলয়ের অনেক অজানা রহস্যও এই ছোট্ট চ্যারিকলোর হাত ধরেই উন্মোচিত হবে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ফ্রান্সের সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগিতা আরো জোরদার ও সম্প্রসারণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের সময় যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৮১টি ফিক্সড-উইং (সাধারণ বিমান), রোটারি-উইং (হেলিকপ্টার) এবং চালকবিহীন বিমান (ড্রোন) হারিয়েছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিরপেক্ষ সংস্থা ‘কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিস’-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনের বরাতে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সিলেটের প্রতিটি পূজামণ্ডপে আতশবাজি কিংবা দর্শনার্থী বা স্থানীয় মানুষের বিরক্তি বা উদ্বেগ সৃষ্টি করে এমন কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবদুল্লাহ আল মামুন।