জাতীয়

হাসপাতাল-স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকেও ছড়াচ্ছে হাম

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
হাসপাতাল-স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকেও ছড়াচ্ছে হাম
হাসপাতাল-স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকেও ছড়াচ্ছে হাম

চট্টগ্রামে হামে আক্রান্ত শিশুদের বড় একটি অংশ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র বা হাসপাতালে অবস্থানকালে সংক্রমিত হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের ৫৯ দশমিক ৪ শতাংশের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র বা হাসপাতালে অবস্থানকালে হামে সংক্রমণের তথ্য পাওয়া গেছে।

এসপেরিয়া হেলথ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের তৃতীয় গবেষণা প্রকল্পের ফলাফল উপস্থাপন অনুষ্ঠানে গবেষকেরা এ তথ্য জানান। আজ বুধবার দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সম্মেলনকক্ষে গবেষণা ফলাফল উপস্থাপন করেন মুখ্য গবেষক কামরুন নাহার।

গবেষণায় ৩০০টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে ১৯৬টি ছিল শিশুদের এবং ১০৪টি ছিল মা ও শিশুর দুজনেরই নমুনা। শিশুদের নমুনা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং মা ও শিশু মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে সংগ্রহ করা হয়। ১৯৬ শিশুর নমুনার মধ্যে ১৭টির জিনোম সিকোয়েন্সিং করা হয়।

গবেষকেরা জানান, জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ে হাম ভাইরাসের নতুন ধরন মেলেনি। সব কটি নমুনাতেই হাম ভাইরাসের বি৩ জিনোটাইপ শনাক্ত হয়েছে। গবেষণায় পাওয়া এই জিনোটাইপ বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আগে শনাক্ত হওয়া বি৩ ভাইরাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

হাম প্রতিরোধী টিকার অবস্থাও গবেষণায় উঠে এসেছে। ১৯৬ শিশুর মধ্যে ১৬৭ শিশু বা ৮৫ দশমিক ২ শতাংশের টিকা নেওয়া ছিল না। তবে এর মধ্যে ৪৬ শতাংশ শিশু টিকা নেওয়ার নির্ধারিত বয়সে পৌঁছায়নি। নির্ধারিত বয়সে পৌঁছানোর পরও যারা টিকা নেয়নি, তাদের মধ্যে ৫২ শতাংশ সচেতনতার অভাব বা টিকা দেওয়ার তারিখ ভুলে যাওয়াকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

ফলাফল উপস্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন। এ ছাড়া চট্টগ্রামের বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক সেখ ফজলে রাব্বি, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন বক্তব্য দেন।

এসপেরিয়া হেলথ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের গবেষণা প্রকল্পটির সহযোগী হিসেবে ছিল চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, পেডিয়াট্রিক রিসার্চ গ্রুপ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড।

জটিলতার বড় ঝুঁকি অপুষ্টি

হামে আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে সংক্রমণের পাশাপাশি শিশুর পুষ্টিগত অবস্থাও রোগের জটিলতা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। গবেষণায় ১৯৬ শিশুর মধ্যে ৫১ শিশু বা ৩১ শতাংশের মাঝারি বা তীব্র অপুষ্টি ছিল। চূড়ান্ত বিশ্লেষণে এই অপুষ্টিকেই গুরুতর জটিলতার সবচেয়ে শক্তিশালী ও স্বাধীন ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

অপুষ্টির পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুদের আর্থসামাজিক ও ভৌগোলিক অবস্থাতেও ঝুঁকির চিত্র পাওয়া গেছে। গবেষণায় অংশ নেওয়া শিশুদের ৭৫ দশমিক ৫ শতাংশ গ্রামীণ বা প্রত্যন্ত এলাকা থেকে এসেছে। ৬৪ দশমিক ৮ শতাংশ এসেছে নিম্ন আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবার থেকে।

গবেষণায় আক্রান্ত শিশুদের জটিলতার হারও ছিল বেশি। প্রায় ৮৭ শতাংশ শিশুর অন্তত একটি জটিলতা দেখা যায়। এসব জটিলতার মধ্যে নিউমোনিয়া ছিল সবচেয়ে বেশি। ৭৮ দশমিক ১ শতাংশ শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিল। এ ছাড়া ডায়রিয়া, হৃদ্‌যন্ত্রের জটিলতা, শক ও মস্তিষ্কের প্রদাহের মতো জটিলতাও দেখা গেছে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, টিকা নেওয়া শিশুদের তুলনায় টিকা না নেওয়া শিশুদের গুরুতর জটিলতায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রায় দ্বিগুণ। টিকা নেওয়া শিশুদের মধ্যে কোনো মৃত্যুও হয়নি।

এ ছাড়া মাত্র ৩২ দশমিক ১ শতাংশ শিশু আগের ছয় মাসে ভিটামিন এ ক্যাপসুল পেয়েছিল। ভিটামিন এ ক্যাপসুল না পাওয়া শিশুদের ৫৯ শতাংশের গুরুতর জটিলতা দেখা গেছে। তাই টিকাদানের পাশাপাশি শিশুদের পুষ্টি ও ভিটামিন এ ক্যাপসুল সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

গবেষণায় ৫৩ শতাংশ শিশুর হাম ছিল অত্যন্ত গুরুতর বা জটিল। ১৬৯ শিশু চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে মৃত্যুর হার ছিল ৩ দশমিক ৬।

টিকার পরিধি বাড়ানোর সুপারিশ

হাম প্রতিরোধে নিয়মিত টিকাদানের আওতা ৯৫ শতাংশের বেশি করার সুপারিশ করেছে গবেষণা দল। নিয়মিত টিকাদানের বাইরে থাকা শিশুদের শনাক্ত করে দ্রুত টিকার আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ৪৬ শতাংশ শিশু ৯ মাস বয়সের আগেই হামে আক্রান্ত হয়েছে। এ কারণে গবেষক দল হাম প্রতিরোধী টিকা দেওয়ার বয়স ৬ মাস করার সুপারিশ করেছে।

চট্টগ্রামের বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, হাম প্রতিরোধের দুটি বড় উপায় হলো টিকাদান ও আক্রান্ত রোগীকে পৃথক রাখা। হাসপাতালের পাশাপাশি বাড়িতেও আক্রান্ত  রোগীকে পৃথক রাখতে হবে। তবে ছয় মাস বয়সে হাম প্রতিরোধী টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ জন্য বড় ধরনের অর্থায়ন প্রয়োজন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানানো হয়েছে।

গবেষণায় আক্রান্ত শিশুকে দ্রুত শনাক্ত করে পৃথক রাখা, সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া এবং হাসপাতালগুলোতে দ্রুত রোগী বাছাই, পৃথক রাখার ব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া হামের রোগ নজরদারি, পরীক্ষাগারে রোগ নিশ্চিতকরণ, দ্রুত রোগ তদন্ত, শিশুদের পুষ্টিগত অবস্থার উন্নয়ন এবং নিয়মিত ভিটামিন এ ক্যাপসুল সরবরাহ নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, গবেষণার ফলাফল একদিকে গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রমাণ, অন্যদিকে সতর্কবার্তা। প্রায় অর্ধেক শিশু নিয়মিত টিকাদানের বয়সে পৌঁছানোর আগেই হামে আক্রান্ত হয়েছে। তাই শুধু টিকা দেওয়াই নয়, সময়মতো টিকা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
রাবিতে সাংবাদিক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় এনসিপির নিন্দা
রাবিতে সাংবাদিক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় এনসিপির নিন্দা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিক ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। একইসঙ্গে হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, ক্যাম্পাসে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং নির্বিঘ্নে মতপ্রকাশের পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

News অক্টোবর ৫, ২০২৬ 0
কসবায় সঞ্চলন লাইন ছিদ্র করে গ্যাস চুরির চেষ্ট, বিকট শব্দে আতঙ্ক

কসবায় সঞ্চলন লাইন ছিদ্র করে গ্যাস চুরির চেষ্ট, বিকট শব্দে আতঙ্ক

সুন্দরবনে জেলে নৌকায় হামলার চেষ্টা, ফাঁকা গুলিতে পালাল ডাকাতরা

সুন্দরবনে জেলে নৌকায় হামলার চেষ্টা, ফাঁকা গুলিতে পালাল ডাকাতরা

‘সাংবাদিকতা শিখিয়ে দেব’—সংবাদ সম্মেলনে এমপি তমিজ

‘সাংবাদিকতা শিখিয়ে দেব’—সংবাদ সম্মেলনে এমপি তমিজ

বাইমাইল নয়, তাঁতীবাজার থেকে পালান ‘পিচ্চি রাজা’
বাইমাইল নয়, তাঁতীবাজার থেকে পালান ‘পিচ্চি রাজা’

গাজীপুরের বাইমাইলে নয়, ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকা থেকেই পালিয়ে যান শীর্ষ মাদক কারবারি রাজা ওরফে ‘পিচ্চি রাজা’র (৩০) এমন তথ্য পেয়েছে পুলিশের তদন্ত কমিটি।

News অক্টোবর ৫, ২০২৬ 0
মেসির শেষ সময়টুকু শুধু উপভোগ করতে চান মার্তিনেজ

মেসির শেষ সময়টুকু শুধু উপভোগ করতে চান মার্তিনেজ

চূড়ান্ত সুপারিশের পরও শিক্ষক হতে পারলেন না ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দুই যুবক

চূড়ান্ত সুপারিশের পরও শিক্ষক হতে পারলেন না ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দুই যুবক

দিনের তাপমাত্রা হালকা হ্রাস পেতে পারে

দিনের তাপমাত্রা হালকা হ্রাস পেতে পারে

0 Comments