গুগল ম্যাপে এখন বাংলাদেশের ৩৪টি জেলার বায়ুর মানসংক্রান্ত তথ্য দেখা যাচ্ছে। গুগল ম্যাপের ‘এয়ার কোয়ালিটি’ স্তরটি চালু করে কোনো স্থানের ওপর চাপ দিলে সেখানকার বায়ুমান সূচক বা একিউআই জানা যাচ্ছে।
বাংলাদেশ থেকে এ উদ্যোগে তথ্য ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস)। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের বসানো পর্যবেক্ষণযন্ত্র থেকে পাওয়া তথ্য গুগলের ব্যবস্থায় যুক্ত হচ্ছে।
বায়ুর মান সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে সহজে পৌঁছে দেওয়া এবং বায়ুদূষণের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে ক্যাপস।
গতকাল ৭ সেপ্টেম্বর ছিল বিশ্ব নির্মল বায়ু দিবস। এ দিবসে বায়ুদূষণের তথ্য জানার সহজ উপায়ের সন্ধান দিল ক্যাপস।
রাজধানী ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত নগরীগুলোর একটি। সাধারণত অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত ঢাকায় বায়ুদূষণ খুব বেশি থাকে। এ সময় বৃষ্টি কম থাকে, তাই দূষণের মাত্রা হয় অত্যধিক। তবে শুধু ঢাকা নয়, বাংলাদেশের প্রতিটি শহরেই বায়ুদূষণ কমবেশি আছে। আর শুধু শুষ্ক মৌসুমে নয়, দূষণ এখন থাকে প্রায় সারা বছরই। যেমন আজ মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৯টায় বিশ্বের ১২৭টি শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ছিল ষষ্ঠ। বায়ুর মান ছিল ১৫৭, অর্থাৎ অস্বাস্থ্যকর। বর্ষা পরের এই শরতে সাধারণত বায়ুর মান ভালো থাকে, কিন্তু এখন তা–ও থাকছে না।
মুঠোফোনে গুগল ম্যাপ খুলে ‘লেয়ারস’ বা স্তরচিহ্নে চাপ দিতে হবে। এরপর ‘এয়ার কোয়ালিটি’ নির্বাচন করলে মানচিত্রের বিভিন্ন স্থান রং ও সংখ্যার মাধ্যমে চিহ্নিত হবে। নির্দিষ্ট কোনো স্থানের ওপর চাপ দিলে সেখানে বায়ুর মান কেমন, তা দেখা যাবে। বায়ুমান সূচক বা একিউআই হচ্ছে বিভিন্ন দূষকের মাত্রাকে একটি সংখ্যার মাধ্যমে প্রকাশের পদ্ধতি। সংখ্যা ও রং দেখে কোনো এলাকার বায়ু ভালো, মাঝারি, অস্বাস্থ্যকর বা ঝুঁকিপূর্ণ কি না, সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

ক্যাপস জানিয়েছে, বায়ুর মান সম্পর্কে তাৎক্ষণিক তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রতিষ্ঠানটি দেশজুড়ে পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। বর্তমানে ৩৪ জেলায় তাদের লাইভ মনিটরিং স্টেশন চালু হয়েছে। অর্থাৎ দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে প্রায় ৫৩ শতাংশ জেলায় ক্যাপসের পর্যবেক্ষণযন্ত্র রয়েছে।
জেলাগুলো হলো নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, শেরপুর, জামালপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, টাঙ্গাইল, ঢাকা, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, যশোর, বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, ফেনী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, সিলেট ও মৌলভীবাজার।

পর্যায়ক্রমে বাকি জেলাগুলোতেও স্টেশন বসিয়ে ৬৪ জেলা এই নেটওয়ার্কে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিটি পর্যবেক্ষণযন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের সেন্সর রয়েছে। এগুলো দিয়ে তাপমাত্রা, আপেক্ষিক আর্দ্রতা, অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা পিএম২.৫, বস্তুকণা পিএম১০, মোট উদ্বায়ী জৈব যৌগ বা টিভিওসি, বায়ুমান সূচক এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা পরিমাপ করা হচ্ছে। কয়েকটি জেলার যন্ত্রে সালফার ডাই-অক্সাইড ও নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড পরিমাপের ব্যবস্থাও রয়েছে। ক্যাপসের তথ্য অনুযায়ী, স্টেশনগুলো সপ্তাহের ৭ দিন ২৪ ঘণ্টা সচল থাকে। এসব স্টেশন থেকে পাঁচ মিনিট পরপর তথ্য পাঠানো হয়। তবে গুগল বিভিন্ন উৎসের তথ্য সমন্বয় করে সাধারণত ঘণ্টাভিত্তিক বায়ুমান সূচক হিসাব ও প্রদর্শন করে।
দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণে স্টেশনগুলো বসানো হয়েছে। ক্যাপস মনে করছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এভাবে কাজ করার ফলে বায়ুদূষণ নিয়ে গবেষণা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়বে।
বাংলাদেশে বায়ুদূষণের স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক ক্ষতি কতটা গুরুতর, তার একটি চিত্র পাওয়া যায় আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ারের (ক্রিয়া) গবেষণায়।
‘বাংলাদেশে সূক্ষ্ম কণাদূষণের জনস্বাস্থ্য প্রভাব’ শিরোনামের প্রতিবেদনটি ২০২৫ সালের ১৮ জানুয়ারি প্রকাশ করা হয়। গবেষণাটি পরিচালনা করেন ড্যানিয়েল নেসান, হুবার্ট থিয়েরিও ও জেমি কেলি। প্রতিবেদনটির সম্পাদক ছিলেন জোনাথন সাইডম্যান।
গবেষণায় দেখা যায়, বর্তমান পিএম২.৫ দূষণের কারণে বাংলাদেশে বছরে ১ লাখ ২ হাজার ৪৫৬ জনের অকালমৃত্যু ঘটে। এসব মৃত্যুর বড় অংশ হৃদ্রোগ, স্ট্রোক, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগ, নিম্ন শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ ও ফুসফুসের ক্যানসারের সঙ্গে সম্পর্কিত। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে শুধু নিম্ন শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণেই বছরে প্রায় ৫ হাজার ২৫৮ জনের মৃত্যু হয়। পিএম২.৫ বলতে বাতাসে ভাসমান ২ দশমিক ৫ মাইক্রোমিটার বা তার চেয়ে কম ব্যাসের অতিক্ষুদ্র কণাকে বোঝায়। এসব কণা শ্বাসের সঙ্গে মানুষের ফুসফুসে প্রবেশ করতে পারে। এমনকি রক্তপ্রবাহেও মিশে যেতে পারে।
ক্রিয়ার হিসাবে, পিএম২.৫ দূষণের কারণে বাংলাদেশে বছরে হাঁপানিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রায় ৬ লাখ ৬৮ হাজার ৪৮২ বার হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যেতে হয়। একই কারণে প্রতিবছর প্রায় ২৬ কোটি ৩০ লাখ কর্মদিবস নষ্ট হয়।
সূক্ষ্ম কণাদূষণের সঙ্গে বছরে প্রায় ৯ লাখ ৪৮৫টি অপরিণত বা সময়ের আগে জন্ম এবং ৬ লাখ ৯৬ হাজার ৩৮৯টি কম ওজনের শিশুর জন্মের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। গবেষকেরা বলেছেন, বায়ুদূষণের এই প্রভাব এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মেও ছড়িয়ে পড়ছে।
ক্যাপসের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল হক। তিনি বর্তমানে অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) আছেন। তিনি বলেন, গুগল ম্যাপের মাধ্যমে বায়ুদূষণের তথ্য আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাবে। এর ফলে মানুষের মধ্যে সচেতনতাও বাড়তে পারে।
তবে পর্যবেক্ষণযন্ত্রের মান ও তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন জিয়াউল হক। তিনি বলেন, ‘যেসব যন্ত্র বসিয়ে বায়ুর মান পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, সেগুলোর মান কেমন, তা দেখতে হবে। সাধারণত তুলনামূলক কম দামের যন্ত্র দিয়ে এ ধরনের কাজ করা হয়। এসব যন্ত্র তিন থেকে চার বছর পরপর বদলানোর প্রয়োজন হতে পারে। যন্ত্র নিয়মিত বদলানো, রক্ষণাবেক্ষণ ও ক্যালিব্রেশনের ব্যবস্থা আছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।’
পরিবেশ অধিদপ্তরও দেশের বিভিন্ন স্থানে বায়ুর মান পর্যবেক্ষণ করে উল্লেখ করে জিয়াউল হক বলেন, মাঝেমধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর ও ক্যাপসের সংগৃহীত তথ্য পাশাপাশি রেখে মিলিয়ে দেখা উচিত। এতে ক্যাপসের যন্ত্রের পাঠ কতটা নির্ভরযোগ্য, তা যাচাই করা সম্ভব হবে।
গুগলের তথ্য অনুযায়ী, মানচিত্রে দেখানো বায়ুর মান শুধু একটি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের সরাসরি পাঠানো তথ্য নয়। বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ স্টেশন ও বাণিজ্যিক সেন্সরের তথ্যের পাশাপাশি স্যাটেলাইটের উপাত্ত, আবহাওয়ার ধরন, যানবাহনের চাপ, অগ্নিকাণ্ড এবং ভূমির আচ্ছাদনসংক্রান্ত তথ্য সমন্বয় করে বায়ুর মান নির্ধারণ করা হয়।
ফলে গুগল ম্যাপে কোনো স্থানের জন্য দেখানো বায়ুমান সূচক এবং নিকটবর্তী কোনো পর্যবেক্ষণ স্টেশনের সরাসরি পাঠের মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে। একটি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের তথ্য দিয়ে পুরো জেলার সব এলাকার বায়ুর মানও একই রকম বলে ধরে নেওয়া যায় না। বায়ুর মান অল্প দূরত্বের মধ্যেও বদলে যেতে পারে।
ক্যাপসের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সাতটি ধাপ অনুসরণ করা প্রয়োজন। এগুলো হচ্ছে বায়ুদূষণের বর্তমান ও ঐতিহাসিক তথ্য সংগ্রহ, সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ, দূষণের উৎস চিহ্নিত করা, দূষণ বাড়া বা কমার কারণ অনুসন্ধান, নিয়ন্ত্রণের সম্ভাব্য পদ্ধতি নির্ধারণ, সময় ও ব্যয়ের ভিত্তিতে পদ্ধতিগুলোর তুলনামূলক ছক তৈরি এবং নির্বাচিত পদ্ধতি প্রয়োগের পাশাপাশি আইনের বাস্তবায়ন।
আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার আরও বলেন, ‘দূষণের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্য না থাকলে এসব কাজের কোনোটিই ঠিকভাবে করা সম্ভব নয়। স্বাধীনতার এত বছর পরও দেশের জেলা শহরগুলোয় বায়ুর মান সম্পর্কে পর্যাপ্ত তাৎক্ষণিক তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ফলে দূষণের উৎস ও দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা এবং তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা কঠিন হয়ে পড়ে।’ ক্যাপসের চেয়ারম্যান বলেন, ভূমিতে থাকা পর্যবেক্ষণ স্টেশন থেকে সংগৃহীত তথ্য স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ও অন্যান্য উপাত্তের সঙ্গে সমন্বয় করে মানচিত্রে যুক্ত করছে গুগল। এতে এসব তথ্য সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে।
ক্যাপস জানিয়েছে, তারা কয়েকটি সরকারি, বেসরকারি ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করেছে। পর্যবেক্ষণযন্ত্র থেকে পাওয়া তথ্য ব্যবহার করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যৌথ গবেষণা পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষার্থীরা এসব তথ্য নিয়ে থিসিস করতে পারবেন। পাশাপাশি তাঁদের জন্য ইন্টার্নশিপের সুযোগ তৈরির কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
দেশের সব জেলায় নির্ভরযোগ্য পর্যবেক্ষণ স্টেশন স্থাপন করা গেলে বায়ুদূষণের স্থান ও সময়ভিত্তিক পরিবর্তন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে। এসব তথ্য দূষণের উৎস চিহ্নিত করা, স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করা এবং নীতিনির্ধারণে কাজে লাগতে পারে। তবে তার জন্য যন্ত্রের মান, নিয়মিত ক্যালিব্রেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ, তথ্য যাচাই এবং সংগৃহীত উপাত্তের উন্মুক্ততা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
সুনামগঞ্জের দিরাই প্রেসক্লাব মহিলা প্রীতি ফুটবল খেলা আপত্তির মুখে স্থগিত করা হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে দিরাইয়ে স্বপ্নচূড়া স্পোর্টিং ক্লাব ও সিলেটের জারা স্পোর্টিং ক্লাবের মধ্যকার নারী ফুটবলের একটি প্রীতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় হানিট্র্যাপে জড়িত থাকার অভিযোগে যুবদলের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।