জাতীয়

গণশৌচাগারের অব্যবস্থাপনা, নারী ও শিশুর জন্য প্রতিকার কী?

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
গণশৌচাগারের অব্যবস্থাপনা, নারী ও শিশুর জন্য প্রতিকার কী?
গণশৌচাগারের অব্যবস্থাপনা, নারী ও শিশুর জন্য প্রতিকার কী?

জয়শ্রী দাস

বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিভাগে জরুরি কাজে গিয়েছিলাম। সেখানকার ওয়াশরুমে প্রবেশ করতে যাব, হঠাৎ একজন অপরিচিত নারী, মনে হলো শিক্ষক, আমাকে বললেন, ‘শিক্ষকদের ওয়াশরুমে আপনি কেন প্রবেশ করছেন? আপনি কে?’ বললাম, ‘পিএইচডির ছাত্রী।’ বেশ রুক্ষ গলায় তিনি বললেন, ‘আপনি কেন এই ওয়াশরুম ব্যবহার করবেন? আপনি ছাত্র-ছাত্রীদের ওয়াশরুমে যান।’ ছাত্র-ছাত্রীদের ওয়াশরুমে গিয়ে মনটা খুবই খারাপ হয়ে গেল। কারণ সেটি ছিল অত্যন্ত দুর্গন্ধময়। যত্রতত্র টিস্যু পড়ে ছিল। মনে হচ্ছিল, দীর্ঘদিন ধরে এই শৌচাগার পরিষ্কার করা হয়নি।

গণশৌচাগারের ক্ষেত্রগুলো

গণশৌচাগার বা পাবলিক টয়লেটের মধ্যে রয়েছে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, বাসস্ট্যান্ড, অফিস-আদালত, হাসপাতালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এসব জায়গায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ শৌচাগার ব্যবহার করেন। শৌচাগার বা টয়লেট নোংরা থাকলে বিভিন্ন ধরনের জীবাণু খুব সহজেই ছড়িয়ে পড়তে পারে। কারণ, বদ্ধ ও আর্দ্র জায়গা জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।

নোংরা শৌচাগার থেকে বিভিন্ন ধরনের রোগের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। যেমন- ডায়রিয়া হতে পারে ই-কোলাই ও সালমোনেলার মতো ব্যাকটেরিয়ার কারণে। আমাশয় বা ডিসেন্ট্রি হতে পারে শিগেলা ও জিয়ার্ডিয়ার সংক্রমণে। কলেরার জন্য দায়ী ভিব্রিও কলেরি এবং টাইফয়েডের জন্য দায়ী সালমোনেলা টাইফি। এ ছাড়া স্ক্যাবিস বা খোস-পাঁচড়া, দাদ বা রিংওয়ার্ম, ফোঁড়া ও ত্বকের বিভিন্ন সংক্রমণ হতে পারে। গোলকৃমি, ফিতাকৃমি ও জিয়ার্ডিয়ার মতো পরজীবীর সংক্রমণও নোংরা শৌচাগারের মাধ্যমে ছড়াতে পারে।

ভাইরাসজনিত রোগের মধ্যে হেপাটাইটিস এ এবং নোরোভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে। নোরোভাইরাসের কারণে বমি ও ডায়রিয়া হতে পারে। এ ছাড়া ইউরিন ইনফেকশন বা ইউটিআই, চোখের কনজাংটিভাইটিস এবং দুর্গন্ধ ও ছত্রাকের কারণে শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

কেন জীবাণু দ্রুত ছড়ায়

নোংরা কমোড, ফ্লোর, দরজার হাতল, ট্যাপসহ বিভিন্ন জায়গায় জীবাণু লেগে থাকতে পারে। সেখান থেকে হাতে জীবাণু চলে আসে এবং পরে খাবার বা মুখের সংস্পর্শে গিয়ে শরীরে প্রবেশ করতে পারে। তাই শৌচাগার পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি ব্যবহারকারীকেও কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। ব্লিচ বা উপযুক্ত জীবাণুনাশক দিয়ে নিয়মিত কমোড ও ফ্লোর পরিষ্কার করা প্রয়োজন। টয়লেট ব্যবহারের পর অন্তত ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধোয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দরজার হাতল, ট্যাপ ও ফ্লাশ নিয়মিত জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। পাশাপাশি ওয়াশরুম শুকনো রাখা এবং পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করা জরুরি। পাবলিক টয়লেট তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ এখানে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ব্যবহার করেন এবং অনেক সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য পর্যাপ্ত সময় ও ব্যবস্থা থাকে না।

পাবলিক টয়লেট ব্যবহারে সতর্কতা

পাবলিক টয়লেটে প্রবেশের আগে সঙ্গে টিস্যু ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখা ভালো। সিট কভার না থাকলে টিস্যু দিয়ে সিট ঢেকে নেওয়া যেতে পারে। সেটিও সম্ভব না হলে ফ্লাশ করার পর পানি দিয়ে পরিষ্কার করে টিস্যু দিয়ে মুছে নেওয়া যেতে পারে। ভেতরে কোনো কিছু সরাসরি হাত দিয়ে ধরার পরিবর্তে টিস্যু ব্যবহার করা ভালো। দরজা, ফ্লাশ বা ট্যাপ ধরার সময়ও টিস্যু ব্যবহার করা যেতে পারে। মেঝেতে পানি বা ময়লা থাকতে পারে, তাই পা দুটো যতটা সম্ভব দূরে রাখা উচিত।

আরও পড়ুন

স্কুলে যাওয়ার আগে শিশুকে যেভাবে মানসিকভাবে প্রস্তুত করবেন

টয়লেট ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড হাত ধুতে হবে। শুধু পানি দিয়ে হাত ধোয়া যথেষ্ট নয়। হাত ধোয়ার পর টিস্যু ব্যবহার করে ট্যাপ বন্ধ করা যেতে পারে। সঙ্গে একটি ছোট হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখাও উপকারী। গবেষণায় পাবলিক টয়লেটের যেসব জায়গায় তুলনামূলক বেশি জীবাণু থাকতে পারে, তার মধ্যে ফ্লাশের বোতাম, দরজার হাতল, ট্যাপ ও সিট অন্যতম। তাই এসব জায়গায় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

বাসস্ট্যান্ডের টয়লেট

বাসস্ট্যান্ডের টয়লেট আরও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এসব টয়লেট ব্যবহার করলেও অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বা পানির ব্যবস্থা থাকে না। ফলে ডায়রিয়া, আমাশয় ও কলেরার মতো পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ে। এ ছাড়া অপরিষ্কার হাতের মাধ্যমে হেপাটাইটিস এ ও টাইফয়েডের মতো রোগ ছড়াতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে অপরিষ্কার সিট ও মেঝের কারণে ইউটিআই এবং ছত্রাকজনিত সংক্রমণের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। দেওয়াল বা বেঞ্চে বসার মাধ্যমেও স্ক্যাবিস ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে।

হাসপাতালের টয়লেট

বছর কয়েক আগে হাসপাতালে গিয়েছিলাম। বাবা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। ওয়ার্ডের ওয়াশরুমে গিয়ে দেখি থইথই পানি, তার মধ্যে ময়লা-আবর্জনা ভেসে বেড়াচ্ছে। বেশ খানিকটা হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলাম। হাসপাতালের টয়লেটের বিষয়টি সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের। কারণ এখানে সুস্থ, অসুস্থ এবং বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণে আক্রান্ত রোগীরা একই ধরনের ওয়াশরুম ব্যবহার করেন। ফলে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অন্য অনেক জায়গার তুলনায় বেশি।

হাসপাতালের টয়লেট থেকে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী কিছু জীবাণু ছড়ানোর ঝুঁকি রয়েছে। যেমন- এমআরএসএ ত্বকের সংক্রমণ ঘটাতে পারে। সি. ডিফের কারণে তীব্র ডায়রিয়া ও পেটব্যথা হতে পারে। ক্লেবসিয়েলা ও সিউডোমোনাসের মতো জীবাণু নিউমোনিয়া ও ইউটিআইয়ের মতো সংক্রমণের কারণ হতে পারে। এ ছাড়া ডায়রিয়া, আমাশয়, কলেরা, নোরোভাইরাসজনিত বমি ও ডায়রিয়া, হেপাটাইটিস এ ও বি, ছত্রাকজনিত সংক্রমণ, স্ক্যাবিস এবং ইউটিআইয়ের মতো সমস্যার ঝুঁকিও থাকে। বিশেষ করে ক্যাথেটার ব্যবহারকারী রোগীদের ক্ষেত্রে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

হাসপাতালের টয়লেট বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার কয়েকটি কারণ রয়েছে। রোগীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি কম থাকায় অল্প পরিমাণ জীবাণুতেও তারা অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। আবার ফ্লাশ করার সময় জীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে। পাশাপাশি হাসপাতালের টয়লেট ২৪ ঘণ্টা ব্যবহৃত হয়। ফলে নিয়মিত ও পর্যাপ্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা না থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়।

হাসপাতালের টয়লেট ব্যবহারের নিরাপদ নিয়ম

হাসপাতালের টয়লেটে প্রবেশের আগে মাস্ক ও স্যান্ডেল ব্যবহার করা ভালো। সঙ্গে টিস্যু, স্যানিটাইজার ও প্রয়োজনীয় ওয়াইপস রাখা যেতে পারে। সম্ভব হলে কমোডের সিটে সরাসরি না বসে সতর্কভাবে ব্যবহার করা উচিত। বাধ্য হয়ে বসতে হলে কয়েক স্তর টিস্যু ব্যবহার করা যেতে পারে। ফ্লাশ করার সময় কমোডের ঢাকনা নামিয়ে দেওয়া ভালো। কারণ ফ্লাশের সময় জীবাণুযুক্ত কণা বাতাসে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

আরও পড়ুন

শিশুর লেখাপড়ার হাতেখড়িতে মায়ের করণীয়

দরজা, ফ্লাশ ও ট্যাপ সরাসরি হাত দিয়ে না ধরে টিস্যু ব্যবহার করা ভালো। টয়লেট থেকে বের হওয়ার পর ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড সাবান ও পানি দিয়ে হাত ভালোভাবে ধুতে হবে। নখ, কনুই ও আঙুলের ফাঁকও পরিষ্কার করতে হবে। শুধু হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।

রোগীদের জন্য বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। সম্ভব হলে রোগীর জন্য আলাদা টয়লেট ব্যবহার করা উচিত এবং কমন টয়লেট এড়িয়ে চলা ভালো। রোগী দুর্বল হলে সঙ্গে গিয়ে সহযোগিতা করতে হবে এবং পরে ভালোভাবে হাত ধুতে হবে। হাসপাতালে যাওয়ার উদ্দেশ্য সুস্থ হওয়া, সঙ্গে সংক্রমণ নিয়ে বাড়ি ফেরা নয়। তাই হাসপাতালের ওয়ার্ডের টয়লেটকে সবচেয়ে সংবেদনশীল জায়গাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধির দিকে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি।

প্রস্রাব চেপে রাখার সমস্যা

অনেকেই অপরিষ্কার পাবলিক টয়লেট ব্যবহারের ভয়ে প্রস্রাব চেপে রাখেন। এর পেছনে আরও কিছু কারণ রয়েছে—ক্লাস বা অফিসে পর্যাপ্ত বিরতি না পাওয়া, মাসিকের সময় টয়লেটে যেতে অস্বস্তি বোধ করা, পর্যাপ্ত পানি বা নিরাপদ টয়লেটের অভাব ইত্যাদি। তাই দীর্ঘসময় প্রস্রাব চেপে রাখলে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন বা ইউটিআইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে। মূত্রথলিতে দীর্ঘসময় প্রস্রাব জমে থাকলে ব্যাকটেরিয়া বংশবিস্তারের সুযোগ পেতে পারে। বারবার এমন হলে ব্লাডার ও মূত্রনালির বিভিন্ন সমস্যাও দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

মূত্রথলি ও অন্ত্র পাশাপাশি থাকায় কোষ্ঠকাঠিন্য বা মূত্রথলি অতিরিক্ত পূর্ণ থাকলেও অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে মাসিকের সময় দীর্ঘক্ষণ প্যাড বা ট্যাম্পন পরিবর্তন না করাও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। অত্যন্ত দীর্ঘসময় ট্যাম্পন রেখে দিলে টক্সিক শক সিনড্রোমের মতো বিরল কিন্তু গুরুতর জটিলতাও হতে পারে।

নারীরা কেন প্রস্রাব চেপে রাখেন

পাবলিক টয়লেট নোংরা ও অপরিষ্কার হওয়া, স্কুল-কলেজ বা অফিসে পর্যাপ্ত বিরতি না পাওয়া, মাসিকের সময় টয়লেট ব্যবহারে অস্বস্তি এবং পর্যাপ্ত পানি বা নিরাপদ টয়লেটের অভাব—এসব কারণে অনেক নারী ও কিশোরী প্রস্রাব চেপে রাখেন। কিন্তু প্রস্রাব শরীরের একটি স্বাভাবিক সংকেত। শরীর যখন প্রস্রাবের প্রয়োজনের কথা জানায়; তখন সম্ভব হলে তা আটকে না রেখে টয়লেট ব্যবহার করা উচিত।

তিনটি গোল্ডেন রুল

সুস্থ থাকার জন্য তিনটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। প্রথমত, তিন থেকে চার ঘণ্টার বেশি প্রস্রাব চেপে রাখা উচিত নয়। শরীর যখন প্রস্রাবের সংকেত দেয়, তখন ‘পরে যাব’ বলে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। দ্বিতীয়ত, মাসিকের সময় বাড়তি যত্ন নিতে হবে। প্রতি তিন থেকে চার ঘণ্টা পর প্যাড বা ট্যাম্পন পরিবর্তন করা, নিয়মিত পরিষ্কার হওয়া এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। দিনে পর্যাপ্ত পানি পান করলে প্রস্রাবের মাধ্যমে মূত্রনালি পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে এবং কিছু ক্ষেত্রে সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে পারে।

আরও পড়ুন

মা হওয়ার আগে ও পরে নারীর যেসব যত্ন জরুরি

তৃতীয়ত, টয়লেট ব্যবহারের সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। সঙ্গে টিস্যু ও স্যানিটাইজার রাখা, প্রয়োজন হলে সিটে টিস্যু ব্যবহার করা এবং টয়লেট থেকে বের হওয়ার পর সাবান দিয়ে হাত ধোয়া উচিত। প্রস্রাব আসা শরীরের একটি স্বাভাবিক সংকেত। এটি চেপে রাখা মানে শরীরের প্রয়োজনকে অগ্রাহ্য করা। নোংরা টয়লেটের ভয়ে স্কুল-কলেজের শিশু, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কিংবা কর্মজীবী মানুষের দিনের পর দিন প্রস্রাব চেপে রাখা উচিত নয়। নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পাবলিক টয়লেট নিশ্চিত করা তাই শুধু পরিচ্ছন্নতার বিষয় নয়, জনস্বাস্থ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সমাধান কোথায়

একবার হাসপাতালের যন্ত্রপাতি তৈরির একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কাজের প্রয়োজনে গিয়েছিলাম। সেখানে এক কর্মকর্তা অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলেছিলেন, তার মেয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। মেয়ের অসুস্থতার অন্যতম কারণ হিসেবে তিনি দীর্ঘসময় প্রস্রাব চেপে রাখার কথা উল্লেখ করেছিলেন। শিশুদের ক্ষেত্রেও এ ধরনের ঘটনা প্রায়ই ঘটে। নোংরা বা অনিরাপদ টয়লেটের কারণে তারা প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও টয়লেট ব্যবহার করতে চায় না। দীর্ঘমেয়াদে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

ওয়াশরুম বা শৌচাগার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা করায় অনেকেই হয়তো হাস্যরস করেছেন, নানা কথা বলেছেন। কিন্তু আমি মনে করি, এটি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা। আমরা ‘মনিটরিং’, ‘ব্যবস্থাপনা’ বা ‘পর্যবেক্ষণ’ ব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত। একই ব্যবস্থাপনার আওতায় কয়েকটি ওয়াশরুম বা শৌচাগারের জন্য একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ করা যেতে পারে। তার দায়িত্ব হবে প্রতিবার একজন শিক্ষার্থী বা ব্যবহারকারী টয়লেট থেকে বের হওয়ার পর সেটি মুছে শুকনো রাখা। পাশাপাশি টয়লেটের কোনো অংশ ভেঙে গেলে দ্রুত মেরামত করাও তার দায়িত্বের মধ্যে থাকতে পারে।

এ জন্য পর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিশ্চিত করা জরুরি। সরকারি পর্যায়ে এ ধরনের নিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করা প্রয়োজন। এর ফলে অনেক শিশু ও শিক্ষার্থীর জন্য নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। একজন শিক্ষার্থী যদি সামান্য অতিরিক্ত ফি দিয়েও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর বেতন নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে সেই ব্যবস্থা করা অসম্ভব নয়। কারণ যে কোনো পাবলিক টয়লেটের ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতার বিকল্প নেই।

পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ শৌচাগার কোনো বিলাসিতা নয়; এটি মানুষের মৌলিক স্বাস্থ্য ও মর্যাদার সঙ্গে যুক্ত একটি বিষয়। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, বাসস্ট্যান্ড, অফিস, আদালত কিংবা হাসপাতাল—সব জায়গাতেই স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যবহারকারীদেরও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। একটি পরিচ্ছন্ন টয়লেট শুধু দুর্গন্ধমুক্ত পরিবেশ তৈরি করে না, বরং অসংখ্য মানুষকে বিভিন্ন সংক্রমণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে পারে। তাই গণশৌচাগারের অব্যবস্থাপনা দূর করা এখন সময়ের দাবি।

লেখক: কথাসাহিত্যিক ও গবেষক।

এসইউ

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ

ভারতের তরুণ নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টি শুক্রবার দেশজুড়ে নতুন করে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেছে। লাখ লাখ নাগরিকের ভোটাধিকার অন্যায়ভাবে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে—এমন ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যেই মুম্বাইতে হাজার হাজার মানুষ এই আন্দোলনে শামিল হয়েছেন বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।

News অক্টোবর ২, ২০২৬ 0
‘আমি এহন কার মুখ দেইখা বাঁচুম’

‘আমি এহন কার মুখ দেইখা বাঁচুম’

কলকাতার হস্তশিল্প মেলায় চাহিদার শীর্ষে বাংলাদেশের লুঙ্গি, গামছা

কলকাতার হস্তশিল্প মেলায় চাহিদার শীর্ষে বাংলাদেশের লুঙ্গি, গামছা

অপশক্তি মোকাবিলায় বিএনপি প্রস্তুত: হাবিব

অপশক্তি মোকাবিলায় বিএনপি প্রস্তুত: হাবিব

পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকার দাবি
পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকার দাবি

পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে গাজীপুরে শ্রমিক সমাবেশ করা হয়েছে। আগামী ১ ডিসেম্বরের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে সারা দেশে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।

News অক্টোবর ২, ২০২৬ 0
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর

মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর

মা, মেয়ে ও নাতিকে নিয়ে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন মোফাজ্জল, ফিরলেন লাশ হয়ে

মা, মেয়ে ও নাতিকে নিয়ে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন মোফাজ্জল, ফিরলেন লাশ হয়ে

১০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়তে সম্মত হয়েছে জি-৭

১০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়তে সম্মত হয়েছে জি-৭

মারা গেছেন বিডিনিউজের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী
মারা গেছেন বিডিনিউজের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী মারা গেছেন। রাইজিংবিডিকে এ তথ্য জানিয়েছেন বিডিনিউজের লেখক ও সিনিয়র সাংবাদিক আমীন আল রশীদ।

News অক্টোবর ২, ২০২৬ 0
কিশোর অপরাধ দমন: লক্ষ্মীপুরে ৩ দিনে আটক ৫৪৯

কিশোর অপরাধ দমন: লক্ষ্মীপুরে ৩ দিনে আটক ৫৪৯

ছেলে দ্বিতীয় বিয়ে করায় অভিমান, বৃদ্ধের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

ছেলে দ্বিতীয় বিয়ে করায় অভিমান, বৃদ্ধের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

৪ ঘণ্টা পর সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক

৪ ঘণ্টা পর সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক

0 Comments