জাতীয়

‘গলফ অপারেশনের’ কথা বলে দেওয়ায় আলকাছ মাঝিকে শেষ করে দিতে বলেছিলেন জিয়াউল আহসান

News সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ 0
‘গলফ অপারেশনের’ কথা বলে দেওয়ায় আলকাছ মাঝিকে শেষ করে দিতে বলেছিলেন জিয়াউল আহসান
‘গলফ অপারেশনের’ কথা বলে দেওয়ায় আলকাছ মাঝিকে শেষ করে দিতে বলেছিলেন জিয়াউল আহসান

‘গলফ অপারেশন’-এর কথা ‘বলে বেড়ানোয়’ আলকাছ মাঝিকে এলিমিনেট বা হত্যা করতে বলেছিলেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান—আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দিতে এ কথা বলেছেন মেজর (অব.) সাব্বির রহমান ওসমানী। জবানবন্দিতে সাব্বির রহমান বলেন, অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে তিনি জিয়াউলের নির্দেশে আলকাছকে ‘এলিমিনেট’ (হত্যা) করতে রাজি হননি। তবে এর সপ্তাহখানেকের মাথায় জানতে পারেন, আলকাছ মাঝিকে খুঁজে পাচ্ছে না তাঁর পরিবার।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ বৃহস্পতিবার জবানবন্দিতে মেজর (অব.) মো. সাব্বির রহমান ওসমানী এ কথা বলেন। বিগত সরকারের সময় শতাধিক ব্যক্তিকে গুম ও হত্যার ঘটনায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এদিন তিনি ১৩তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন।

২০০৯ সালের অক্টোবরে সাব্বির রহমান র‍্যাব-৮ বরিশালে উপ–অধিনায়ক হিসেবে যোগ দেন। তখন র‍্যাবের মহাপরিচালক ছিলেন হাসান মাহমুদ খন্দকার এবং গোয়েন্দা শাখার পরিচালক ছিলেন তৎকালীন লে. কর্নেল জিয়াউল আহসান। ২০১৩ সাল পর্যন্ত সাব্বির র‍্যাবে দায়িত্ব পালন করেন। উল্লেখ্য, কোনো ব্যক্তিকে হত্যার পর পেট কেটে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে বা সাগরে ফেলে দিয়ে লাশ গুম করাকে ‘গলফ অপারেশন’ বলা হতো।

জবানবন্দিতে মেজর (অব.) সাব্বির রহমান ওসমানী বলেন, ২০১১ সালের জুন মাসে জিয়াউল আহসান তাঁকে ফোন করেন। ফোনে ‘গলফ কাজে’ নিয়োগপ্রাপ্ত মাঝিদের অন্যতম আলকাছ মাঝির বিষয়ে তাঁর কাছে জানতে চান। উত্তরে তিনি জানান, এই মাঝির ব্যাপারে তাঁর কিছু জানা নেই। এতে জিয়াউল আহসান কিছুটা বিরক্ত হয়ে বলেন, ‘আলকাছ মাঝি গলফ অপারেশনসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য চরদুয়ানী বাজারে বলে বেড়াচ্ছে, যা র‍্যাবের জন্য নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করেছে।’ এ কথা বলে জিয়াউল আলকাছ মাঝিকে ‘এলিমিনেট’ করার নির্দেশ দেন।

বিষয়টি শোনার পর শারীরিক অসুস্থতার অজুহাত দিয়ে এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেতে তিনি অনুনয়-বিনয় করতে থাকেন বলে জানান সাব্বির রহমান। একপর্যায়ে জিয়াউল বলেন, ‘থাক, লাগবে না।’ পরে ঘটনাটি তিনি নিজের অধিনায়ককে জানান।

জিয়াউল গলফ অপারেশন পরিচালনার সময় যেসব মাঝি নৌকা বা ট্রলার চালাতেন, তাঁদের মধ্যে আলকাছ অন্যতম ছিলেন উল্লেখ করে সাব্বির রহমান বলেন, জিয়াউলের সঙ্গে যে কয়েকবার তিনি অভিযানে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন, অধিকাংশ সময় আলকাছকেই মাঝি হিসেবে দেখেছিলেন। এর সপ্তাহখানেক পর হঠাৎ অধিনায়ক তাঁকে অফিসে ডেকে পাঠান। সেখানে যাওয়ার পর অধিনায়কের সামনে বসা ব্যক্তিদের আলকাছের পরিবার বলে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। সে সময় আলকাছের স্ত্রী জানান, চার-পাঁচ দিন আগে আলকাছকে ফোন করে ডেকে নিয়ে গেছেন জিয়াউল। এর পর থেকেই তাঁর আর কোনো সন্ধান মিলছে না।

‘বিডিআর সদস্যসহ একে একে চারজনকে হত্যা’

জবানবন্দিতে সাব্বির রহমান বলেন, ২০১০ সালের মে মাসের এক সন্ধ্যায় খবর পান জিয়াউল আহসান বরিশাল আসছেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই জিয়াউল তাঁর সরকারি গাড়ি ও দুটি মাইক্রোবাস নিয়ে ব্যাটালিয়ন সদরে উপস্থিত হন। আধা ঘণ্টা পর অধিনায়ক ও জিয়াউল অফিস থেকে বের হয়ে গাড়ির কাছে আসেন এবং সাব্বিরকে সঙ্গে যেতে বলেন। সাব্বির জিয়াউলের গাড়ির পেছনে বসেন। ওই গাড়িতে জিয়াউলের সঙ্গে অধিনায়কও ছিলেন। ব্যাটালিয়ন সদর থেকে তাঁদের গাড়ির পেছনে ঢাকা থেকে আসা র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখার মাইক্রোবাস দুটিও চলতে থাকে। প্রায় দুই ঘণ্টা চলার পর তাঁরা চরদুয়ানী ঘাটে পৌঁছান। সেখানে আগে থেকেই প্রস্তুত একটি মাছ ধরার ট্রলার দেখতে পান।

র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা মাইক্রোবাস থেকে নেমে ট্রলারে ওঠেন উল্লেখ করে জবানবন্দিতে সাব্বির রহমান বলেন, র‍্যাব সদস্যদের সঙ্গে চারজন ব্যক্তিকে মাথায় কালো টুপি পরা ও হাত পেছনে বাঁধা অবস্থায় ট্রলারে উঠতে দেখেন তিনি। এই চারজনকে ট্রলারের মাছ রাখার খোলে ঢোকানো হয়। এরপর জিয়াউল, অধিনায়ক ও সাব্বিরও ট্রলারে ওঠেন।

জিয়াউল আহসান ট্রলারটিকে মোহনার দিকে নিয়ে যেতে বলেন উল্লেখ করে সাব্বির রহমান বলেন, সেদিন আবহাওয়া প্রতিকূল ছিল। প্রায় দেড় ঘণ্টা চলার পর সামনে এগোনো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠলে বিষয়টি জিয়াউলকে জানানো হয়। তখন জিয়াউল তাঁকে পানির গভীরতা মাপার নির্দেশ দেন। সুকানির সহকারীকেও ট্রলারের সামনে গিয়ে পানির গভীরতা মাপতে বলেন। তাঁরা কয়েকবার পানির গভীরতা জানানোর পর জিয়াউল গতি কমিয়ে দিতে বলেন।

এরপর জিয়াউলের ইশারায় র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা খোল থেকে প্রথম ব্যক্তিকে হাত বাঁধা ও মুখ ঢাকা অবস্থায় পাটাতনে তুলে আনেন। তাঁর গলা ও পায়ে দুটি সিমেন্টভর্তি বস্তা বাঁধা হয়। এরপর র‍্যাবের এক সদস্য মাথায় কুশন ঠেকিয়ে পিস্তল দিয়ে একটি গুলি করেন। পরে অন্য এক সদস্য নাভি বরাবর পেট কেটে ফেলেন এবং পেটের ভেতর হাত ঢুকিয়ে কাটার সঠিকতা নিশ্চিত করেন।

জিয়াউল তখন সুকানিকে ইঞ্জিনের শব্দ বাড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন উল্লেখ করে সাব্বির রহমান বলেন, এরপর আবার পানির গভীরতা মাপা হয়। গভীরতা জানানোর পর জিয়াউল ইশারা করলে র‍্যাব সদস্যরা গুলিবিদ্ধ দেহটি সিমেন্টের বস্তাসহ পানিতে ফেলে দেন। একই প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় ব্যক্তিকেও হত্যা করে পানিতে ফেলা হয়।
চতুর্থ ব্যক্তিকে ট্রলারের খোল থেকে বের করার সময় বেশ বেগ পেতে হয়েছিল উল্লেখ করে সাব্বির বলেন, বাইরে আনা হলে আগের তিনজনের তুলনায় তাঁকে বেশ সুঠামদেহী বলে মনে হয়। তাঁকেও একইভাবে হত্যা করে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়।

এ ঘটনার দু-তিন দিন পর সাব্বির গোয়েন্দা সূত্রে জানতে পারেন, শরণখোলা রেঞ্জের বলেশ্বর নদে মুখ ঢাকা, পেট কাটা ও শরীরে সিমেন্টের বস্তা বাঁধা অবস্থায় একটি মরদেহ ভেসে উঠেছে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি অধিনায়ককে জানান।

অধিনায়ক বিষয়টি জিয়াউলকে জানাতে বললে তিনি জিয়াউলকে জানান। এর দু-তিন মাস পর গোয়েন্দা তথ্যে জানা যায়, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে মরদেহটি বিডিআরের সাবেক সদস্য নজরুলের বলে শনাক্ত হয়েছে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
ফাঁদে পাখি, বিপন্ন প্রকৃতি
ফাঁদে পাখি, বিপন্ন প্রকৃতি

সিরাজগঞ্জের চলনবিল পাখিদের জন্য এক অনিরাপদ স্থানে পরিণত হয়েছে। এই বিলের ধানক্ষেত ও জলাশয়ের আশপাশে লতাপাতা দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে বিশেষ ফাঁদ।

News অক্টোবর ৪, ২০২৬ 0
চাঁপাইনবাবগঞ্জে সৎ ছেলের ছুরিকাঘাতে নারীর মৃত্যু 

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সৎ ছেলের ছুরিকাঘাতে নারীর মৃত্যু 

ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা প্রায় ছেড়েই দিয়েছে: ট্রাম্প

ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা প্রায় ছেড়েই দিয়েছে: ট্রাম্প

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির সম্ভাবনা

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির সম্ভাবনা

চেকপোস্টে দায়িত্ব পালনকালে ট্রাকের ধাক্কা, এসআরবি কর্মকর্তার মৃত্যু
চেকপোস্টে দায়িত্ব পালনকালে ট্রাকের ধাক্কা, এসআরবি কর্মকর্তার মৃত্যু

ফেনীতে মহাসড়কে চেকপোস্টে দায়িত্ব পালনকালে ট্রাকের ধাক্কায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) মো. আলমগীর হোসেন (৫৫) নিহত হয়েছেন।

News অক্টোবর ৪, ২০২৬ 0
সেতু আছে, পথ হলো না

সেতু আছে, পথ হলো না

টঙ্গীতে ঝুটের গুদামে আগুন, ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি

টঙ্গীতে ঝুটের গুদামে আগুন, ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি

ঘুষ না দেওয়ায় বিএনপি কর্মীকে আ.লীগ নেতা বানিয়ে গ্রেপ্তারের অভিযোগ

ঘুষ না দেওয়ায় বিএনপি কর্মীকে আ.লীগ নেতা বানিয়ে গ্রেপ্তারের অভিযোগ

বিএনপি আমার সঙ্গে মুনাফেকি করছে: মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব
বিএনপি আমার সঙ্গে মুনাফেকি করছে: মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির বিরুদ্ধে ‘মুনাফেকির’ অভিযোগ তুলেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহ-সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব।

News অক্টোবর ৩, ২০২৬ 0
জামায়াত এনসিপি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে টার্গেট করেছে: রাশেদ খান 

জামায়াত এনসিপি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে টার্গেট করেছে: রাশেদ খান 

বাগেরহাটে দুই মোটরসাইকেল ও নসিমনের ত্রিমুখী সংঘর্ষে তিনজন নিহত

বাগেরহাটে দুই মোটরসাইকেল ও নসিমনের ত্রিমুখী সংঘর্ষে তিনজন নিহত

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে রেকর্ড ১৩২১ মেগাওয়াট উৎপাদন, যুক্ত হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে 

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে রেকর্ড ১৩২১ মেগাওয়াট উৎপাদন, যুক্ত হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে 

0 Comments