জারা হাসান
একসময় নতুন কারো সঙ্গে পরিচয়ের জন্য বন্ধু বা পরিচিতজনই ছিলেন সবচেয়ে স্বাভাবিক মাধ্যম। সময় বদলেছে, হাতে এসেছে স্মার্টফোন, আর পরিচয়ের বড় একটি জায়গা দখল করেছে ডেটিং অ্যাপ। ছবি দেখে পছন্দ, পছন্দ হলে কথোপকথন, তারপর দেখা করার সিদ্ধান্ত। সবকিছুই যেন কয়েকটি ক্লিকেই হয়ে যাচ্ছে।
কিন্তু এই সহজতার মধ্যেই অনেকের মনে তৈরি হয়েছে এক ধরনের ক্লান্তি। অসংখ্য প্রোফাইল দেখা, বারবার একই ধরনের কথোপকথন, হঠাৎ যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা কারো উদ্দেশ্য সম্পর্কে অনিশ্চয়তা অনেককেই আবার বাস্তব জীবনের পরিচয়ের দিকে ফিরিয়ে নিচ্ছে। এই পরিবর্তনেরই নতুন উদাহরণ ‘পিচ-এ-ফ্রেন্ড’।
নামটি যেমন মজার, আয়োজনটিও তেমনই সামাজিক। এখানে কেউ নিজের জন্য সম্ভাব্য সঙ্গী খুঁজতে একা মঞ্চে দাঁড়ান না। বরং তার কোনো বন্ধু মঞ্চে উঠে কয়েক মিনিটের একটি ছোট উপস্থাপনার মাধ্যমে তাকে অন্যদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।
বন্ধুটি বলতে পারেন, মানুষটি কেমন স্বভাবের, কী করতে ভালোবাসেন, তার রসবোধ কেমন, কোন বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেন কিংবা কেন তাকে জানার মতো একজন মানুষ মনে হতে পারে। সাধারণত তিন থেকে পাঁচ মিনিটের এমন উপস্থাপনার পর উপস্থিত সবাই নিজেদের মধ্যে কথা বলার সুযোগ পান।
প্রচলিত পরিচয়পর্বের অনুষ্ঠান বা সরাসরি কাউকে পছন্দ করার আয়োজনের সঙ্গে এর পার্থক্য এখানেই। একজন মানুষ নিজের সম্পর্কে কী লিখেছেন বা অনলাইনে কেমন ছবি দিয়েছেন, তার বদলে এখানে প্রথম পরিচয়ের বড় অংশটি আসে কাছের বন্ধুর চোখ দিয়ে। ফলে ব্যক্তিত্ব, ব্যবহার, রসবোধ, মূল্যবোধ কিংবা নির্ভরযোগ্যতার মতো বিষয় সামনে আসার সুযোগ থাকে। হাসি-ঠাট্টা, গল্প আর বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশও পুরো বিষয়টিকে তুলনামূলক স্বাভাবিক করে তোলে।
যুক্তরাষ্ট্রে এই ধরনের ‘পিচ-এ-ফ্রেন্ড’ আয়োজন এরই মধ্যে বেশ কিছু জায়গায় জনপ্রিয় হয়েছে। দ্য নিউজ অ্যান্ড অবজারভারের একটি প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের অনুষ্ঠান ৩০টির বেশি অঙ্গরাজ্যের ৫০টিরও বেশি শহর এবং বিশ্বের ১০টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক আয়োজন হচ্ছে বার বা সামাজিক আড্ডার জায়গায়। বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে আসা এবং সম্ভাব্য পরিচিত ব্যক্তির সম্পর্কে আগে কিছুটা জানার সুযোগ থাকায় অংশগ্রহণকারীদের ওপর সরাসরি পরিচয়ের চাপও কমতে পারে বলে মনে করছেন এর সমর্থকেরা।
এই প্রবণতার পেছনে ডেটিং অ্যাপ নিয়ে মানুষের বাড়তে থাকা বিরক্তিও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪ সালের যুক্তরাজ্যের যোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকমের একটি প্রতিবেদনের তথ্য দ্য গার্ডিয়ান উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, সবচেয়ে জনপ্রিয় ১০টি ডেটিং অ্যাপের ব্যবহারকারী সংখ্যা এক বছরে ১৬ শতাংশ কমেছে। এই পরিসংখ্যান অবশ্য ডেটিং অ্যাপের যুগ শেষ হয়ে যাচ্ছে, এমন কোনো সিদ্ধান্ত দেয় না। তবে মানুষের একটি অংশ যে অনলাইন পরিচয়ের বাইরে আরও স্বাভাবিক, সরাসরি ও অর্থবহ সামাজিক যোগাযোগ খুঁজছে, তা এই পরিবর্তন থেকে বোঝা যায়।
মনোবিশেষজ্ঞ ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত পুনর্বাসন পরামর্শক সোনাল খাঙ্গারোটের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে ডেটিং অ্যাপে একই ধরনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে যেতে অনেকের কাছে বিষয়টি একঘেয়ে এবং মানসিকভাবে ক্লান্তিকর হয়ে উঠতে পারে। বারবার ‘সোয়াইপ’ করা, এমন কথোপকথনে সময় দেওয়া যার কোনো পরিণতি হয় না, হঠাৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া এবং নিজের একটি নিখুঁত ছবি তুলে ধরার চাপ এই ক্লান্তিকে আরও বাড়ায়। দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের ক্ষেত্রে এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে পরিবার ও সামাজিক প্রত্যাশা, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং অন্য ব্যক্তি আদৌ দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক চান কি না, সেই অনিশ্চয়তাও।
এই জায়গায় বন্ধুর মাধ্যমে পরিচয় কিছুটা ভিন্ন অভিজ্ঞতা তৈরি করতে পারে। একজন পরিচিত বন্ধু যখন কাউকে সামনে আনেন, তখন সেখানে প্রাথমিকভাবে একটি সামাজিক আস্থা কাজ করে। একই সঙ্গে দলগত পরিবেশে দেখা হওয়ায় একান্তভাবে মুখোমুখি হওয়ার চাপও কম থাকে। ফলে ছবি বা কয়েক লাইনের পরিচিতির বদলে একজন মানুষের কথা বলার ধরন, রসবোধ, আচরণ, আত্মবিশ্বাস এবং অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগের স্বাভাবিক ধরন কিছুটা বোঝার সুযোগ তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞের মতে, এসব গুণ অনলাইনের ছবি ও পরিচিতি দেখে বিচার করা তুলনামূলক কঠিন।
তবে বন্ধুর সুপারিশ মানেই যে পরিচয়টি সফল হবে, এমন নয়। বরং এর কিছু সমস্যাও থাকতে পারে। বন্ধু যদি কাউকে অতিরিক্ত প্রশংসা করে উপস্থাপন করেন, তাহলে অপর পক্ষের মনে এমন একটি প্রত্যাশা তৈরি হতে পারে, যার সঙ্গে বাস্তব মানুষটির মিল নাও থাকতে পারে। আবার পরিচয়টি ভালোভাবে এগোতে না পারলে বন্ধুটিও অস্বস্তিতে পড়তে পারেন। একই সামাজিক পরিসরের মানুষ হওয়ায় কেউ কেউ নিজের প্রকৃত অনুভূতি প্রকাশ করতেও দ্বিধা করতে পারেন, যাতে বন্ধুত্ব বা পরিচিতির পরিবেশ অস্বস্তিকর না হয়ে ওঠে।
তাই এ ধরনের আয়োজনকে কোনো ‘সম্পর্কের পরীক্ষা’ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। মনোবিশেষজ্ঞ সোনাল খাঙ্গারোটের দৃষ্টিতে, এটি মূলত কথোপকথনের দরজা খুলে দেওয়ার একটি পদ্ধতি। শেষ পর্যন্ত একটি সুস্থ সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি হয় খোলামেলা যোগাযোগ, পারস্পরিক সম্মান, মূল্যবোধের সামঞ্জস্য এবং সময় নিয়ে একে অপরকে বোঝার মধ্য দিয়ে। কোনো বন্ধু কাউকে পরিচয় করিয়ে দিতে পারেন, কিন্তু সম্পর্কটি কোন দিকে যাবে, তা নির্ধারণ করতে পারেন না।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এমন একটি সামাজিক আয়োজনের মূল্য শুধু সম্ভাব্য সম্পর্ক তৈরিতে সীমাবদ্ধ নয়। কেউ হয়তো সেখানে গিয়ে কোনো নতুন সম্পর্কের সন্ধান পেলেন না, কিন্তু নতুন বন্ধু পেলেন। কারো সঙ্গে পেশাগত যোগাযোগ তৈরি হলো, আবার কেউ হয়তো বুঝতে পারলেন যে তার মতো অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে আরও অনেক মানুষ যাচ্ছেন। অর্থাৎ প্রত্যাশিত ফল না এলেও সামাজিকভাবে মানুষের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার অভিজ্ঞতাটি অর্থবহ হতে পারে।
সরাসরি মানুষের সঙ্গে সময় কাটানোর মানসিক উপকারের কথাও উল্লেখ করেছেন সোনাল খাঙ্গারোট। তার মতে, সামনাসামনি সামাজিক যোগাযোগ মানুষের মধ্যে সংযুক্তির অনুভূতি বাড়াতে, একাকিত্ব কমাতে, মন ভালো রাখতে এবং সামাজিক সহায়তার পরিধি শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখতে পারে। অবশ্য একটি অনুষ্ঠান একাই কারো একাকিত্ব দূর করে দিতে পারে না। তবে একই আগ্রহ বা অভিজ্ঞতার মানুষদের নিয়ে গড়ে ওঠা সামাজিক পরিসরে নিয়মিত অংশ নেওয়া আরও পরিপূর্ণ সামাজিক সম্পর্ক তৈরিতে সহায়ক হতে পারে।
বাংলাদেশেও বন্ধুর মাধ্যমে পরিচয়ের ধারণাটি একেবারে অচেনা নয়। আমাদের সামাজিক বাস্তবতায় বন্ধু, সহপাঠী, সহকর্মী কিংবা পারিবারিক পরিচিতদের মাধ্যমে নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ বরাবরই ছিল। পার্থক্য হলো, এখন সেই পুরোনো সামাজিক ধারণাই নতুন প্রজন্মের কাছে নতুন বিন্যাসে ফিরে আসছে। প্রযুক্তি পরিচয়ের পরিসর বড় করেছে ঠিকই, কিন্তু কাউকে সত্যিকার অর্থে জানার জন্য এখনো কথোপকথন, সময় এবং সরাসরি মানুষের উপস্থিতির প্রয়োজন হয়।
সম্ভবত ‘পিচ-এ-ফ্রেন্ড’ প্রবণতার আসল আকর্ষণ এখানেই। এটি প্রযুক্তির বিপরীতে প্রযুক্তিবিরোধী কোনো ঘোষণা নয়। বরং ডিজিটাল পরিচয়ের পাশাপাশি মানুষ আবার এমন সামাজিক পরিসর খুঁজছে, যেখানে একজন মানুষকে শুধু একটি ছবি, কয়েকটি বাক্য কিংবা একটি অনলাইন প্রোফাইল দিয়ে বিচার করতে হয় না। পরিচয়ের শুরুটা যদি হয় একটু বেশি স্বাভাবিক, মানবিক এবং সামাজিক, তাহলে সম্পর্কটি শেষ পর্যন্ত কোথায় পৌঁছাবে তা না জানলেও অন্তত প্রথম কথোপকথনটি হতে পারে কিছুটা সহজ ও অর্থবহ।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
কেএসকে
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ১ হাজার ৪০ শিশু। একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ১০৪ শিশু।
উচ্চশিক্ষায় কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’ ২০১৯, ২০২০ ও ২০২১-এর জন্য খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ১২ শিক্ষার্থী মনোনীত হয়েছেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে শিক্ষা ব্যবস্থাকে চরমভাবে ধ্বংস করা হয়েছিল।