লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম দেশ ব্রাজিল সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম উত্তপ্ত ও মেরুকৃত এক রাজনৈতিক লড়াই প্রত্যক্ষ করছে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুই ইনাসিও লুলা দা সিলভা এবং ডানপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী, সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারোর মধ্যকার নির্বাচনী প্রতিযোগিতা দিন দিন তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে।
যদিও অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা ও ঘরোয়া নানা সংকট ব্রাজিলীয় ভোটারদের মূল চিন্তার বিষয়, তবুও ব্রাসিলিয়া থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি সংবেদনশীল ভূরাজনৈতিক ইস্যু আচমকাই এই নির্বাচনের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। ইস্যুটি হলো ফিলিস্তিন।
সর্বশেষ ডেটাফোলহা জরিপ অনুযায়ী, ব্রাজিলজুড়ে এখন হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। প্রথম দফায় ওয়ার্কার্স পার্টির (পিটি) প্রার্থী লুলার ঝুলিতে ৩৯ শতাংশ ভোট যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে লিবারেল পার্টির (পিএল) প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো ৩৫ শতাংশ সমর্থন নিয়ে খুব বেশি পিছিয়ে নেই।
লুলা ও ফ্লাভিও বলসোনারোর এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন পুরো লাতিন আমেরিকার রাজনৈতিক মানচিত্র এক আমূল পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আর্জেন্টিনা থেকে শুরু করে চিলি কিংবা কলম্বিয়া—সমগ্র অঞ্চলে ডানপন্থার এক শক্তিশালী পুনরুত্থান ঘটেছে।
জাভিয়ের মিলেইয়ের আর্জেন্টিনা, হোসে অ্যান্টোনিও কাস্টের চিলি এবং কলম্বিয়ায় ডানপন্থী সরকারের উত্থানের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের মিত্র নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত ও গ্রেপ্তার হওয়ার পর ভেনেজুয়েলাও এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
অঞ্চলের এই দ্রুত পরিবর্তনশীল ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ব্রাজিলের এই সাধারণ নির্বাচন কেবল দেশের সর্বোচ্চ পদে কে বসবেন, সেই প্রশ্নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং ব্যালট বাক্স থেকে ব্রাজিলের কোন রূপটি বেরিয়ে আসবে এবং অঞ্চলটির এই গভীর পরিবর্তনশীল ভারসাম্যে ব্রাজিল বিশ্বমঞ্চে নিজেকে কীভাবে অবস্থান করাবে—এ নির্বাচন তা-ও নির্ধারণ করবে।
আর এই বহুমাত্রিক রাজনৈতিক লড়াইয়ে ফিলিস্তিন, বিশেষ করে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন ও রক্ষার প্রশ্নটি—দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক শিবিরের মধ্যে এক সুস্পষ্ট বিভাজনরেখা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
ডানপন্থী ফ্লাভিও বলসোনারো তাঁর অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট করেছেন। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, নির্বাচিত হলে ইসরায়েলের সঙ্গে ব্রাজিলের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক বহুগুণ শক্তিশালী করবেন এবং ২০২৭ সাল থেকেই তেল আবিব থেকে ব্রাজিলের দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরিত করবেন। এর মাধ্যমে তিনি ব্রাসিলিয়াকে পুরোপুরি ইসরায়েলের দিকে ঝুঁকিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ব্রাজিলের এই পরবর্তী নির্বাচন শুধু একজন প্রেসিডেন্ট নির্ধারণ করবে না; এটি এটাও ঠিক করে দেবে যে গ্লোবাল সাউথ বা বৈশ্বিক দক্ষিণের অন্যতম প্রভাবশালী এই দেশ ফিলিস্তিন, ইসরায়েল এবং আন্তর্জাতিক আইন ও বৈশ্বিক জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে কীভাবে কথা বলবে।
অন্যদিকে লুলা দা সিলভা ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার ব্রাজিলীয় নীতি ধরে রেখেছেন। দ্বি–রাষ্ট্র সমাধানের সমর্থনে অবস্থান নিয়ে তিনি গাজায় পরিচালিত ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের কঠোর সমালোচনা করে আসছেন।
উল্লেখ্য, ব্রাজিল ২০১০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয় এবং আজও ১৯৬৭ সালের সীমান্ত অনুসরণে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ব্রাজিলের এই ঐতিহ্যবাহী কূটনৈতিক অবস্থান বহাল রয়েছে।
তাই ফিলিস্তিন ইস্যুটি ব্রাজিলের নির্বাচনে এখন আর কেবল কোনো দূরবর্তী পররাষ্ট্রনীতির বিষয় নয়; ব্রাজিল আন্তর্জাতিক মঞ্চে কেমন ভূমিকা পালন করতে চায়, সেই বৃহৎ বিতর্কের অংশ হয়ে উঠেছে এটি। এক দিকে রয়েছে স্বাধীনতা, বহুপক্ষীয়বাদ এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা ব্রাজিলের দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক কূটনৈতিক ঐতিহ্য।
অন্য দিকে রয়েছে উগ্র ডানপন্থী দৃষ্টিভঙ্গি, যা ব্রাজিলকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অক্ষের কাছাকাছি নিয়ে যাবে এবং কয়েক দশক ধরে ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রককে পরিচালিত করা মৌলিক নীতিগুলোকে পুনর্গঠন করবে।
আয়তন ও জনসংখ্যা উভয় দিক থেকেই লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম দেশ ব্রাজিলের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত সীমান্ত ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ব্রাজিলের এই পরবর্তী নির্বাচন শুধু একজন প্রেসিডেন্ট নির্ধারণ করবে না; এটি এটাও ঠিক করে দেবে যে গ্লোবাল সাউথ বা বৈশ্বিক দক্ষিণের অন্যতম প্রভাবশালী এই দেশ ফিলিস্তিন, ইসরায়েল এবং আন্তর্জাতিক আইন ও বৈশ্বিক জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে কীভাবে কথা বলবে।

এই দুই অবস্থানের মধ্যকার ব্যবধানটা বেশ স্পষ্ট। লুলা জয়ী হলে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্র ও বহুপক্ষীয় কূটনীতির নীতিতে ব্রাজিল অবিচল থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে; আর ফ্লাভিও বলসোনারোর জয় ব্রাজিলকে সরাসরি ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের স্বার্থের কাছাকাছি নিয়ে আসতে পারে।
মিডল ইস্ট মনিটরকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ব্রাজিলের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রান্সিসকো রেজেক বলেন, ব্রাজিলীয় রাজনৈতিক ডান ও বামপন্থীদের মধ্যকার আদর্শিক দ্বন্দ্বে ফিলিস্তিন প্রশ্নটি এখন ‘সবচেয়ে নাটকীয় ও সংবেদনশীল বিষয়ে’ পরিণত হয়েছে।
তাঁর মতে, এই বিরোধের মূলে রয়েছে ব্রাজিলের নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতির ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের ভবিষ্যৎ।
রেজেকের মতে, ব্রাজিলের বামপন্থী এবং মূলধারার মধ্যপন্থী রাজনৈতিক শক্তিগুলো এখনো এমন একটি কূটনৈতিক ঐতিহ্য বহন করছে যা ‘স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতা ও অনানুগত্যের’ পাশাপাশি ‘আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি পরম শ্রদ্ধার’ ওপর প্রতিষ্ঠিত। এই নীতিগুলো নৈতিকতা ও মানবিকতার সংমিশ্রণে ব্রাজিলের রাজতন্ত্রের যুগ থেকেই দেশটির পররাষ্ট্রনীতিকে পরিচালিত করে আসছে।
রেজেক উল্লেখ করেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোও তাঁর চার বছরের মেয়াদে এই ঐতিহ্যকে পুরোপুরি ছিন্ন করতে পারেননি। এর্নেস্তো আরাউজো যখন ব্রাজিলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন, সেই সময়টিকে ‘একটি চরম লজ্জাজনক অধ্যায়’ হিসেবে বর্ণনা করে রেজেক বলেন, শেষ পর্যন্ত বলসোনারো আরাউজোকে সরিয়ে কার্লোস ফ্রাঙ্কাকে আনেন, যিনি ব্রাজিলের ঐতিহাসিক কূটনীতি ও প্রথার প্রতি অনুগত একজন পেশাদার কূটনীতিক ছিলেন।
রেজেকের এই হুঁশিয়ারি এমন এক সময়ে এল, যখন ওয়াশিংটন পুরো লাতিন আমেরিকায় তাদের প্রভাব পুনর্দখল করতে চাইছে এবং আর্জেন্টিনার জাভিয়ের মিলেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান আঞ্চলিক মিত্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
ব্রাজিলে ফ্লাভিও বলসোনারো তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় এমন একটি পররাষ্ট্রনীতির ওপর জোর দিচ্ছেন যা ব্রাসিলিয়াকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উভয়েরই অতি ঘনিষ্ঠ করবে, যা লুলার গ্লোবাল সাউথমুখী ও বহুপক্ষীয় নীতির ঠিক বিপরীত।
রেজেকের মতে, এই আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিবর্তন ব্রাজিলের নির্বাচনী বিতর্কে ফিলিস্তিনকে এত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। এই ইস্যু এখন একটি পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে—ব্রাজিল কি তার ঐতিহ্যগত কূটনৈতিক স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখবে, নাকি আমেরিকান ও ইসরায়েলি অক্ষের দিকে পুরোপুরি হেলে পড়বে?
ব্রাজিলের কট্টর ডানপন্থীদের পররাষ্ট্রনীতির তীব্র সমালোচনা করে রেজেক বলেন, এই রাজনৈতিক গোষ্ঠী আন্তর্জাতিক দৃশ্যপটে সবচেয়ে বিতর্কিত ও ঘৃণিত শক্তিগুলোর সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করছে। রেজেক ট্রাম্প ও মিলেইয়ের মতো নেতাদের বিরুদ্ধে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বলেন যে তাঁরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কর্মকাণ্ডকে মদদ দিয়ে যাচ্ছেন।
রেজেক ফ্লাভিও বলসোনারোর সেই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেন, যেখানে তিনি জয়ী হলে ব্রাজিলিয়ান ইসরায়েলি কনফেডারেশনের প্রধানকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। রেজেক এটিকে ‘চিকিৎসাবিজ্ঞানের চেয়ে সংগঠিত জায়নবাদী লবিকে শ্রদ্ধা জানানোর একটি প্রয়াস’ বলে মন্তব্য করেন।
ব্রাজিলের বামপন্থী এবং মূলধারার মধ্যপন্থী রাজনৈতিক শক্তিগুলো এখনো এমন একটি কূটনৈতিক ঐতিহ্য বহন করছে যা ‘স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতা ও অনানুগত্যের’ পাশাপাশি ‘আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি পরম শ্রদ্ধার’ ওপর প্রতিষ্ঠিত। এই নীতিগুলো নৈতিকতা ও মানবিকতার সংমিশ্রণে ব্রাজিলের রাজতন্ত্রের যুগ থেকেই দেশটির পররাষ্ট্রনীতিকে পরিচালিত করে আসছে।
রেজেকের দৃষ্টিতে, গাজা সংঘাত ব্রাজিলীয় অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজনকে সবচেয়ে উন্মুক্ত করে দিয়েছে। গাজায় যা ঘটছে, তাকে তিনি মানবজাতির ইতিহাসের ‘সবচেয়ে ঘৃণ্য গণহত্যা’ বলে অভিহিত করেন এবং ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে পশ্চিমারা নিষ্ক্রিয় হয়ে এই সহিংসতা প্রত্যক্ষ করছে, যা এখন লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে।
রেজেকের এই বক্তব্য পরিষ্কার করে যে ফিলিস্তিন কেন ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কেবল একটি পররাষ্ট্রনীতির বিষয় হয়ে থাকেনি; এটি এখন বিশ্বের বুকে ব্রাজিলের অবস্থান নির্ধারণের মূল উপাদানে পরিণত হয়েছে।
প্রশ্ন একটাই—ব্রাজিল কি আন্তর্জাতিক আইন ও বহুপক্ষীয়র দিকে দাঁড়াবে, নাকি উগ্র ডানপন্থীদের মতো ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের স্বার্থ রক্ষায় শামিল হবে?
তবে রেজেক আশা প্রকাশ করেন, ব্রাজিলের শক্তিশালী কূটনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো পররাষ্ট্রনীতিতে এত বড় ধরনের বিপর্যয় রোধ করতে সক্ষম হতে পারে। গভীর রাজনৈতিক বিভাজন থাকা সত্ত্বেও তিনি বিশ্বাস করেন যে ভবিষ্যতে একটি ডানপন্থী সরকার ক্ষমতায় এলেও ব্রাজিলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্রাজিলের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক কূটনৈতিক নীতি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
রেজেক বলেন, ‘এমনকি সরকার ও কংগ্রেস—উভয় স্থানেই যদি এক চরম ডানপন্থী শক্তি জয়ী হওয়ার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও ঘটে, তবুও আমাদের পররাষ্ট্রনীতি তার ঐতিহ্যগত মর্যাদা ও সংযম ধরে রাখতে পারবে।’
ইমান আবুসিদু, মিডল ইস্ট মনিটরের ব্রাজিল প্রতিনিধি।
মিডল ইস্ট মনিটর থেকে সংক্ষেপে অনূদিত
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ভারতের তরুণ নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টি শুক্রবার দেশজুড়ে নতুন করে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেছে। লাখ লাখ নাগরিকের ভোটাধিকার অন্যায়ভাবে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে—এমন ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যেই মুম্বাইতে হাজার হাজার মানুষ এই আন্দোলনে শামিল হয়েছেন বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।
পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে গাজীপুরে শ্রমিক সমাবেশ করা হয়েছে। আগামী ১ ডিসেম্বরের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে সারা দেশে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী মারা গেছেন। রাইজিংবিডিকে এ তথ্য জানিয়েছেন বিডিনিউজের লেখক ও সিনিয়র সাংবাদিক আমীন আল রশীদ।