জাতীয়

এমন ঘটনা ঘটেনি আর, একসঙ্গে সেদিন খেলেছিলেন তিন জোড়া ভাই

News সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ 0
এমন ঘটনা ঘটেনি আর, একসঙ্গে সেদিন খেলেছিলেন তিন জোড়া ভাই
এমন ঘটনা ঘটেনি আর, একসঙ্গে সেদিন খেলেছিলেন তিন জোড়া ভাই

ভাই…

কারও কারও রক্তের বন্ধনের বাইরে গিয়েও হয়তো প্রিয় বন্ধু। বহু স্মৃতি জমা একসঙ্গে। অনেক প্রথমের সাক্ষীও। একসঙ্গে বিকেলের ক্রিকেটও কি আপনার শুরু হয়েছিল ভাইয়ের সঙ্গে? পাড়ার দলে তাহলে একসঙ্গে খেলেছেনও নিশ্চয়ই!

এতটুকুতেই দুই ভাইয়ের ক্রিকেট থমকে গেলে একটু মন খারাপ হওয়ার কথা। বিশেষ করে টিভিতে যখন ভিনদেশি ভাইদের দেশের হয়ে খেলতে দেখেছেন তখন হয়তো মনে হয়েছে— আরে আমরাও তো…। এটুকুতেই আপাতত থামা যাক।

ক্রিকেটের অনেক বিখ্যাত ভাইদের কথা তো আপনার জানাই থাকার কথা। পাকিস্তানের মোহাম্মদ ভাইয়েরা একসঙ্গে জাতীয় দলে খেলেছেন, অস্ট্রেলিয়ার ওয়াহ কিংবা চ্যাপেল ভাইরাও দুনিয়াজুড়ে খ্যাতি কুড়িয়েছেন একসঙ্গে।

কিন্তু ভাইদের একসঙ্গে খেলার একটা বিরল কীর্তি আসলে জিম্বাবুয়ের। এক, দুজন নয়, ১৯৯৭ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে একসঙ্গে খেলেছিলেন জিম্বাবুয়ের তিন জোড়া ভাই। ঘটনাটা ঘটেছিল আজকের এই দিন মানে ১৮ সেপ্টেম্বর। ক্রিকেটের প্রায় ১৫০ বছরের ইতিহাসের আগে কিংবা পরে আর এই ঘটনা ঘটেনি।

কী ঘটেছিল সেই ম্যাচে

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওই ম্যাচে জিম্বাবুয়ের হয়ে ওপেনিং করেছিলেন গ্র্যান্ট ফ্লাওয়ার আর গ্যাভিন রেনি। ২৩ রানে গ্যাভিন আউট হয়ে যাওয়ার পর গ্র্যান্ট জুটি বেঁধেছিলেন তাঁর ভাই অ্যান্ডির সঙ্গে। গ্যাভিনের ভাই জন রেনি ছিলেন বোলার।

জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের কিংবদন্তি হয়ে আছেন দুই ভাই অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার (বাঁয়ে) ও গ্র্যান্ট ফ্লাওয়ার

এই দুই জোড়া ভাইয়ের সঙ্গে এই ম্যাচে খেলেছিলেন স্ট্র্যাং ভাইয়েরাও। ৭ নম্বরে ব্যাট করতে নেমেছিলেন পল স্ট্র্যাং, তাঁর ভাই বাঁহাতি পেসার ব্রায়ান স্ট্র্যাংও খেলেছিলেন ম্যাচটা। তিন জোড়া ভাইয়ের কথা পড়তে পড়তেই কি ক্লান্ত লাগছে? এই ম্যাচে চার নম্বরে ব্যাট করা গাই হুইটালের চাচাতো ভাই অ্যান্ডি হুইটাল ছিলেন দলের ১২তম সদস্য!

এতটুকু পড়ে আপনার নিশ্চয়ই তাদের পারফরম্যান্স কী ছিল তাও জানতে ইচ্ছে করছে? নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হারারেতে টেস্টটা ড্র করেছিল জিম্বাবুয়ে। শেষদিনে ক্রিস কেয়ার্নসের অপরাজিত ৭১ রানই তাতে মুখ্য ভূমিকা রেখেছে।

ভাইদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো করেছিলেন গ্র্যান্ট ফ্লাওয়ার। দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন। প্রথম ইনিংসে ১০৪ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ১৫১ রান এসেছিল তাঁর ব্যাট থেকে। তাঁর ভাই অ্যান্ডির যদিও ম্যাচটা ভালো যায়নি, দুই ইনিংসে যথাক্রমে তিনি করেছিলেন ৮ ও ২০ রান।

দ্বিতীয় ইনিংসে ফিফটি পেয়েছিলেন রেনি ভাইদের গ্যাভিন। তাঁর ভাই জন দুই ইনিংসে কোনো উইকেট পাননি, তবে ব্যাট হাতে প্রথম ইনিংসে ২২ আর পরের ইনিংসে ১৬ রান করেন। এই ম্যাচের পর আর কখনোই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা হয়নি তাঁর।

স্ট্র্যাং ভাইরাও মন্দ করেননি—পল প্রথম ইনিংসে ৪২ রান করেছিলেন। দুই ভাই মিলে দুই ইনিংস মিলিয়ে বল হাতেও পেয়েছেন ৮ উইকেট।  

ক্রিকেটের আরও ভাইয়েরা

ক্রিকেটে ভাইদের একসঙ্গে খেলার গল্পটা কিন্তু একেবারে শুরু থেকেই। ১৮৭৭ সালে মেলবোর্নে খেলা প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক ছিলেন ডেভ গ্রেগরি, তাঁর ভাই নেডও খেলেছিলেন ওই ম্যাচে। দুই ভাইয়ের কারও ক্যারিয়ারই খুব দীর্ঘ ছিল না। তবে ডেভের ছেলে সিড ১৮৯০ থেকে ১৯১২ সালের মধ্যে ৫৮টি টেস্টে খেলেছেন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে।

গ্রেগ চ্যাপেল এবং ইয়ান চ্যাপেল—দুই ভাই

সেই যে শুরু, পরিবারের গল্পটা পরে এগিয়েছে সমান তালে। ভাইয়েরা উইকেটে একে অপরের সঙ্গী হয়েছেন, ছেলেরা হেঁটেছেন তাঁদের বাবার পদচিহ্ন ধরে, কখনো কখনো ভাইয়ের ছেলে কিংবা নাতিরা ক্রিকেট মাঠে উজ্জ্বল করেছেন পরিবারের নাম।

এ নিয়ে অদ্ভুত অনেক গল্পও আছে। ইংল্যান্ডের হিয়ার্ন পরিবারের ভাইদের কথাই ধরুন। অ্যালেক ও জ্যাক ইংল্যান্ডের হয়ে একসঙ্গে অভিষেক হয়, তাদের আরেক ভাই ফ্র্যাঙ্ক ওই ম্যাচেই আবার খেলছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে।

পাকিস্তানের মোহাম্মদ ভাইদের কথা তো সবারই শোনারই কথা। দুই, তিন, এমনকি চারজনও একসঙ্গে খেলেছেন তারা। ১৯৮৪ সালে ওয়াসিম রাজা ও রমিজ রাজাও পাকিস্তানের হয়ে খেলেছিলেন একসঙ্গে।
ভারতে এমন গল্পের শুরুটা হয়েছিল লালা অমর সিং ও লালা রামজিকে দিয়ে আর সবশেষে অমরনাথ পরিবারে— লাল অমরনাথের ছেলে মহিন্দর ও সুরিন্দরও খেলেছেন দেশের হয়ে।

শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে অর্জুনা রানাতুঙ্গা যখন দাপট দেখাচ্ছেন, তখন তাঁর কয়েকজন ভাইও জাতীয় দলের তালিকায় অল্প সময়ের জন্য ছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজে ছিলেন সম্প্রতি ব্রাভো ভাইয়েরাও খেলছেন।

নিউজিল্যান্ড থেকেও এসেছে কিছু প্রভাবশালী জুটি—কিংবদন্তি রিচার্ড হ্যাডলি ও তাঁর ভাই ডেল, এবং ক্রো পরিবারের মার্টিন ও জেফ খেলেছেন নিউজিল্যান্ডের হয়ে।

বিসিবির প্রধান নির্বাচক ও সাবেক অধিনায়ক মিনহাজুল আবেদীন। তাঁর ভাই নুরুল আবেদীনও খেলেছেন বাংলাদেশের হয়ে

তবে অস্ট্রেলিয়ার ভাইদের গল্পটা একটু বেশি লম্বা। ক্রিকেট বিশ্বকে প্রতিভাবান ভাইদের উপহার দিয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়া। গ্রেগ ও ইয়ান চ্যাপেল বহু বছর ধরে দেশটির ক্রিকেটের নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের ভাই ট্রেভরও খেলেছেন ৩ টেস্ট ও ২০ ওয়ানডেতে। স্টিভ ও মার্ক ওয়াহ ভাইয়েরাও পরে তাদের গল্প লিখেছেন নিজেদের মতো করে। ডেভিড আর মাইক হাসিও।

দক্ষিণ আফ্রিকার ভাইয়েরাও বিখ্যাত হয়েছেন বেশ। বর্ণবাদজনিত নির্বাসনের কারণে ক্যারিয়ার থমকে যাওয়ার আগে, ষাটের দশকে গ্রায়েম ও পিটার পোলক বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিলেন। পিটার ও গ্যারি কারস্টেন টেস্ট ম্যাচে একসঙ্গে ওপেনও করেছেন।

এমন একটা গল্প কিন্তু আছে বাংলাদেশেও—জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মিনহাজুল আবেদীনকে চেনার কথা, পরে তিনি জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক ছিলেন, এখন বিসিবির পরিচালকও। তাঁর ভাই নুরুল আবেদীনও বাংলাদেশের হয়ে খেলেছেন।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
চাকরির প্রলোভনে ধর্ষণ, যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড 
চাকরির প্রলোভনে ধর্ষণ, যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড 

চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন আটকে রেখে এক নারীকে ধর্ষণের মামলায় এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল। 

News অক্টোবর ৪, ২০২৬ 0
গ্রেপ্তার এড়াতে নদীতে ঝাঁপ, ২৬ ঘণ্টা পর লাশ উদ্ধার 

গ্রেপ্তার এড়াতে নদীতে ঝাঁপ, ২৬ ঘণ্টা পর লাশ উদ্ধার 

লাল চাঁদ হত্যা: হাইকোর্টের দেওয়া জামিন চেম্বারে স্থগিত

লাল চাঁদ হত্যা: হাইকোর্টের দেওয়া জামিন চেম্বারে স্থগিত

শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ভারতের রাজনৈতিক সদিচ্ছাও প্রয়োজন: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ভারতের রাজনৈতিক সদিচ্ছাও প্রয়োজন: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশের বিদায়ী হাইকমিশনার সঙ্গে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক
বাংলাদেশের বিদায়ী হাইকমিশনার সঙ্গে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক

বাংলাদেশের বিদায়ী হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহর সঙ্গে নয়া দিল্লিতে বিদায়ী সৌজন্য বৈঠকে মিলিত হয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। নতুন দিল্লিতে রবিবার এই বৈঠকের পর দুই দেশের পক্ষ থেকেই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রসারে চলমান কূটনৈতিক যোগাযোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

News অক্টোবর ৪, ২০২৬ 0
‘সীমিত আয়ের মানুষের জন্য এক লাখ ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্যোগ’

‘সীমিত আয়ের মানুষের জন্য এক লাখ ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্যোগ’

ফ্রান্সে ৫০০ বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা

ফ্রান্সে ৫০০ বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা

সুশাসন ও সেলফ-রেগুলেশন ছাড়া পুঁজিবাজারের পরিবর্তন সম্ভব নয়: অর্থমন্ত্রী

সুশাসন ও সেলফ-রেগুলেশন ছাড়া পুঁজিবাজারের পরিবর্তন সম্ভব নয়: অর্থমন্ত্রী

ঢাকা টু খুলনা লং মার্চ পেছাল ১১ দলীয় ঐক্য 
ঢাকা টু খুলনা লং মার্চ পেছাল ১১ দলীয় ঐক্য 

ঢাকা টু খুলনা লং মার্চের দিন পিছিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। আগামী ১০ অক্টোবরের পরিবর্তে ৩১ অক্টোবর ঢাকা-খুলনা লং মার্চ কর্মসূচি পালন করবে জোটটি।

News অক্টোবর ৪, ২০২৬ 0
প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক, পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার

প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক, পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার

ছোট্ট ঘরে নয় বছর, এবার প্রকৃতির ছোঁয়া পাবে দুই লেপার্ড

ছোট্ট ঘরে নয় বছর, এবার প্রকৃতির ছোঁয়া পাবে দুই লেপার্ড

চকরিয়ায় মোটরসাইকেলের চাকায় ১৭ হাজার ইয়াবা, গ্রেপ্তার ১

চকরিয়ায় মোটরসাইকেলের চাকায় ১৭ হাজার ইয়াবা, গ্রেপ্তার ১

0 Comments