দূরপাল্লার বাসে যাতায়াত আমাদের দেশের কোটি মানুষের নিত্যদিনের বিষয়। কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, রোগী, পর্যটক ইত্যাদি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রতিদিন এক জেলা থেকে অন্য জেলায়, এমনকি দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে বাসে যাতায়াত করেন। কিন্তু এই দীর্ঘ যাত্রার সঙ্গে জড়িয়ে আছে সড়ক দুর্ঘটনার একটি বড় ঝুঁকি। বিশেষ করে দ্রুতগতির বাস দুর্ঘটনায় পড়লে অনেক সময় হতাহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়। কেউ প্রাণ হারান, কেউ গুরুতর আহত হন, আবার কেউ আজীবনের জন্য পঙ্গুত্বের শিকার হন।
দুর্ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ করা হয়তো সব সময় সম্ভব নয়। চালকের অসতর্কতা, অতিরিক্ত গতি, বিপজ্জনক ওভারটেকিং, রাস্তার ত্রুটি, অন্য যানবাহনের ভুল কিংবা হঠাৎ কোনো প্রতিবন্ধকতার কারণে দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে। তাই দুর্ঘটনা প্রতিরোধের পাশাপাশি দুর্ঘটনা ঘটলে তার ক্ষয়ক্ষতি কীভাবে কমানো যায়, সেটিও আমাদের ভাবতে হবে। আর এখানেই দূরপাল্লার বাসে সিটবেল্টের ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
একটি বাস স্বাভাবিক গতিতে চলার সময় যাত্রী হয়তো নিজের আসনে আরাম করে বসে আছেন। কেউ ঘুমাচ্ছেন, কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন, কেউ বই পড়ছেন, আবার কেউ জানালার বাইরে তাকিয়ে আছেন। কিন্তু হঠাৎ বাসটি কোনো কিছুর সঙ্গে ধাক্কা খেলে বা জরুরি ব্রেক করলে, যাত্রীর নিজের শরীরের ওপর নিয়ন্ত্রণ কার্যত থাকে না। বাসের গতি যত বেশি, আকস্মিক ধাক্কার সময় যাত্রীর শরীর তত বেশি শক্তির সঙ্গে সামনে বা পাশে ছিটকে যেতে পারে। সামনের সিট, জানালার অংশ, বাসের ভেতরের কোনো শক্ত কাঠামো কিংবা অন্য যাত্রীর শরীরের সঙ্গে আঘাত লাগতে পারে। বিশেষ করে ঘুমন্ত যাত্রীদের ক্ষেত্রে বিপদের মাত্রা আরও বেশি হতে পারে। কারণ দুর্ঘটনার মুহূর্তে তারা পরিস্থিতি বুঝে শরীরকে প্রস্তুত করার সুযোগ পান না। সিটবেল্টের মূল কাজ হলো দুর্ঘটনার সময় যাত্রীর শরীরকে তার আসনের সঙ্গে তুলনামূলকভাবে স্থির রাখা। ফলে সামনে ছিটকে যাওয়া বা আসন থেকে উঠে গিয়ে কোনো শক্ত অংশে আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি কমে। অর্থাৎ সিটবেল্ট দুর্ঘটনা ঠেকাতে পারে না, কিন্তু দুর্ঘটনার পর আঘাতের মাত্রা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সড়ক দুর্ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ করা হয়তো কঠিন। কিন্তু দুর্ঘটনা ঘটলে একজন মানুষকে গুরুতর আঘাত থেকে বাঁচানোর সম্ভাবনা যদি কোনো সহজ ব্যবস্থা বাড়িয়ে দিতে পারে, তাহলে সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। দূরপাল্লার বাসে সিটবেল্ট তাই সময়ের দাবি। দ্রুতগতির প্রতিটি দূরপাল্লার বাসে চালক ও যাত্রীদের জন্য কার্যকর সিটবেল্ট থাকা এবং এর ব্যবহার নিশ্চিত করা হোক।
দূরপাল্লার বাস দুর্ঘটনার অন্যতম ভয়াবহ দৃশ্য হলো বাসের একাধিকবার উল্টে যাওয়া বা ‘পল্টি খাওয়া’। কোনো বাস রাস্তা থেকে ছিটকে পড়ে কয়েকবার গড়িয়ে গেলে বাসের ভেতরের যাত্রীদের শরীরও প্রচণ্ডভাবে নড়াচড়া করতে থাকে। একজন যাত্রী তার আসন থেকে ছিটকে অন্য যাত্রীর ওপর পড়তে পারেন। কেউ সামনের দিকে ছিটকে যেতে পারেন, কেউ পাশের দিকে, আবার কেউ বাসের ভেতরের অন্য কোনো শক্ত অংশে আঘাত পেতে পারেন। এ ধরনের দুর্ঘটনায় শুধু বাসের বাইরের আঘাত নয়, যাত্রীদের একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষও বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। একজনের শরীরের সঙ্গে অন্যজনের মাথা, ঘাড়ে আঘাত লাগতে পারে। অনেকে আসন থেকে ছিটকে গিয়ে এমন অবস্থানে আটকে পড়েন, যেখান থেকে উদ্ধার করাও কঠিন হয়ে যায়। এখানেও সিটবেল্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা ব্যবস্থা হতে পারে। সিটবেল্ট পরা থাকলে যাত্রী তার নির্ধারিত আসনের সঙ্গে সংযুক্ত থাকেন। বাস দুর্ঘটনায় পড়লেও শরীরের অনিয়ন্ত্রিত ছিটকে যাওয়ার প্রবণতা কমে। ফলে অন্য যাত্রীর সঙ্গে সংঘর্ষ কিংবা বাসের বিভিন্ন শক্ত অংশে আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব। অবশ্যই মনে রাখতে হবে, সিটবেল্ট কোনো জাদুকরী সুরক্ষা ব্যবস্থা নয়। অত্যন্ত ভয়াবহ দুর্ঘটনায় সিটবেল্ট পরা থাকলেও একজন যাত্রী আহত হতে পারেন। কিন্তু ঝুঁকি কমানোর জন্য যে কয়েকটি ব্যবস্থা কার্যকর, সিটবেল্ট তার অন্যতম।
শুধু যাত্রী নয়, বাসচালকের জন্যও সিটবেল্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন চালক দুর্ঘটনার মুহূর্তে নিজের আসন থেকে ছিটকে গেলে বাসের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে যেতে পারে। এমনকি দুর্ঘটনার আগমুহূর্তে বাসকে নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রেও চালকের স্থিতিশীল অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুতগতিতে চলন্ত বাসের চালককে হঠাৎ ব্রেক করা, স্টিয়ারিং ঘোরানো কিংবা কোনো প্রতিবন্ধকতা এড়ানোর মতো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। চালক যদি নিজের আসনে সঠিকভাবে অবস্থান করতে পারেন, তাহলে স্টিয়ারিং ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপর তাঁর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা তুলনামূলকভাবে সহজ হয়। তাই চালকের সিটবেল্ট শুধু চালকের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় নয়, এটি বাসের সব যাত্রীর নিরাপত্তার সঙ্গেও সম্পর্কিত।
দূরপাল্লার বাসে সিটবেল্ট চালু করলেই সড়ক দুর্ঘটনার সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে, এমন ভাবার কোনো কারণ নেই। সড়ক নিরাপত্তা একটি সমন্বিত বিষয়। অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণ, দক্ষ ও প্রশিক্ষিত চালক নিয়োগ, চালকের পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করা, ফিটনেসবিহীন যানবাহন বন্ধ করা, মহাসড়কে নিরাপদ ওভারটেকিং নিশ্চিত করা, যাত্রী ওঠানামার ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা এবং সড়কের অবকাঠামোগত উন্নয়ন—সবকিছুর সমন্বিত প্রয়াস প্রয়োজন। তবে এসবের পাশাপাশি সিটবেল্টকে উপেক্ষা করা আদৌ উচিত নয়।
একটি দুর্ঘটনা ঘটার আগে আমরা জানি না, কখন বিপদ আসবে। কিন্তু দুর্ঘটনা ঘটলে শরীরকে নিজের আসনের সঙ্গে ধরে রাখার একটি ব্যবস্থা আমাদের হাতে রয়েছে। সেটি ব্যবহার না করার কোনো যুক্তি থাকতে পারে না।
এক্ষেত্রে বাসমালিক এবং পরিবহন কর্তৃপক্ষেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দূরপাল্লার বাসে কার্যকর ও মানসম্মত সিটবেল্ট সংযুক্ত করা, সেগুলো নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং যাত্রীদের সিটবেল্ট ব্যবহারে উৎসাহিত করা প্রয়োজন। শুধু সিটবেল্ট লাগিয়ে দিলেই হবে না, সেটি যেন ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় থাকে এবং যাত্রীরা কীভাবে ব্যবহার করবেন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। গাড়িতে বসলে অনেক দেশেই সিটবেল্ট ব্যবহারকে স্বাভাবিক অভ্যাস হিসেবে দেখা হয়। তাহলে দূরপাল্লার বাসে উঠলে আমরা কেন সেটিকে প্রয়োজনীয় করে তুলব না? বিশেষ করে রাতের বাসে অনেক যাত্রী ঘুমিয়ে পড়েন। ঘুমন্ত অবস্থায় দুর্ঘটনা হলে নিজের শরীরকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না। তাই দূরপাল্লার বাসে যাত্রার শুরুতেই সিটবেল্ট বাঁধার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। যাত্রীরা যদি নিজেরা এই বিষয়ে সচেতন হয়ে দাবি তোলেন, তাহলে পরিবহন প্রতিষ্ঠানগুলোও বিষয়টির গুরুত্ব বুঝতে পারবেন।
আমরা প্রায়ই দুর্ঘটনার পর আলোচনা করি—কেন দুর্ঘটনা ঘটল, চালকের ভুল ছিল কি না, গাড়ির গতি কত ছিল, রাস্তার অবস্থা কেমন ছিল। এসব প্রশ্ন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু একই সঙ্গে আরেকটি প্রশ্নও করা দরকার—দুর্ঘটনা যখন ঘটল, তখন যাত্রীদের জীবন রক্ষায় আমাদের হাতে করণীয় কী কী ব্যবস্থা ছিল? সিটবেল্ট সেই প্রশ্নের একটি বাস্তবসম্মত উত্তর হতে পারে। দূরপাল্লার দ্রুতগতির বাসে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিটবেল্টকে বিলাসিতা বা অতিরিক্ত সুবিধা হিসেবে না দেখে মৌলিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। বাসে সিটবেল্ট থাকা, সেটি কার্যকর থাকা এবং যাত্রীরা তা ব্যবহার করছেন কি না—এসব বিষয়কে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার।
সড়ক দুর্ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ করা হয়তো কঠিন। কিন্তু দুর্ঘটনা ঘটলে একজন মানুষকে গুরুতর আঘাত থেকে বাঁচানোর সম্ভাবনা যদি কোনো সহজ ব্যবস্থা বাড়িয়ে দিতে পারে, তাহলে সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। দূরপাল্লার বাসে সিটবেল্ট তাই সময়ের দাবি। দ্রুতগতির প্রতিটি দূরপাল্লার বাসে চালক ও যাত্রীদের জন্য কার্যকর সিটবেল্ট থাকা এবং এর ব্যবহার নিশ্চিত করা হোক। একই সঙ্গে নিরাপদ গতি, দক্ষ চালক, ভালো যানবাহন ও উন্নত সড়কব্যবস্থার মাধ্যমে গড়ে উঠুক একটি নিরাপদ গণপরিবহন ব্যবস্থা।
দুর্ঘটনা হয়তো সব সময় এড়ানো সম্ভব নয়, কিন্তু দুর্ঘটনার ক্ষয়ক্ষতি কমানোর চেষ্টা আমাদের করতেই হবে। নিরাপদ থাকুক পথ, নিরাপদ থাকুক দূরপাল্লার বাসযাত্রা, নিরাপদ থাকুক সকল যাত্রী।
লেখক: অতিরিক্ত পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক।
এইচআর/এএসএম
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
২ ওভারে ১৭ রানে পাকিস্তানের ২ উইকেট তুলে নিয়েছিল টাইগাররা।
অনৈতিক কার্যকলাপসহ সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির তিন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ফেনী সফরে যাচ্ছেন তারেক রহমান।