খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেড়েছে রোগীর চাপ। কিন্তু সে তুলনায় বৃদ্ধি পায়নি সেবার মান। উল্টো রোগীদের জিম্মি করে চলছে ওষুধ ও টেস্ট বাণিজ্য। গত বছর একাধিক অনিয়মের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযান হয়। ধরাও পড়ে অনিয়ম। কিন্তু বদলায়নি হাসপাতালের পুরোনো রূপ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির ২৩টি পদের বিপরীতে জনবল আছে মাত্র ছয়জন। আউটসোর্সিং পদে গত অর্থ বছরে ১৯ জন লোক কাজ করেছে। তাদের মধ্যে অনেকে এখন স্বেচ্ছাশ্রম দিচ্ছেন। হাসপাতালে শিশু বেড রয়েছে মাত্র ২টি। রয়েছে একটি মাত্র অ্যাম্বুলেন্স। প্রতিদিন হাসপাতালে গড়ে ৬৫-৭২ জন রোগী ভর্তি থাকেন। আগে যেখানে দৈনিক হাসপাতালে গড়ে ১৫০-২০০ জন রোগীর সেবা দেওয়া হতো সেখানে এখন জরুরি বিভাগ ও আউটডোরে রোজ ৩৫০-৪০০ রোগী আসেন চিকিৎসা নিতে।

হাসপাতালে সরকারিভাবে দেওয়া ওষুধের তালিকায় রয়েছে ৩৯টি পদ। বাকি অতিরিক্ত ওষুধ টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ক্রয় করা হয়। গত অর্থ বছরে প্রায় ২০ লাখ টাকার ওষুধ টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্রয় করা হয়েছে। বর্তমানে ভর্তি রোগীদের মধ্যে বেশি আসছেন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী।
হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, আউটডোরে প্রতিদিন সকাল থেকে রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসেন। দুপুর পর্যন্ত চলে চিকিৎসাসেবা। বহির্বিভাগে শিশু কনসালটেন্ট, মেডিকেল অফিসার, দন্ত বিভাগ, এনসিডি কর্নার, কৈশোরবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও স্বাস্থ্য শিক্ষা বিষয়ে সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। সরকারিভাবে ৩০ ধরনের টেস্ট এই হাসপাতালে করার সুযোগ রয়েছে। শিশু কনসালটেন্ট শুক্র ও শনিবার ব্যতীত প্রতিদিন রোগী দেখছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা শিশু মাসুমের অভিভাবক পারভিন বলেন, মাসুমের কয়েকদিন ধরে জ্বর জ্বর ভাব। এজন্য হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। প্রতিদিন চিকিৎসক থাকেন। তবে চিকিৎসা সেবা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই বলে তিনি জানান। তবে তিনি ওষুধ সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলতে চাননি।
জ্বরে আক্রান্ত অন্য একজন রোগী অপর্না বলেন, কয়েকদিন ধরে জ্বর ও কাশি। এজন্য ডাক্তার দেখাতে এসেছি। টিকিট কেটে ডাক্তার দেখিয়েছি। কিছু টেস্ট দিয়েছে। টেস্ট করিয়ে আবার ডাক্তার দেখাবো।
স্থানীয় বাসিন্দা সাদাত হোসেন বলেন, অভিযোগ থাকলেও দিয়ে লাভ নেই। অভিযোগ দিলে চিকিৎসা নিতে এলে বিড়ম্বনায় পড়তে হবে। গতবার শুনেছি দুদক অভিযান চালিয়েছে। অনিয়ম দুর্নীতি খুঁজে পেলেও তৎকালীন কর্মকর্তারা কর্মরত আছেন। স্থানীয়দের এখানে আসতে হয় চিকিৎসা নিতে। অভিযোগ দিয়ে কেউ বিপদে পড়তে চাইবে না। তবে বলতে চাই, ফুলতলা একটি জনবহুল উপজেলা। এখানকার চিকিৎসার সিস্টেম আরও ভালো হওয়া দরকার। জবাবদিহিতা দৃষ্টান্তমূলক হওয়া প্রয়োজন। তাহলে এমনিতেই সব ঠিক হয়ে যাবে।
হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের দেওয়া খাবারে অনিয়ম প্রতিনিয়ত হচ্ছে। হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সে রোগী পরিবহন বাবদ অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। অ্যাম্বুলেন্সে ফুলতলা থেকে রোগী খুলনায় নিতে ৩০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার কথা থাকলেও রোগী প্রতি নেওয়া হয় ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত। ওষুধ ক্রয়ে গত অর্থ বছরে কমিশন বাণিজ্য হয়েছে। হাসপাতাল থেকে বাড়তি টেস্ট দেওয়া হয়। যা বাইরে থেকে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে রোগীদের করতে হয়। নির্ধারিত ডায়াগনস্টিক সেন্টারে টেস্ট না করলে অসাধু কিছু ডাক্তার রিপোর্ট দেখতে গড়িমসি করেন। এমনকি কমিশনের ভিত্তিতে রোগীদের অতিরিক্ত ওষুধ লেখা হয়। এগুলো কৌশলে লেখা হয়। এখানকার একটি চক্র এই ওষুধ সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে। এখানকার স্থানীয় মানুষদের নিরুপায় হয়ে এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসতে হয়। বিকল্প সুযোগ না থাকায় ঝামেলা হবে বিধায় অনেক রোগী অভিযোগ করতেও ভয় পান।
এমনকি গত বছর অতিরিক্ত ওষুধ লেখাকে কেন্দ্র একটি ঝামেলাও হয়েছিল। পরে স্থানীয় প্রভাবশালীদের মধ্যস্থতায় ভুল স্বীকার করে তা সমাধান করা হয়। এছাড়া ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশন হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করে একাধিক অনিয়মের সত্যতা পায়। কিন্তু অনিয়ম পেলেও তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা দুদক কর্তৃপক্ষ নেয়নি। উল্টো এখানকার সিন্ডিকেট সন্দেহবসত অনেককে হুমকি পর্যন্ত দিয়েছে। এমনকি এখানকার স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অবগত থাকলে পদক্ষেপ নিতে ভয় পান। বিগত সময়ে তিনি রাজনৈতিক বলয় ব্যবহার করে এ হাসপাতালকে জিম্মি করে রেখেছিলেন। এখনো তাই করছেন। অনেকের পরিচয় ব্যবহার করে তিনি স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়ম করে চলেছেন।
দুদক সূত্র জানায়, গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর ফুলতলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হওয়া দুর্নীতি দমন কমিশনের অভিযানে নেতৃত্ব দেন খুলনা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রকিবুল ইসলাম। সেসময় রোগীদের জন্য সরকার নির্ধারিত একজনের জন্য ১৫১ গ্রাম মাছ বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৩৯ গ্রাম, পাশাপাশি নিম্নমানের চাল সরবরাহের প্রমাণ, এছাড়া বহির্বিভাগের রোগীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ৩ টাকার পরিবর্তে ৫ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে বলে প্রমাণ মেলে। এমনকি ডাক্তারদের ব্যবস্থাপত্রে উল্লিখিত ওষুধ সম্পূর্ণভাবে সরবরাহ করা হয় না এবং চিকিৎসকদের যথাসময়ে ফিঙ্গারপ্রিন্টে হাজিরার অনিয়মও ধরা পড়ে। কিন্তু এরপর দীর্ঘদিন দুদক কমিশন না থাকায় প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হলেও ফিরতি কোনো আদেশ না পাওয়ায় প্রতিবেদন আদেশের অপেক্ষায় রয়েছে।

হাসপাতালের একজন কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, হাসপাতালের প্রধান কর্মকর্তার নির্দেশেই সবকিছু হয়। তার এলাকার লোক পরসিংখ্যানবিদ তোতা মিয়াকে দিয়ে একাধারে ক্যাশিয়ারের কাজ, স্টোর কিপারের কাজ এবং কমিশন কালেকশানের কাজ করান পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা। তোতা মিয়ার বাড়ি সিরাজগঞ্জ। হাসপাতালে ফর্মাসিস্ট ওষুধ সংরক্ষণের কাজ করলেও আসলে তা করেন তোতা মিয়া। হাসপাতালের নানান অনিয়মের সঙ্গে তোতা মিয়া সম্পৃক্ত।
খুলনা স্বাস্থ্য বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, অতিরিক্ত অপ্রয়োজনীয় ওষুধ লেখা এবং তা রোগীকে সেবন করানো একপ্রকার অপচর্চা। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে সতর্কও করা হয়েছিল। কিন্তু এখনো এমন অনিয়ম এবং অপচর্চা চললেও সংশ্লিষ্টদের অবগত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হবে। এছাড়া অনিয়মের একাধিক অভিযোগ আমরা এরইমধ্যে জানতে পেরেছি। খুব দ্রুত তদন্ত করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে হাসপাতালে গিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে হাসপাতালের বিষয়ে ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জেসমিন আরা মুঠোফোনে বলেন, গত অর্থ বছরে পাওয়া সরকারি ওষুধ প্রায় শেষ পর্যায়ে। চলতি বছরের ওষুধ অক্টোবরে পাওয়া যাবে বলে আশা করা যায়। গত অর্থ বছরে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনেক পদের ওষুধ ক্রয় করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মেশিন না থাকায় অনেক টেস্ট করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে বর্তমানে থাকা চিকিৎসক ও নার্স এই উপজেলা পরিচালনার জন্য যথেষ্ট। পুরো হাসপাতালে একজন মাত্র পরিচ্ছন্নতাকর্মী। তার পক্ষে ২৪ ঘণ্টা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা করা সম্ভব হয় না। অনেক সময় স্বেচ্ছাসেবক দিয়ে কাজ করানো হয়।
আউটসোর্সিংয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, আউটসোর্সিংয়ের নীতিমালায় তাদের প্রক্রিয়া গত জুন মাসে শেষ হয়ে গেছে। এখন শুনছি নতুন করে টেন্ডার হবে। গত সময়ে ১৯ জন আউটসোর্সিং কর্মী ছিল। তারা অনেকে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছেন। নতুন টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কেউ যদি সুযোগ পান তাহলে তারা বেতন পাবেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন যদি বলি ভাই আপনি সাংবাদিক, আপনি অমুক জায়গা থেকে রিপোর্ট করার ভয় দেখিয়ে টাকা নিছেন। এটা বলাটা কি ঠিক হবে? আপনি যদি তথ্য প্রমাণ না দেখাতে পারেন তাহলে তো ব্যাপারটা উল্টো দিকে যাবে। আপনি হাসপাতালে একদিন আসেন। শহর থেকে আসার আগে ফোন দিয়ে এলে ভালোভাবে তথ্য দিতে পারবো।
খুলনার সিভিল সার্জন ডা. মোছা. মাহফুজা খাতুন বলেন, শুধু ফুলতলা নয়, আমার এখানেসহ সব উপজেলাতে জনবল সংকট রয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে আমি প্রথম জানলাম। তথ্য প্রমাণসহ অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এফএ
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ভারতের তরুণ নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টি শুক্রবার দেশজুড়ে নতুন করে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেছে। লাখ লাখ নাগরিকের ভোটাধিকার অন্যায়ভাবে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে—এমন ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যেই মুম্বাইতে হাজার হাজার মানুষ এই আন্দোলনে শামিল হয়েছেন বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।
পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে গাজীপুরে শ্রমিক সমাবেশ করা হয়েছে। আগামী ১ ডিসেম্বরের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে সারা দেশে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী মারা গেছেন। রাইজিংবিডিকে এ তথ্য জানিয়েছেন বিডিনিউজের লেখক ও সিনিয়র সাংবাদিক আমীন আল রশীদ।