জাতীয়

ডিজেলের দাম বাড়ায় ইউক্রেনকে দায়ী করছেন ট্রাম্প, সুবিধা দেখছে মস্কো

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
ডিজেলের দাম বাড়ায় ইউক্রেনকে দায়ী করছেন ট্রাম্প, সুবিধা দেখছে মস্কো
ডিজেলের দাম বাড়ায় ইউক্রেনকে দায়ী করছেন ট্রাম্প, সুবিধা দেখছে মস্কো

যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। আবার, মধ্যবর্তী নির্বাচনের বাকি দুই মাসেরও কম। এমন পরিস্থিতিতে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে নিজের ব্যর্থ প্রচেষ্টার পুরোনো কৌশলে ফিরেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার জ্বালানির দাম বাড়ার জন্য ইউক্রেনকেই দায়ী করছেন তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এমন অবস্থান ইউক্রেনের জন্য কঠিন সময়ে এসেছে। একই সঙ্গে, এটি রাশিয়ার জন্য কূটনৈতিক সুবিধার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

গত রোববার ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘জেলেনস্কিকে একটি কাজ করতে হবে। তাকে রাশিয়ায় ডিজেল জ্বালানি উৎপাদনকেন্দ্রে হামলা বন্ধ করতে হবে। এটা বিশ্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।’

আরও পড়ুন

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে জ্বালানি সংকটে বিশ্ব, দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়ছে বিক্ষোভ

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির উদ্দেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তেলের বাজারে চাপ, ইউক্রেনের হামলা নিয়ে প্রশ্ন

ট্রাম্পের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জ্বালানি বাজার বিশ্লেষকেরা। টেক্সাসভিত্তিক প্রতিষ্ঠান লিপো অয়েল অ্যাসোসিয়েটসের অ্যান্ডি লিপোর হিসাব অনুযায়ী, ইউক্রেনের হামলার জবাবে রাশিয়া ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করায় বিশ্ববাজারে প্রতিদিন প্রায় আট লাখ ব্যারেল ডিজেল কম এসেছে।

অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে প্রতিদিন প্রায় ১২ লাখ ব্যারেল জ্বালানি বাজারের বাইরে চলে গেছে। তাই ইউক্রেন রুশ তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ করলেই জ্বালানির মূল্যসংকটের সমাধান হবে—এমন দাবি সঠিক নয় বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা।

আরও পড়ুন

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কি সত্যিই মাত্র ১৪ দিনের তেল অবশিষ্ট আছে?

রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় কেন হামলা করছে ইউক্রেন

ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালিয়ে আসছে। কিয়েভের দৃষ্টিতে এসব স্থাপনা রাশিয়ার যুদ্ধযন্ত্র সচল রাখার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বিশেষ করে ইউক্রেন যখন রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে রয়েছে এবং আকাশ প্রতিরক্ষার ঘাটতিতে ভুগছে, তখন রাশিয়ার ভূখণ্ডে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা তাদের হাতে থাকা সীমিত পাল্টা ব্যবস্থাগুলোর একটি।

এর মধ্যেই সামনে আসছে শীতকাল। ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে রাশিয়া হামলা চালাতে পারে—এমন আশঙ্কাও রয়েছে।

আরও পড়ুন

১০০ ডলার ছাড়াল তেলের দাম, বিশ্ব অর্থনীতিতে শঙ্কার ছায়া

ট্রাম্পের বক্তব্যে সুযোগ দেখছে ক্রেমলিন

সোমবার ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়েই একে অপরের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে।

তবে পরবর্তী বক্তব্যে বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায়। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ প্রস্তাবটিকে ‘খুব ভালো ধারণা’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে।

পেসকভ বলেন, রাশিয়া সব সময় শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে। তবে একই সঙ্গে তিনি রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানির ওপর থাকা বিভিন্ন বাধার বিষয়টি সামনে আনেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি সরবরাহের সক্ষমতা এখন প্রায় পূর্ণ। সমস্যা উৎপাদনে নয়, বরং এসব পণ্য নির্বিঘ্নে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দেওয়ায়।

আরও পড়ুন

তেলের পথে যুদ্ধের আগুন, সবার নজর সৌদি আরবে

এরপর পেসকভ রুশ তেলবাহী ট্যাংকারে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক হামলার প্রসঙ্গ তোলেন। রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিও সামনে আনেন তিনি।

পেসকভের বক্তব্য, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলেই বিশ্বে জ্বালানি পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

নিষেধাজ্ঞা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বৈত পদক্ষেপ

রাশিয়ার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলে এ বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার ওপর থাকা কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করেছিল।

তবে একই সময়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন পদক্ষেপও নিয়েছে ওয়াশিংটন। চলতি সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে রাশিয়ার অন্যতম বড় একটি ব্যাংকের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

এ ছাড়া রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যাপক নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের একটি বিল নিয়েও মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ভোটের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম জীবিত থাকাকালে বিলটির অন্যতম প্রণেতা ছিলেন।

জেলেনস্কির জন্য নতুন করে অনিশ্চয়তা

ট্রাম্পের সাম্প্রতিক অবস্থান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির জন্য নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। মাত্র এক সপ্তাহ আগেই ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির প্রতিনিধিরা প্রথমবারের মতো কিয়েভ সফর করেন। সেখানে তারা জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেন এবং কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনার কথা বলেন।

তবে এর আগে ওই প্রতিনিধিরা রাশিয়া সফর করেছিলেন। পরে ট্রাম্প রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বললেও জেলেনস্কির সঙ্গে ফোনালাপ হয়নি।

ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সরবরাহ নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। ট্রাম্প চলতি সপ্তাহে বলেন, কিয়েভকে প্যাট্রিয়টের ‘কম উন্নত সংস্করণ’ দেওয়ার বিষয়টি তারা বিবেচনা করছেন।

রাশিয়া বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল উৎপাদক দেশ। ফলে মস্কোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে গিয়ে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ ও দাম কীভাবে প্রভাবিত হবে, তা নিয়ে যুদ্ধের শুরু থেকেই প্রশ্ন রয়েছে।

জ্বালানির দাম বাড়লে রাশিয়ার ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের রাজনৈতিক চাপও যেমন বাড়ে, তেমনি নিজেদের অর্থনীতি ও ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়।

ইউক্রেন যুদ্ধের ক্ষেত্রে তাই যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর সামনে একটি মৌলিক প্রশ্ন আবারও সামনে এসেছে। রাশিয়ার ওপর কীভাবে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানো হবে, অথচ সেই চাপের কারণে নিজেদের জ্বালানি বাজার ও সাধারণ মানুষের ব্যয় যেন আরও বেড়ে না যায়—এ ভারসাম্যই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

সূত্র: সিএনএন
কেএএ/

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
নারায়ণগঞ্জে আ.লীগের ৪ নেতাকে বহিষ্কার
নারায়ণগঞ্জে আ.লীগের ৪ নেতাকে বহিষ্কার

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের চারজন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাদেরকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

News অক্টোবর ৯, ২০২৬ 0
সৌদি আরবে থাকা পাকিস্তানি সেনারা ইয়েমেন সীমান্ত অতিক্রম করবে না

সৌদি আরবে থাকা পাকিস্তানি সেনারা ইয়েমেন সীমান্ত অতিক্রম করবে না

শান্তিতে নোবেল জয়ী নাভি পিল্লাইকে ইহুদিবিদ্বেষী আখ্যা দিল ইসরায়েল

শান্তিতে নোবেল জয়ী নাভি পিল্লাইকে ইহুদিবিদ্বেষী আখ্যা দিল ইসরায়েল

মা-বাবার ইচ্ছা পূরণে হাতির পিঠে বরযাত্রা, দুই গ্রামে উৎসবের আমেজ

মা-বাবার ইচ্ছা পূরণে হাতির পিঠে বরযাত্রা, দুই গ্রামে উৎসবের আমেজ

ভারতে রপ্তানি বাধা ও অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার চায় বাংলাদেশ
ভারতে রপ্তানি বাধা ও অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার চায় বাংলাদেশ

ভারতের বাজারে পণ্য রপ্তানিতে স্থলবন্দরভিত্তিক বিধিনিষেধ ও অশুল্ক বাধা দূর করার বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরেছে বাংলাদেশ।

News অক্টোবর ৯, ২০২৬ 0
যশোর কারাগারে ভারতীয়র মৃত্যু

যশোর কারাগারে ভারতীয়র মৃত্যু

মার্কিনিদেরকে ইরানের হামলার ভয় দেখালেন ট্রাম্প

মার্কিনিদেরকে ইরানের হামলার ভয় দেখালেন ট্রাম্প

বিকাশের গাড়ি থেকে ৩ কোটি টাকা লুট, গুলিবিদ্ধ ১

বিকাশের গাড়ি থেকে ৩ কোটি টাকা লুট, গুলিবিদ্ধ ১

ইতিহাস ও ঐতিহ্য পরিষদের আয়োজনে শরৎ উৎসব
ইতিহাস ও ঐতিহ্য পরিষদের আয়োজনে শরৎ উৎসব

শরতের স্নিগ্ধতা ও বাংলার ঋতুবৈচিত্র্যকে গান, নৃত্য ও আবৃত্তির মধ্য দিয়ে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে উদযাপিত হয়েছে ‘শরৎ উৎসব-২০২৬’।

News অক্টোবর ৯, ২০২৬ 0
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১০৫

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১০৫

সৌদি আরবে বেসামরিক অবকাঠামোয় হুতিদের হামলার নিন্দা বাংলাদেশের

সৌদি আরবে বেসামরিক অবকাঠামোয় হুতিদের হামলার নিন্দা বাংলাদেশের

আমবাগানে মিলল পিস্তল-গুলি

আমবাগানে মিলল পিস্তল-গুলি

0 Comments