দুর্যোগ নিয়ে গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও নীতি বিশ্লেষণের কাজ করে ফাউন্ডেশন ফর ডিজাস্টার ফোরাম। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনের খসড়া তৈরির কাজ শেষ করেছে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রকাশ করা হবে এটি। প্রকাশিতব্য প্রতিবেদনে ডেঙ্গু পরিস্থিতির বিশ্লেষণে বেশ পরিষ্কারভাবে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশে ডেঙ্গু জ্বরে আনুপাতিক হারে পুরুষেরা বেশি আক্রান্ত হলেও মারা যাচ্ছেন নারীরা বেশি।
ডেঙ্গুতে ২০২৪ সালে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জনের মধ্যে ৬৩ দশমিক ১০ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৬ দশমিক ৯০ শতাংশ নারী। একই সময়ে ৫৭৫ জন মারা গেছেন, যাঁদের মধ্যে ৫১ দশমিক ১০ শতাংশ নারী এবং ৪৮ দশমিক ৯০ শতাংশ পুরুষ।
সে বছর বিষয়টি নিয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে অধ্যাপক বে-নজীর আহমেদ বলেছিলেন, ‘ডেঙ্গুতে নারীদের অধিক মৃত্যুর কোনো বিশেষ কারণ পাওয়া যায়নি। ফলে কারণ হিসেবে আপাতত অবহেলার বিষয়টিই ধরে নিতে হচ্ছে। নারীরা অনেক সময় নিজেদের অসুস্থতাকে গুরুত্ব দেন না এবং সংসার ও সন্তানদের প্রতি অতিরিক্ত মনোযোগ দেন। একই সঙ্গে অনেক স্বামীও স্ত্রীর অসুস্থতাকে গুরুত্ব না দিয়ে উপেক্ষা করেন। ফলে পরিস্থিতি জটিল অবস্থায় চলে যায়।’
নারীদের মৃত্যুর একই ধারা এখন পর্যন্ত বহাল আছে। গত বছর (২০২৫ সাল) নারীদের মোট মৃত্যু পুরুষদের চেয়ে কম দেখা গেলেও আক্রান্তের আনুপাতিক হার বিবেচনা করলে নারীদের মৃত্যুহার পুরুষদের চেয়ে বেশি হবে। চলতি বছর (২০২৬) জুলাই মাস পর্যন্ত পাওয়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লিঙ্গভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, নারীদের মৃত্যুর সংখ্যা পুরুষদের চেয়ে বেশি, পুরুষ ৩৯ দশমিক ৫ শতাংশের বিপরীতে নারীর মৃত্যু ৬০ দশমিক ৫ শতাংশ।
বিষয়টি নিয়ে যতজন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলেছি, তাঁদের কেউই এ ধরনের কোনো কারণ অনুসন্ধানী গবেষণার হদিস দিতে পারেননি। অনেকের কাছেই এটি ‘আজাইরা’ প্রশ্ন বলে মনে হয়েছে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীরা বেশি মরবেন—এটাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু বিষয়টি এতটা সোজাসাপটা নাও হতে পারে।
কয়েক যুগ আগে উত্তরবঙ্গের নানা জেলায় শৈত্যপ্রবাহে মানবিক সহায়তার কাজ করার সময় লক্ষ করেছিলাম, শয়ে শয়ে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশু জরাজীর্ণ হাসপাতালগুলোয় আসছে। তাদের প্রায় ৮০ শতাংশই ছেলেশিশু। তখনো দেখেছিলাম, মেয়েশিশু অনেক কম এলেও লাশ হয়ে ফিরছে তারাই বেশি। কেন এমন হচ্ছে?
শৈত্যপ্রবাহে কম্বল, খাবার, গরম কাপড় ও ওষুধ বিতরণের মানবিক কাজে ব্যস্ত থাকার সময় এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা ব্যাকরণসম্মত নয়। তবু জানতে মনটা আঁকুপাঁকু করছিল। অনেকেই বলেছিলেন, ‘পিতৃতান্ত্রিক সমাজ’, তাই এমন হচ্ছে। মেয়েশিশুর প্রতি নজর কম, তাই এমন ঘটাটাই স্বাভাবিক। এ ধরনের ঢালাও বিবেচনা আমরা মেনে নিই। শুরু হয় বহুল ব্যবহৃত এবং পপুলার (জনপ্রিয় নয়) কর্মসূচি—‘সচেতনতা’ বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ।
এটা কি শুধু দেশের উত্তরের পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর মধ্যেই ঘটছে? ঢাকায় ফিরে শিশু হাসপাতালে গিয়ে দেখি, সেখানেও ছেলেশিশু ভর্তি বেশি। বাংলাদেশের শিশু চিকিৎসার পথিকৃৎ ও জাতীয় অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রফি খান (এম আর খান) তখনো বেঁচে। তিনি ছবি এঁকে বুঝিয়ে দিলেন, ছেলেশিশুদের ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্রের বিকাশ একই গর্ভকালীন বয়সে মেয়েদের তুলনায় কিছু ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত ধীরে হয়। ফলে ছেলেশিশুদের শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা বেশি দেখা যায়।
শিশুর শ্বাসনালি এমনিতেই ছোট। এম আর খান বললেন, গবেষণায় দেখা গেছে, জীবনের প্রথম দিকে ছেলেশিশুদের প্রান্তীয় শ্বাসনালীগুলো তুলনামূলক সরু হয়। ফলে সামান্য ফোলা+কফ+প্রদাহ–শ্বাসনালি দ্রুত সংকুচিত–শ্বাসকষ্ট ও নিম্ন শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।
এম আর খান আরও জানালেন, জৈবিক লিঙ্গের ভিত্তিতে রোগপ্রতিরোধী প্রতিক্রিয়ায় পার্থক্য থাকতে পারে। সাধারণভাবে মেয়েদের রোগপ্রতিরোধী প্রতিক্রিয়া (ইমিউন রেসপন্স) অনেক ক্ষেত্রে তুলনামূলক শক্তিশালী হতে পারে, যদিও এটি সব ধরনের সংক্রমণের ক্ষেত্রে একইভাবে কাজ করে না।
পরে এ বিষয় নিয়ে ব্যাপক গবেষণা হয়। ‘বাংলাদেশের হাসপাতালে ভর্তি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ছেলে ও মেয়েশিশুদের চিকিৎসা নিতে আসার আচরণ এবং চিকিৎসার ফলাফলে বৈষম্য’ শিরোনামের এই গবেষণার ফলাফল ২০১৯ সালে প্রসিদ্ধ জার্নাল পিএলওএস ওয়ান–এ প্রকাশিত হয়। গবেষণায় অংশ নিয়েছিলেন ড. আলিয়া নাহিদ (প্রধান গবেষক), রবার্ট ব্রেমান, সামিউল ইসলাম, রুচিরা তাবাসসুম নাভেদ ও অধ্যাপক সমীর সাহা।
গবেষণাটিতে ২-৫৯ মাস বয়সী ৬ হাজার ৮৫৬টি শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এতেও দেখা যায়, হাসপাতালে নিউমোনিয়া নিয়ে আসা শিশুদের মধ্যে ছেলেশিশুর সংখ্যা অনেক বেশি। অর্থাৎ জৈবিক কারণেই ছেলেশিশুরা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে বেশি থাকে।
তবে গবেষণায় এটাও নিশ্চিত হয়েছে যে হাসপাতালে আসার পর যারা মারা যাচ্ছে, তাদের মধ্যে মেয়েশিশুর সংখ্যা বেশি। তার মানে, জৈবিক কারণে অপেক্ষাকৃত মজবুত ফুসফুসের অধিকারী হওয়ার পরও পরিবারে মেয়েশিশুদের কম গুরুত্ব দেওয়ার কারণে তাদের একেবারে শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাই তাদের বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ে।
গবেষণায় বহুচলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মেয়ে হওয়ার কারণেই কম আক্রান্ত হওয়ার পরও তাদের মৃত্যুঝুঁকি বেশি।

আসলে এই প্রশ্নের কোনো উত্তর জানা নেই। হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা দিয়ে প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা নিরূপণ করা যায় না। তবে পুরুষেরা বেশি হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন—এ সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে নারী-পুরুষের মৃত্যুর আনুপাতিক হিসাবও হাসপাতালভিত্তিক। হয়তো অনেক নারী আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত বাড়িতেই ছিলেন অথবা মৃত্যুর সামান্য আগে হাসপাতালে এসেছিলেন।
তবে নারীদের মৃত্যুর কারণটা খুব স্পষ্টভাবে জানতে না পারলে বিষয়টি নিয়ে উল্লেখযোগ্য ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা কঠিন থেকে যাবে। বাংলাদেশের চিত্রটি, অর্থাৎ নারীদের মৃত্যুহার বেশি হওয়া পৃথিবীর আর কোথাও দেখা যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিকভাবে এটি সাধারণ কোনো নিয়ম নয়; বরং তুলনামূলকভাবে ব্যতিক্রমী।
ডেঙ্গুতে জেরবার ব্রাজিলে একটি জাতীয় পর্যায়ের বিশাল কোহর্ট গবেষণায় (২০০৭-২০১৮) দেখা গেছে, সেখানে নারী মৃত্যুহার পুরুষের চেয়ে কম (নারী: সিএফআর ০.০৫ শতাংশ; পুরুষ: সিএফআর ০.০৭ শতাংশ)।
সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে আমাদের সঙ্গে অনেক মিল থাকা ভারতেও জাতীয় পর্যায়ে বাংলাদেশ-ধরনের একটি স্থায়ী ‘নারীদের ডেঙ্গু মৃত্যুহার বেশি’—এমন কোনো প্রবণতাপাওয়া যায় না। বরং কেরালার একটি বড় হাসপাতালে ১ হাজার ৩০৮ জন নিশ্চিত ডেঙ্গু রোগীর ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষদের মৃত্যুর ঝুঁকি নারীদের তুলনায় বেশি। অন্যদিকে ভারতের বিভিন্ন গবেষণায় পুরুষদের মধ্যে ডেঙ্গু সংক্রমণের হারও বেশি পাওয়া গেছে।
ডেঙ্গুতে কেন নারীরা বেশি মারা যাচ্ছেন, তার কারণ খোঁজা যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজনে মৃত্যুর এই স্রোতোধারাকে রুখে দেওয়ার ব্যবস্থাও করতে হবে। এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি পদক্ষেপ হবে—প্রতিটি ডেঙ্গু মৃত্যুর ‘জেন্ডার–সেনসেটিভ ডেথ রিভিউ’। তাহলেই বোঝা যাবে, কেন নারীরা তুলনামূলকভাবে বেশি মারা যাচ্ছেন এবং কোনো কোনো মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব ছিল।
প্রতিটি জেলায় চিকিৎসক, এপিডেমিওলজিস্ট, নার্স ও জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের নিয়ে ডেঙ্গু ‘ডেথ রিভিউ কমিটি’ গঠন করতে হবে। এই কমিটি পর্যালোচনা করবে, সংশ্লিষ্ট মৃত্যুটি প্রতিরোধযোগ্য ছিল কি না।
ডেঙ্গু যেহেতু এখন আর শুধু মৌসুমি বালাই নয়, তাই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের নীতি ও কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের কথা ভাবতে হবে। জেলা ওয়ারি নারী ও পুরুষের সিএফআর আলাদাভাবে প্রতি সপ্তাহে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। নারী সিএফআর বেশি হলে তাৎক্ষণিকভাবে ‘জেন্ডার ডেঙ্গু অ্যালার্ট’ জারি করতে হবে।
এটি বাংলাদেশকে বিশ্বের প্রথম সারির দেশগুলোর একটি হিসেবে ডেঙ্গু মৃত্যুর লিঙ্গসংবেদনশীল নজরদারি ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে। নারী রোগীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্ক্রিনিং ও পরিবহন, গর্ভবতী ডেঙ্গু রোগীদের জন্য বিশেষ প্রটোকল, জেলা পর্যায়ে নারী-পুরুষভিত্তিক ডেঙ্গু ড্যাশবোর্ড এবং মৃত্যুর পর শুধু সংখ্যা নয়, মৃত্যুর কারণ বিশ্লেষণ—এসব কাজ এখনই শুরু করা উচিত।
দেরি না করে ডেঙ্গু নিয়ে ধারাবাহিক গবেষণার ব্যবস্থা করতে হবে। চলতি ২০২৬ সালের তথ্য নিয়েই ‘কেন বাংলাদেশে ডেঙ্গুতে নারীরা তুলনামূলকভাবে বেশি মারা যাচ্ছেন?’—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে জরুরি গবেষণা করা দরকার। গবেষণায় চিকিৎসা নিতে বিলম্ব, গর্ভাবস্থা, রক্তস্বল্পতা, পূর্ববর্তী রোগ, দ্বিতীয়বার ডেঙ্গু সংক্রমণ এবং হাসপাতালে পৌঁছানোর সময়—এসব বিষয় বিশ্লেষণের আওতায় রাখতে হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা, সমস্যাটি শুধু চিকিৎসাবিজ্ঞানের নয়; এটি একই সঙ্গে সামাজিক ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার সমস্যা।
● গওহার নঈম ওয়ারা গবেষক, স্বাধীনতার ৫০ বছর: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের অর্জন বইয়ের লেখক
wahragawher@gmail.com
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
গ্রাহকের অভিযোগ পেয়ে প্রথমে ব্যাংকটির অফিসার (ক্যাশ) মো. শরীফুজ্জামানকে পুলিশের সহায়তায় আটক করা হয়। পরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) টিম অনুসন্ধান করে শরীফুজ্জামানের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ব্যাংকটির আরও পাঁচ কর্মকর্তাকে পুলিশের সাহায্যে আাটক করে।
সততা, আন্তরিকতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে টেকসই ও নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালনের জন্য নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
রাজধানীর শাহজাহানপুরে মোহাম্মদ ফকরুল হাসান ফরহাদকে (৪৪) গলা কেটে হত্যার ঘটনায় নিহতের বোন ও ভগ্নিপতিকে গ্রেপ্তার করেছে শাহজাহানপুর থানা পুলিশ। পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জের ধরে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে সন্দেহ করছে পুলিশ।