জাতীয়

ডেঙ্গু বাড়ার পরই কেন আমাদের প্রস্তুতি শুরু হয়

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
ডেঙ্গু বাড়ার পরই কেন আমাদের প্রস্তুতি শুরু হয়
ডেঙ্গু বাড়ার পরই কেন আমাদের প্রস্তুতি শুরু হয়

একটি মশা খুব বেশি কিছু চায় না—একটু পানি, একটু উষ্ণতা, আর কয়েক দিন সময়। আশ্চর্যের বিষয়, এই সামান্য তিনটি জিনিস আমরা তাকে কত সহজেই দিয়ে দিই।

ডেঙ্গুর গল্প তাই শুধু এডিস মশার গল্প নয়। এটি আসলে আমরা কেমন শহর বানিয়েছি, কীভাবে বৃষ্টির পানি সামলাই, কীভাবে বর্জ্য ফেলি, নির্মাণ করি, হাসপাতাল প্রস্তুত রাখি এবং বিপদ আসার আগে কতটা বুঝতে পারি—তার গল্প।

খুলনার দিকে তাকালেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়। ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খুলনা বিভাগে এ বছর ৯ হাজার ১০৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শুধু এক দিনেই নতুন করে হাসপাতালে গেছেন ৩০২ জন। খুলনা জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ৪০৩; এর মধ্যে ২ হাজার ৭ জনই চিকিৎসা নিয়েছেন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। একই সময়ে বিভাগে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ৩০ জনের।

কিন্তু সংখ্যাগুলো আসলে কী বলছে?
সংখ্যাগুলো বলছে, ডেঙ্গু এখন আর ‘মশার মৌসুমে একটু সাবধান’ ধরনের কোনো বিষয় নেই। এটি এমন একটি রোগ, যার বিস্তার আমাদের শহরের কাঠামোর সঙ্গে মিশে গেছে।

আমরা সাধারণত বলি, বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখুন। কথাটি সত্য, কিন্তু অসম্পূর্ণ। একজন মানুষ তাঁর বাড়ির টবের পানি ফেলে দিতে পারেন, কিন্তু পাশের নির্মাণাধীন ভবনের ছাদে জমে থাকা পানি তিনি সরাতে পারেন না। নিজের বারান্দা পরিষ্কার রাখতে পারেন, কিন্তু রাস্তার পাশে পড়ে থাকা প্লাস্টিকের পাত্র, পরিত্যক্ত টায়ার বা বন্ধ ড্রেনের দায় একা নিতে পারেন না। ফলে ডেঙ্গু প্রতিরোধের দায়িত্ব যখন শুধু নাগরিকের ঘাড়ে চাপানো হয়, তখন সমস্যার একটি বড় অংশ অদৃশ্য থেকে যায়।

খুলনার হাসপাতালগুলোর সাম্প্রতিক চিত্র সেই অদৃশ্য অংশটিকেই দৃশ্যমান করেছে। আগস্টে খুলনা জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গুর জন্য নির্ধারিত ২৫টি শয্যার বিপরীতে ৬১ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪০টি শয্যার বিপরীতে রোগী ছিলেন ১১৩ জন। কোথাও রোগীকে শিশু ওয়ার্ডে, কোথাও মেঝে বা বারান্দায় রাখতে হয়েছে।

এখানে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, হাসপাতাল কেন সব সময় রোগী বাড়ার পর প্রস্তুত হয়?
ডেঙ্গু হঠাৎ এসে পড়া কোনো ভূমিকম্প নয়। এর প্রকৃতি সম্পর্কে আমরা বহু বছর ধরে জানি। বৃষ্টি বাড়বে, তাপমাত্রা বাড়বে, এডিসের প্রজনন বাড়বে, রোগী বাড়বে—এই ধারাও অজানা নয়। তবু যদি রোগী বাড়ার পর শয্যা বাড়াতে হয়, তাহলে বোঝা যায় আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থা এখনো অনেকাংশে প্রতিরোধমূলক নয়, প্রতিক্রিয়াশীল।

জলবায়ু পরিবর্তন এ সমস্যাকে আরও কঠিন করে তুলছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে, বাংলাদেশে ডেঙ্গু একসময় মৌসুমি ও মূলত নগরকেন্দ্রিক রোগ হলেও এখন তা বছরজুড়ে এবং দেশব্যাপী হুমকিতে পরিণত হচ্ছে। ২০২৩ সালে দেশে ৩ লাখ ২১ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত এবং ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাব। ডব্লিউএইচও এখন রোগ নজরদারিতে জলবায়ুর তথ্য যুক্ত করে আগাম সতর্কতা তৈরির ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে।
অর্থাৎ জলবায়ু শুধু ‘গরম বাড়াচ্ছে’ না, এটি রোগের ক্যালেন্ডারও বদলে দিচ্ছে।

এখানেই আমাদের পুরোনো পদ্ধতির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। আমরা ডেঙ্গুকে এখনো অনেকটা মৌসুমি অভিযান দিয়ে মোকাবিলা করি। বর্ষা এলে ফগিং, মাইকিং, লিফলেট, পরিষ্কার অভিযান। অথচ মশা কোনো সরকারি ক্যালেন্ডার মানে না। একটি এলাকায় আজ লার্ভা পাওয়া গেল, কাল তা সরানো হলো কি না—সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। কোন ওয়ার্ডে রোগী বাড়ছে, কোথায় প্রজননস্থল বেশি, কোন নির্মাণস্থলে বারবার একই সমস্যা হচ্ছে—এই তথ্য যদি প্রতিদিনের সিদ্ধান্তে না আসে, তাহলে ফগিং অনেক সময় দৃশ্যমান কাজ হয়, কার্যকর কাজ নয়।

খুলনায়ও এখন মশক নিয়ন্ত্রণে জোর দেওয়া হচ্ছে; নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডকে তিনটি জোনে ভাগ করে অভিযান, ফগিং এবং ব্রিডিং সাইট শনাক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই উদ্যোগের মধ্যেই একটি প্রশ্ন লুকিয়ে আছে—এটি কি আগাম প্রস্তুতি, নাকি রোগী বাড়ার পর জরুরি প্রতিক্রিয়া?

সমস্যাটি আরও গভীর। ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকের দায়িত্ব অবশ্যই আছে। কিন্তু নাগরিককে শুধু বলা ‘পানি জমতে দেবেন না’ যথেষ্ট নয়। তাকে এমন নগরব্যবস্থা দিতে হবে, যেখানে বর্জ্য পড়ে থাকবে না, নির্মাণস্থল নজরদারির বাইরে থাকবে না, বৃষ্টির পানি দীর্ঘদিন আটকে থাকবে না এবং রোগের তথ্য সাধারণ মানুষের কাছেও পৌঁছাবে।

একইভাবে হাসপাতালের দায়িত্বও শুধু রোগী ভর্তি করা নয়। ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে কখন রোগী সংকটাপন্ন হতে পারে, জ্বর কমার পরও কেন নজরদারি জরুরি—এসব বিষয়ে দ্রুত শনাক্তকরণ ও পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ ডেঙ্গুর চিকিৎসা শুরু হয় হাসপাতালের বিছানায়, কিন্তু ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই শুরু হওয়া উচিত তার অনেক আগে।

করণীয় কী?
আমাদের ডেঙ্গু নীতিতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি হতে পারে ‘মশা মারা’ থেকে ‘মশার প্রজননের সুযোগ কমানোয়’ মনোযোগ দেওয়া। প্রতিটি ওয়ার্ডে নিয়মিত ব্রিডিং সাইট ম্যাপিং, নির্মাণাধীন ভবনে বাধ্যতামূলক নজরদারি, বৃষ্টির পর দ্রুত পানি অপসারণ, স্থানীয় পর্যায়ে রোগের তথ্য প্রকাশ এবং হাসপাতালের আগাম প্রস্তুতি—এসবকে একই ব্যবস্থার অংশ করতে হবে। জলবায়ু ও রোগের তথ্য একসঙ্গে বিশ্লেষণ করে কোথায় কখন ঝুঁকি বাড়তে পারে, সেই পূর্বাভাসও কাজে লাগাতে হবে। ডব্লিউএইচওর ২০২৬ সালের জলবায়ু ও স্বাস্থ্যকাঠামো পর্যবেক্ষণ, আগাম সতর্কতা, স্বাস্থ্যকর্মীর সক্ষমতা এবং স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন খাতের সমন্বিত ব্যবস্থার ওপর জোর দিচ্ছে।

ডেঙ্গুর সবচেয়ে বড় শিক্ষা হয়তো এখানেই। আমরা রোগটিকে মশার সমস্যা ভাবি বলে মশা মারতে ব্যস্ত থাকি। কিন্তু ডেঙ্গু আসলে আমাদের ব্যবস্থার সমস্যা বলে প্রশ্নটি হওয়া উচিত—কেন একটি মশা এত সহজে শহরে বেঁচে থাকার জায়গা পেয়ে যায়?

একটি এডিস মশা কয়েক মিলিলিটার পানিতে জন্ম নিতে পারে। কিন্তু তার পেছনে থাকে একটি বাড়ির অসচেতনতা, একটি নির্মাণস্থলের অব্যবস্থা, একটি শহরের দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, একটি দেরিতে নেওয়া সিদ্ধান্ত এবং কখনো কখনো একটি অপ্রস্তুত হাসপাতাল।

তাই ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে সত্যিকারের বিজয় মানে শুধু এ বছর কতজন কম আক্রান্ত হলো, তা নয়। সত্যিকারের বিজয় হবে সেদিন, যেদিন একটি শহর রোগী বাড়ার অপেক্ষা না করে রোগের জন্ম নেওয়ার আগেই তাকে দেখতে শিখবে। কারণ, মশাটি ছোট। কিন্তু তাকে বাঁচিয়ে রাখার ব্যবস্থাটি অনেক বড়।

বন্ধু, খুলনা বন্ধুসভা

* মতামত লেখকের নিজস্ব

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
চট্টগ্রাম নগরে পর্যায়ক্রমে আরও সাইকেল ট্র্যাক হবে: অর্থমন্ত্রী
চট্টগ্রাম নগরে পর্যায়ক্রমে আরও সাইকেল ট্র্যাক হবে: অর্থমন্ত্রী

চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে আরও সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একইসঙ্গে নগরের খালগুলোর দুই পাড়ে হাঁটার পথ বা ওয়াকওয়ে তৈরির জন্য সিটি করপোরেশনকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

News অক্টোবর ৯, ২০২৬ 0
ডেঙ্গু চিকিৎসায় ঢাকামুখী হতে হবে না, উপজেলায় মিলছে সেবা: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

ডেঙ্গু চিকিৎসায় ঢাকামুখী হতে হবে না, উপজেলায় মিলছে সেবা: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে ‘বাংলাদেশি’ চিহ্নিত করে বহিষ্কার নয়: কলকাতা হাইকোর্ট

সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে ‘বাংলাদেশি’ চিহ্নিত করে বহিষ্কার নয়: কলকাতা হাইকোর্ট

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ৬ দফায় আটক ২ হাজার ২৮৭

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ৬ দফায় আটক ২ হাজার ২৮৭

0 Comments