জাতীয়

চ্যাটজিপিটি-জেমিনির লিমিট শেষ? ফ্রিতে ব্যবহারের কৌশল জানুন

News সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ 0
চ্যাটজিপিটি-জেমিনির লিমিট শেষ? ফ্রিতে ব্যবহারের কৌশল জানুন
চ্যাটজিপিটি-জেমিনির লিমিট শেষ? ফ্রিতে ব্যবহারের কৌশল জানুন

এআই এখন আর শুধু প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার প্রযুক্তি নয়। ছবি তৈরি, লেখা, অনুবাদ, গবেষণা, ভিডিও কিংবা নানা ধরনের কনটেন্ট তৈরিতে প্রতিদিনই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ছে। বিশেষ করে চ্যাটজিপিটি এবং জেমিনির মতো প্ল্যাটফর্মে ছবি তৈরি ও এডিট করার প্রবণতা বেড়েছে। তবে ফ্রি ব্যবহারকারীদের জন্য এসব পরিষেবায় নির্দিষ্ট ব্যবহারের সীমা রয়েছে।

ফলে দিনের মধ্যে একাধিকবার এআই দিয়ে ছবি তৈরি করতে গিয়ে হঠাৎ লিমিট শেষ হয়ে গেলে সমস্যায় পড়তে হয়। সাধারণত নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করলেই আবার পরিষেবা ব্যবহার করা যায়। তবে কাজ থামিয়ে রাখার প্রয়োজন নেই। কয়েকটি বিকল্প এআই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সেই সময়েও ছবি তৈরির কাজ চালিয়ে যেতে পারেন।

ছবি তৈরিতে কাজে আসবে একাধিক ফ্রি এআই টুল

চ্যাটজিপিটি-জেমিনির বিকল্প হিসেবে বেশ কিছু এআই ইমেজ জেনারেটর রয়েছে। প্রিচান্স এআই ইমেজ জেনারেটর, ওপেনআর্ট, ডিপআই এবং ফ্রিপিক এআই-এর মতো প্ল্যাটফর্মে ছবি তৈরির সুবিধা পাওয়া যায়। ওপেনআর্টের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সংখ্যক ছবি বিনামূল্যে তৈরি করার পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে তৈরি করা ছবিতে পরিবর্তনও আনা যায়। যেমন, ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড বদলানো বা নির্দিষ্ট অংশ এডিট করার মতো কাজ করা সম্ভব। অন্যদিকে ফ্রিপিকের এআই পরিষেবাতেও বিভিন্ন ধরনের মডেল ব্যবহার করে ছবি তৈরি করা যায়। তবে উন্নত কিছু ফিচার বা বেশি সংখ্যক জেনারেশনের ক্ষেত্রে ক্রেডিটের প্রয়োজন হতে পারে।

আরও পড়ুন

অফিসে সারাক্ষণ কম্পিউটারে কাজ, রুমের আলো কেমন হওয়া উচিত?

মাইক্রোসফট ডিজাইনার ও অ্যাডব ফায়ারফ্লাই-ও বিকল্প

এআই দিয়ে ছবি বানানোর জন্য মাইক্রোসফট ডিজাইনারও ব্যবহার করা যেতে পারে। এখানে ছবি তৈরি এবং এডিট দুই ধরনের কাজই করা যায়। তবে বিনামূল্যের ব্যবহারে নির্দিষ্ট ক্রেডিট বা সীমা থাকতে পারে। অ্যাডাব ফায়ারফ্লাইতেও সীমিত পরিমাণে বিনামূল্যে এআই ইমেজ জেনারেটরের সুবিধা পাওয়া যায়। ফলে অন্য কোনো প্ল্যাটফর্মের লিমিট শেষ হয়ে গেলে এটিও বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

যারা দ্রুত কোনো ছবি তৈরি করতে চান এবং আলাদা অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে অনিচ্ছুক, তাদের জন্য প্রিচান্স এআই ইমেজ জেনারেটর সুবিধাজনক হতে পারে। আর বিভিন্ন ধরনের আর্ট স্টাইল নিয়ে পরীক্ষা করতে চাইলে ডিপআই-এর ইমেজ জেনারেটর ব্যবহার করা যায়।

শুধু এআই টুল বদলালেই হবে না, দরকার ভালো প্রম্পট

এআই দিয়ে কাঙ্ক্ষিত ছবি পেতে প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি প্রম্পটের মানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু ‘একটি সুন্দর ছবি তৈরি করো’ লিখলে এআই আপনার চাহিদা অনুযায়ী ছবি নাও বানাতে পারে। ভালো ফল পেতে প্রম্পটে ছবির বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন। এর সঙ্গে পরিবেশ কেমন হবে, আলো কোন দিক থেকে আসবে, ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল কী হবে, ছবির অনুপাত কত হবে এবং কোন ধরনের ভিজ্যুয়াল স্টাইল চান এসব তথ্য দেওয়া উচিত।

ধরা যাক, আপনি কোনো শহরের রাতের দৃশ্য তৈরি করতে চান। সেক্ষেত্রে শুধু ‘রাতের শহরের ছবি তৈরি করো’ না লিখে শহরের রাস্তা, যানবাহন, নিয়ন আলো, বৃষ্টিভেজা পরিবেশ, ক্যামেরার অবস্থান, রিয়েলিস্টিক বা সিনেম্যাটিক স্টাইল এবং ১৬:৯ রেশিও-এর মতো তথ্য যোগ করলে এআই অনেক বেশি নির্দিষ্ট ফল দিতে পারবে। প্রম্পটে একইসঙ্গে ছবিতে কী রাখতে চান এবং কোন বিষয়গুলো একেবারেই রাখতে চান না, সেটিও জানানো যেতে পারে।

চ্যাটজিপিটির ইমেজ জেনারেটর লিমিট শেষ হলে কী করবেন?

চ্যাটজিপিটির ফ্রি ব্যবহারে শুধু টেক্সড কনভার্সেশন নয়, ইমেজ জেনারেটর, ফাইল আপলোড কিংবা ডাটা এনালাইসিসের মতো পরিষেবার ক্ষেত্রেও ব্যবহারের সীমা থাকতে পারে। নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করলে আবার ব্যবহারের সুযোগ ফিরে না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।

তবে জরুরি কাজ থাকলে অন্য এআই পরিষেবায় চলে যাওয়া যায়। ছবির জন্য মাইক্রোসফট ডিজাইনার, অ্যাডোবি ফায়ারফ্লাই, ওপেনআর্ট কিংবা ডিপএআই-এর মতো প্ল্যাটফর্ম পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। একইভাবে কাজের ধরন অনুযায়ী জেমিনি, কোপাইলটের মতো অন্য এআই পরিষেবাও ব্যবহার করা সম্ভব।

আরও পড়ুন

সার্চ ইঞ্জিনে ছড়িয়ে পড়েছে ‘বিষক্রিয়া’, ব্যাপারটা কী?

জেমিনির লিমিট শেষ হলে যা করবেন-

জেমিনিতেও ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে। কোন মডেল, কোন ফিচার এবং কী ধরনের প্রম্পট ব্যবহার করছেন, তার ওপর ব্যবহারের সুযোগ পরিবর্তিত হতে পারে। সীমা শেষ হয়ে গেলে সাধারণত নির্দিষ্ট সময় পর সেটি আবার রিফ্রেশ হয়।

এই পরিস্থিতিতে বিকল্প কোনো এআই ইমেজ জেনারেটর ব্যবহার করাই সহজ সমাধান। তবে নতুন প্ল্যাটফর্মে যাওয়ার পর একই প্রম্পট হুবহু বারবার ব্যবহার করার বদলে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাগুলো পরিষ্কারভাবে সাজিয়ে দেওয়া ভালো।

কেএসকে

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
ধলেশ্বরী নদীতে ১ লাখ পোনা অবমুক্ত 
ধলেশ্বরী নদীতে ১ লাখ পোনা অবমুক্ত 

দেশীয় মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়াতে কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে ধলেশ্বরী নদীতে এক লাখ পোনা মাছ অবমুক্ত করা হয়েছে।

News অক্টোবর ৮, ২০২৬ 0
বিপর্যস্ত হচ্ছে সৌদি আরব

বিপর্যস্ত হচ্ছে সৌদি আরব

কেরানীগঞ্জে আবুল কাশেম মার্কেটে আগুন, এক ঘণ্টায় নিয়ন্ত্রণে

কেরানীগঞ্জে আবুল কাশেম মার্কেটে আগুন, এক ঘণ্টায় নিয়ন্ত্রণে

সাবেক এমপি রেজাউল হকের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

সাবেক এমপি রেজাউল হকের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

বিএনপির নেতার বক্তব্যের মধ্যে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান
বিএনপির নেতার বক্তব্যের মধ্যে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান

বরগুনার আমতলী উপজেলায় নবীনবরণ অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. জালাল উদ্দিন ফকিরের বক্তব্যের মধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থী ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

News অক্টোবর ৮, ২০২৬ 0
ইরানের সঙ্গে চুক্তি করা পছন্দের নয়: ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে চুক্তি করা পছন্দের নয়: ট্রাম্প

গ্রাহ‌কদের ৮ কো‌টি টাকা আত্মসাৎ, অগ্রণী ব্যাংকের ৬ কর্মকর্তা আটক 

গ্রাহ‌কদের ৮ কো‌টি টাকা আত্মসাৎ, অগ্রণী ব্যাংকের ৬ কর্মকর্তা আটক 

কুড়িগ্রামে সব সড়কে অটোরিকশা চলাচলের অনুমতির দাবিতে অবরোধ

কুড়িগ্রামে সব সড়কে অটোরিকশা চলাচলের অনুমতির দাবিতে অবরোধ

0 Comments