জাতীয়

চর জাগে-বসতি গড়ে, ভোগান্তি কাটে না ৩০ হাজার মানুষের

News সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ 0
চর জাগে-বসতি গড়ে, ভোগান্তি কাটে না ৩০ হাজার মানুষের
চর জাগে-বসতি গড়ে, ভোগান্তি কাটে না ৩০ হাজার মানুষের

নদী ভাঙে, চর জাগে- আর সেই চরে গড়ে ওঠে নতুন বসতি। যমুনার ভাঙন-বন্যার সঙ্গে বছরের পর বছর লড়াই করে টিকে আছেন জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষ। বর্ষায় ভাঙন ও বন্যার আতঙ্ক, আর পানি কমলেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতাসহ নিত্যদিনের দুর্ভোগ-এভাবেই চলছে তাদের জীবন।

যমুনার বুকের এসব দুর্গম চরে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের বসবাস। স্বাধীন দেশের নাগরিক হয়েও তারা এখনো নাগরিক জীবনের ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। স্থায়ী স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা নেই, পর্যাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই, এমনকি উপজেলা সদরের সঙ্গে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থাও গড়ে ওঠেনি। ফলে প্রকৃতির প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াইয়ের পাশাপাশি মৌলিক নাগরিক সুবিধা পেতেও প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হচ্ছে তাদের।

চিকিৎসা পেতে পাড়ি দিতে হয় উত্তাল যমুনা

চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগের সবচেয়ে বড় চিত্র দেখা যায় স্বাস্থ্যসেবায়। সাপধরী ও চিনাডুলী ইউনিয়নের দুর্গম চরাঞ্চলে রয়েছে মাত্র দুটি কমিউনিটি ক্লিনিক। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্র নিয়মিত খোলা পাওয়া যায় না। ফলে অসুস্থ হলে চরবাসীর শেষ ভরসা হয়ে দাঁড়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

‘চরাঞ্চলে পাঠদান ও চিকিৎসাসেবা নিয়ে আমাদের কাছে ইতোমধ্যে বিভিন্ন অভিযোগ এসেছে। বিষয়গুলো আমরা নিয়মিত মনিটরিং করছি, যাতে চরাঞ্চলের মানুষ তাদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা পান।’

চিকিৎসার জন্য উপজেলা সদরে যেতে হলে অনেক ক্ষেত্রেই নৌকায় যমুনা পাড়ি দিতে হয়। নদীতে পানি বাড়লে স্রোত ও ঢেউয়ের সঙ্গে বাড়ে ঝুঁকি। আর রাতে জরুরি রোগী নিয়ে যাত্রা হলে দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুন

ঝোপঝাড়ে বিলীন সোয়া কোটি টাকার সড়ক

প্রসূতি মায়েদের জন্য প্রতিটি যাত্রাই ঝুঁকিপূর্ণ

চরাঞ্চলের স্বাস্থ্য সংকট সবচেয়ে ভয়াবহ হয়ে ওঠে প্রসূতি মায়েদের ক্ষেত্রে। প্রসববেদনা উঠলে উত্তাল যমুনা পাড়ি দিয়ে নৌকায় করে হাসপাতালে যেতে হয়। রাতের অন্ধকার, নদীর ঢেউ ও দীর্ঘ পথ, সব মিলিয়ে প্রতিটি যাত্রাই হয়ে ওঠে জীবন-মৃত্যুর লড়াই।

সময়মতো চিকিৎসা কেন্দ্রে পৌঁছাতে না পারলে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থাকে। দুর্গম চরাঞ্চলে জরুরি স্বাস্থ্যসেবার বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় অসুস্থ রোগী ও স্বজনদের নির্ভর করতে হয় নদীপথের ওপর।

‘উপজেলা সদর থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন সাপধরীর দুর্গম চরাঞ্চল। চরবাসীর শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের আরও কার্যকর সহযোগিতা প্রয়োজন।’

এরই বাস্তবচিত্র দেখা যায় চর শিশুয়া গ্রামের আকলিমা বেগমের ক্ষেত্রে। ১০ মাস বয়সের অসুস্থ শিশুকে নিয়ে কমিউনিটি ক্লিনিকে এসে সেটি বন্ধ দেখতে পান তিনি। চিকিৎসা না পেয়েই শিশুকে নিয়ে ফিরে যেতে হয় তাকে। দুর্গম চরে বিকল্প চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় উপজেলা হাসপাতালই তাদের শেষ আশ্রয়।

বিদ্যালয় আছে, নিয়মিত পাঠদান নিয়ে প্রশ্ন

শুধু চিকিৎসা নয়, শিক্ষাতেও পিছিয়ে রয়েছে চরাঞ্চলের শিশুরা। দুর্গম এলাকাগুলোতে রয়েছে কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাত্র একটি উচ্চ বিদ্যালয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোথাও বিদ্যালয় ভবন থাকলেও নিয়মিত পাঠদান হয় না।

শিক্ষকদের অনিয়মিত উপস্থিতি, যোগাযোগ সংকট এবং অভিভাবকদের অসচেতনতার কারণে দিন দিন শিক্ষার প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে শিশুরা। নদীর পানি কমে গেলে অনেক চর কার্যত আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়ের বিদ্যালয়ে যাতায়াত কঠিন হয়ে ওঠে।

‘ইউনিয়নজুড়ে দুটি কমিউনিটি ক্লিনিক থাকলেও মাসে এক-দুদিন স্বাস্থ্যকর্মীদের দেখা যায়। অধিকাংশ সময়ই ক্লিনিক বন্ধ থাকে। ফলে চিকিৎসা নিতে আমাদের উপজেলা সদরে যেতে হয়।’

চরাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত পাঠদান না হওয়ায় অনেক পরিবার সন্তানদের বিকল্প শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করছেন।

স্থানীয়রা জানান, সাধারণ বিদ্যালয়ে পড়াশোনার পরিবেশ ও নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত না হওয়ায় অভিভাবকদের একটি অংশ সন্তানদের মাদরাসায় ভর্তি করছেন।

আরও পড়ুন

ম্যানগ্রোভ বন ঘেঁষে রেস্তোরাঁ নির্মাণ, হুমকিতে গঙ্গামতির জীববৈচিত্র্য

এতে চরাঞ্চলের শিশুদের শিক্ষাজীবনে বৈষম্য আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দুর্গম এলাকার শিশুদের জন্য শুধু বিদ্যালয় ভবন নয়, নিয়মিত শিক্ষক উপস্থিতি, পাঠদান ও শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

যোগাযোগ সংকটে থমকে যায় স্বাভাবিক জীবন

চরাঞ্চলের মানুষের প্রায় সব ধরনের নাগরিক সেবার জন্য উপজেলা সদরের ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু দুর্গম চরগুলো থেকে উপজেলা সদরে যাতায়াত সহজ নয়। নৌপথনির্ভর যোগাযোগের কারণে বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমে দুর্ভোগের ধরন বদলালেও সংকট থেকে যায়।

জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়া, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত কিংবা সরকারি সেবা নিতে উপজেলা সদরে যাওয়ার ক্ষেত্রে চরবাসীকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। নদীর পানি ও আবহাওয়ার ওপর যোগাযোগ অনেকটা নির্ভরশীল হওয়ায় জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়ে।

উন্নয়নের মূল স্রোত থেকে কতটা দূরে চরবাসী

প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে যমুনার বুকে বসতি গড়ে তোলা মানুষগুলো প্রতিকূলতার সঙ্গে অনেকটাই অভ্যস্ত। নদীভাঙনে ঘর হারান, বন্যায় ফসল হারান, আবার নতুন চরে নতুন করে জীবন শুরু করেন। কিন্তু প্রকৃতির এই লড়াইয়ের পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসা ও যোগাযোগের মতো মৌলিক অধিকার পেতেও যদি প্রতিদিন তাদের যুদ্ধ করতে হয়, তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়-উন্নয়নের মূল স্রোত থেকে তারা কতটা দূরে।

চরবাসীর দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, দুর্গম চরাঞ্চলে স্থায়ীভাবে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। কমিউনিটি ক্লিনিক নিয়মিত চালু রাখা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা এবং উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। যমুনার বুকের এসব মানুষের চাওয়া-দয়া না, তারা চান ন্যায্য নাগরিক অধিকার।

সাপধরী মন্ডলপাড়া গ্রামের আমিনুর ইসলাম বলেন, ইউনিয়নজুড়ে দুটি কমিউনিটি ক্লিনিক থাকলেও মাসে এক-দুদিন স্বাস্থ্যকর্মীদের দেখা যায়। অধিকাংশ সময়ই ক্লিনিক বন্ধ থাকে। ফলে চিকিৎসা নিতে আমাদের উপজেলা সদরে যেতে হয়।

সাপধরী এলাকার আব্দুল হাকিম প্রামাণিক বলেন, বিদ্যালয় ভবন থাকলেও অনেক শিক্ষক নদী পার হয়ে নিয়মিত আসতে চান না। ফলে শিক্ষার্থীরাও স্কুলমুখী হতে চায় না। বিশেষ করে নদীর পানি কমে গেলে যোগাযোগ সংকট আরও বেড়ে যায়। বিদ্যালয়ে পড়াশোনা কম হওয়ায় অনেক অভিভাবক সন্তানদের মাদরাসায় ভর্তি করছেন।

একই এলাকার আবেদ আকন্দ বলেন, চরাঞ্চলের মানুষ যেন অবহেলিত। মনে হয় তারা এ দেশের নাগরিক না। তা না হলে শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো মৌলিক সেবা এত দুর্বল থাকার পরও কেন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

আরও পড়ুন

রাবির প্লাজমা প্রযুক্তিতে ধান-আলু-বেগুনে জিংক বাড়েছে ৫৯-২০৪ শতাংশ

সাপধরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আলম মন্ডল বলেন, উপজেলা সদর থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন সাপধরীর দুর্গম চরাঞ্চল। চরবাসীর শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের আরও কার্যকর সহযোগিতা প্রয়োজন।

ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ মো. জুবায়ের বলেন, চরাঞ্চলে পাঠদান ও চিকিৎসাসেবা নিয়ে আমাদের কাছে ইতোমধ্যে বিভিন্ন অভিযোগ এসেছে। বিষয়গুলো আমরা নিয়মিত মনিটরিং করছি, যাতে চরাঞ্চলের মানুষ তাদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা পান।

তিনি আরও বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আলাদাভাবে দেওয়ার মতো সুযোগ-সুবিধা সীমিত। কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো পদক্ষেপ বা উদ্যোগ নেওয়া হলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

এনএইচআর/এএসএম

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
‘চীনের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি আছে?’, যুক্তরাষ্ট্রকে প্রশ্ন উত্তর কোরিয়ার
‘চীনের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি আছে?’, যুক্তরাষ্ট্রকে প্রশ্ন উত্তর কোরিয়ার

তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রি ও সামরিক সহায়তা দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনা করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ-এর বিশ্লেষণমূলক এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানে অস্ত্র সরবরাহের মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলছে।

News অক্টোবর ৭, ২০২৬ 0
ছোট পর্দায় অভিষেক নীহা চৌধুরীর

ছোট পর্দায় অভিষেক নীহা চৌধুরীর

হাম ও উপসর্গে একদিনে মৃত্যু ৬

হাম ও উপসর্গে একদিনে মৃত্যু ৬

অণুর আচরণ নিয়ন্ত্রণ ও স্ব-অনুঘটন গবেষণায় রসায়নে নোবেল পেলেন ২ জন

অণুর আচরণ নিয়ন্ত্রণ ও স্ব-অনুঘটন গবেষণায় রসায়নে নোবেল পেলেন ২ জন

প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য মনোনীত যবিপ্রবির ১৬ শিক্ষার্থী
প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য মনোনীত যবিপ্রবির ১৬ শিক্ষার্থী

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) বিভিন্ন বিভাগের ১৬ শিক্ষার্থী ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’ ২০১৯, ২০২০ ও ২০২১-এর জন্য মনোনীত হয়েছেন।

News অক্টোবর ৭, ২০২৬ 0
র‍্যাংকিংয়ে সেরা দশে মাহাদী ও নাসুম

র‍্যাংকিংয়ে সেরা দশে মাহাদী ও নাসুম

গণমাধ্যমের অধিকার ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতের দাবি বিএনসিইউ’র

গণমাধ্যমের অধিকার ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতের দাবি বিএনসিইউ’র

কুবির ১৬ শিক্ষার্থী পেলেন প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক

কুবির ১৬ শিক্ষার্থী পেলেন প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক

0 Comments