জাতীয়

বিপদ বাড়াচ্ছে ‘কালো সোনা’

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
বিপদ বাড়াচ্ছে ‘কালো সোনা’
বিপদ বাড়াচ্ছে ‘কালো সোনা’

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ‘গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল’ একসময় ছিল বিশ্বের অন্যতম বড় আফিম উৎপাদনকেন্দ্র। মিয়ানমার, লাওস ও থাইল্যান্ডের সীমান্তবর্তী পাহাড়ি বনাঞ্চল নিয়ে গঠিত এই এলাকায় একসময় বিপুল পরিমাণ আফিম উৎপাদন হতো। মাদক ব্যবসায়ীরা আফিমের কাঁচা রসকে বলত ‘কালো সোনা’। পরিশোধনের পর এই আফিম থেকেই তৈরি হয় হেরোইন।

১৯৯০-এর দশকে বিশ্বের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আফিমগাছ এই অঞ্চলে পাওয়া যেত। তবে সরকারি দমন অভিযানসহ নানা কারণে পরে উৎপাদন কমে আসে। ২০০৬ সালের মধ্যে বিশ্বের অবৈধ আফিম উৎপাদনে গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেলের অংশ নেমে এসেছিল প্রায় পাঁচ শতাংশে।

কিন্তু এখন পরিস্থিতি আবার বদলেছে। বিশেষ করে, মিয়ানমারে নতুন করে বাড়ছে আফিম চাষ।

আরও পড়ুন

পপি চাষে আফগানিস্তানের স্থান দখল করছে মিয়ানমার

জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক কার্যালয় (ইউএনওডিসি) বলছে, মিয়ানমার বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় পরিচিত অবৈধ আফিমের উৎস। দেশটির পূর্বাঞ্চলের শান রাজ্যে সবচেয়ে বেশি পপি চাষ হচ্ছে।

আফগানিস্তানে নিষেধাজ্ঞা, মিয়ানমারে বাড়ছে দাম

মিয়ানমারে আফিমের ব্যবসা বাড়ার পেছনে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিরও ভূমিকা রয়েছে।

বিশ্বের আরেক বড় আফিম উৎপাদক আফগানিস্তান। ১৯৯০-এর দশক থেকে দেশটির তালেবান সরকার পপি চাষ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন নীতি নিয়েছে।

কখনো শিল্পটিকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিও দেওয়া হয়েছিল। তবে ২০২১ সালে তালেবান আবার পুরোপুরি ক্ষমতায় ফেরার পর পপি চাষ নিষিদ্ধ করে।

আরও পড়ুন

জাতিসংঘের রিপোর্ট / আফগানিস্তানকে টপকে বিশ্বের শীর্ষ আফিম উৎপাদক এখন মিয়ানমার

এর ফলে আফিমের বৈশ্বিক সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। মিয়ানমারের কৃষকেরা এখন পপি চাষ করে আগের তুলনায় বেশি দাম পাচ্ছেন।

ইউএনওডিসির কর্মকর্তা জেরেমি ডগলাসের মতে, এর সঙ্গে দারিদ্র্যের বিষয়টিও গভীরভাবে জড়িত।

গৃহযুদ্ধে বিপর্যস্ত মিয়ানমার

মিয়ানমারে পাঁচ বছর আগে সামরিক অভ্যুত্থানের পর শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই সংঘাতে প্রায় ৫২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। নিহত হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ।

দেশটির অর্ধেক মানুষ এখন দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করছে। ২০১৭ সালে এই হার ছিল প্রায় অর্ধেকের কম।

আরও পড়ুন

তালেবানের কড়াকড়িতে আফগানিস্তানে আফিম উৎপাদন কমেছে ৯৫ শতাংশ

এমন পরিস্থিতিতে কৃষকদের কাছে আফিম চাষ আবারও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। ইউএনওডিসির তথ্য অনুযায়ী, গত বছর মিয়ানমারে পপি চাষের জমির পরিমাণ ১৭ শতাংশ বেড়ে এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

ভারতের দিকেও ছড়াচ্ছে পপি চাষ

মিয়ানমারের প্রতিবেশী দেশগুলোও এমন পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের চিন রাজ্যে পপি চাষের জমি বাড়ছে। এই রাজ্যের সীমান্ত রয়েছে ভারতের মণিপুর ও মিজোরামের সঙ্গে।

আরও পড়ুন

মিয়ানমারে বিদ্রোহীদের সংঘর্ষে ভারতে শরণার্থীর ঢল

মণিপুরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং পরিস্থিতিকে ‘গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেলের ভারতের দিকে সরে আসা’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এই সমস্যা মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি।

থাইল্যান্ডেও বাড়ছে মাদক পাচার

থাইল্যান্ডও মিয়ানমারে আফিম উৎপাদন বৃদ্ধিতে উদ্বিগ্ন। মাদক পাচারকারীরা থাইল্যান্ডের তুলনামূলক ভালো সড়কব্যবস্থা ব্যবহার করে মাদক পরিবহন করে থাকে।

সীমান্তবর্তী কয়েকটি থাই শহরে পাঁচ বছরে মাদক ব্যবহারের হার তিনগুণ হয়েছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত আফিমের সরবরাহ বাড়াও এর একটি কারণ।

গত আগস্টে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের প্রধান মিন অং হ্লাইং থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যাংককে বৈঠক করেন।

২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর এটিই ছিল দুই দেশের নেতাদের প্রথম বৈঠক। বৈঠকে মাদক সমস্যা মোকাবিলায় যৌথ প্রচেষ্টা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হন তারা।

বিকল্প ফসল চাষের উদ্যোগ

মিয়ানমারের পপি চাষ কমাতে থাই বিশেষজ্ঞরা ইউএনওডিসির সঙ্গে কাজ করছেন। এর মধ্যে অন্যতম কৌশল হলো পপি চাষের পরিবর্তে বিকল্প অর্থকরী ফসল উৎপাদনে কৃষকদের উৎসাহিত করা।

এ ক্ষেত্রে কৃষকদের পপি চাষ ছেড়ে ফলসহ অন্যান্য অর্থকরী ফসল চাষে অর্থসহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

শান রাজ্যের রাজধানী তাউংগির আশপাশের গ্রামগুলোতে কফি উৎপাদনে সহায়তা করছে ইউএনওডিসি। ইউএনওডিসির জেরেমি ডগলাস বলছেন, জাতিসংঘ যেখানে কাজ করার সুযোগ পেয়েছে, সেখানে এই কর্মসূচি সফল হয়েছে। তবে বড় পরিসরে তা বাস্তবায়ন করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

জান্তার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন

মিয়ানমারের জান্তা সরকার আফিম ব্যবসা দমনে আদৌ আন্তরিক কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আফিমের ব্যবসা থেকে লাভবান হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন

চীনের সহায়তায় হারানো এলাকা পুনর্দখলে নিচ্ছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী

এ ছাড়া দেশটির সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ জান্তা ও বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে বিভক্ত। কিছু গোষ্ঠী সামরিক জান্তার মিত্র। আবার কিছু গোষ্ঠী জান্তার বিরুদ্ধে লড়াই করছে।

ফলে পপি চাষ বন্ধে অভিযান চালানো আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

কৃষকের কাছে আফিমই বেশি লাভজনক

দারিদ্র্যের পাশাপাশি অর্থনৈতিক হিসাবও কৃষকদের পপি চাষে উৎসাহিত করছে। অনেক কৃষকের কাছে অন্য ফসলের তুলনায় আফিম বেশি নির্ভরযোগ্য আয়ের উৎস।

এক হেক্টর জমিতে উৎপাদিত শুকনো আফিমের আয় কয়েক ধরনের কফি চাষের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি। তাই শুধু নিষেধাজ্ঞা দিয়ে এই চাষ বন্ধ করা কঠিন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

থাইল্যান্ডে ১৯৫৮ সালে আফিম চাষ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। দেশটির পাহাড়ি এলাকা থেকে পপি চাষ পুরোপুরি সরাতে প্রায় পাঁচ দশক সময় লেগেছে। সে সময় থাইল্যান্ডে ছিল শান্তি ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা।

মিয়ানমারের বাস্তবতা এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন। দেশটিতে একদিকে গৃহযুদ্ধ, অন্যদিকে ব্যাপক দারিদ্র্য। এমন পরিস্থিতিতে গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেলে ‘কালো সোনা’র চাষ আবারও বাড়ছে। আর তাতে বিপদ বাড়ছে প্রতিবেশী দেশগুলোসহ গোটা বিশ্বের।

সূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট
কেএএ/

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
বাংলাদেশি পণ্য ও দক্ষ জনশক্তি নিতে আলজেরিয়ার প্রতি আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
বাংলাদেশি পণ্য ও দক্ষ জনশক্তি নিতে আলজেরিয়ার প্রতি আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো জোরদার করার সুযোগ রয়েছে। আলজেরিয়া বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক ও ফার্মাসিউটিক্যালস পণ্য আমদানি বাড়াতে পারে।”

News অক্টোবর ৫, ২০২৬ 0
ঢাবির আন্তঃবিভাগ নীতি বিতর্কে চ্যাম্পিয়ন পিএসিএসডিসি

ঢাবির আন্তঃবিভাগ নীতি বিতর্কে চ্যাম্পিয়ন পিএসিএসডিসি

তুরস্কের সঙ্গে এফটিএ আলোচনা এগিয়ে নিতে চান বাণিজ্যমন্ত্রী

তুরস্কের সঙ্গে এফটিএ আলোচনা এগিয়ে নিতে চান বাণিজ্যমন্ত্রী

তৃণমূলে ফিরতে ১৫ দিনের আল্টিমেটাম মমতার

তৃণমূলে ফিরতে ১৫ দিনের আল্টিমেটাম মমতার

চার দাবিতে প্রেসক্লাবের সামনে উর্দুভাষীদের বিক্ষোভ
চার দাবিতে প্রেসক্লাবের সামনে উর্দুভাষীদের বিক্ষোভ

চার দফা দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন দেশে বসবাসরত উর্দুভাষী বা ‘আটকে পড়া পাকিস্তানি’ জনগোষ্ঠীর অধিকারভিত্তিক সংগঠন সোসাইটি ফর পিস, গ্রোথ অ্যান্ড রিফর্ম কাউন্সিলের (এসপিজিআরসি) নেতাকর্মী ও ক্যাম্পবাসীরা।

News অক্টোবর ৫, ২০২৬ 0
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত জবি শিক্ষার্থীর পাশে ছাত্রদল আহ্বায়ক

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত জবি শিক্ষার্থীর পাশে ছাত্রদল আহ্বায়ক

গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে হবে বিরোধী দলকে: ডেপুটি স্পিকার

গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে হবে বিরোধী দলকে: ডেপুটি স্পিকার

গোপালগঞ্জে বাসচাপায় স্বামী-স্ত্রী নিহত

গোপালগঞ্জে বাসচাপায় স্বামী-স্ত্রী নিহত

ফাইভ স্টার হোটেলে কর্মপরিকল্পনা করে নারীর সমতা আসবে না: ইসি তাহমিদা
ফাইভ স্টার হোটেলে কর্মপরিকল্পনা করে নারীর সমতা আসবে না: ইসি তাহমিদা

নারীর প্রকৃত সমতা ও অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হলে তৃণমূল ও মাঠপর্যায়ে সরাসরি কাজ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) তাহমিদা আহমদ।

News অক্টোবর ৫, ২০২৬ 0
জুলাই ওয়ারিয়র্স এলায়েন্সের নেতৃত্বে সালমান-জিসান

জুলাই ওয়ারিয়র্স এলায়েন্সের নেতৃত্বে সালমান-জিসান

লাগেজ চুরি ঠেকাতে লাইভ সিসিটিভির দাবিতে নোটিশ

লাগেজ চুরি ঠেকাতে লাইভ সিসিটিভির দাবিতে নোটিশ

ইনুর মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল

ইনুর মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল

0 Comments