বিচার বিভাগের স্বাধীনতা শুধু একজন বিচারকের ভয়, পক্ষপাত, চাপ বা হস্তক্ষেপমুক্ত থেকে মামলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বলে মনে করেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। তিনি বলেছেন, এই স্বাধীনতা টেকসই করতে প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিচার বিভাগের প্রয়োজনীয় কাঠামো, সক্ষমতা ও স্বায়ত্তশাসন থাকতে হবে।
আজ মঙ্গলবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক আইন বক্তৃতায় সৈয়দ রেফাত আহমেদ এ কথা বলেন। এতে মূল বক্তা ছিলেন তিনি। তাঁর বক্তব্যের শিরোনাম ‘বিয়ন্ড জুডিশিয়াল ইনডিপেনডেন্টস: কনস্টিটিউশনাল আইডেনটিটি অ্যান্ড দ্য কোয়েস্ট ফর ইনস্টিটিউশনাল অটোনমি ইন বাংলাদেশ’। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ এই বক্তৃতার আয়োজন করে।
প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী বক্তৃতায় সৈয়দ রেফাত আহমেদ বাংলাদেশের সাংবিধানিক পরিচয় ও ইতিহাস, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক পরিবর্তন, বিচার বিভাগীয় সংস্কার, জবাবদিহি, প্রাতিষ্ঠানিক স্মৃতি ও ধারাবাহিকতা নিয়ে আলোচনা করেন।
সৈয়দ রেফাত আহমেদ আরও বলেন, সাংবিধানিক সরকারব্যবস্থার জন্য বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অপরিহার্য। তবে বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে শুধু বিচারিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বাইরের হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত থাকার অর্থে দেখলে হবে না। সাংবিধানিক স্বাধীনতা তখনই টেকসই হয়, যখন বিচারিক ক্ষমতার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের সেই স্বাধীনতা ধরে রাখার মতো প্রয়োজনীয় কাঠামো, সক্ষমতা ও স্বায়ত্তশাসন থাকে।
বিচারকের স্বাধীনতা ও বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতার মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরে সাবেক এই প্রধান বিচারপতি বলেন, একজন বিচারক স্বাধীন হতে পারেন, অথচ প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিচারবিভাগ পুরোপুরি স্বায়ত্তশাসিত না–ও হতে পারে। বিচার বিভাগে নিয়োগ যদি বাইরের কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পছন্দের ওপর নির্ভরশীল থাকে, বিচার বিভাগের প্রশাসন যদি কাঠামোগতভাবে অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়, আর্থিক ব্যবস্থাপনা যদি বিচার বিভাগের পরিকল্পনাকে অন্য একটি রাষ্ট্রীয় অঙ্গের ওপর নির্ভরশীল করে ফেলে, তাহলে শুধু বিচারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা পুরো সাংবিধানিক দায়িত্ব বহন করতে পারে না।
সৈয়দ রেফাত আহমেদের মতে, প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসন বলতে এমন কাঠামো, কর্তৃত্ব ও বাস্তব সক্ষমতাকে বোঝায়, যার মাধ্যমে বিচার বিভাগ বিচারিক ক্ষমতার সংরক্ষণ ও প্রয়োগের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত বিষয়গুলো পরিচালনা করতে পারে।
তবে প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসনকে প্রাতিষ্ঠানিক বিচ্ছিন্নতার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা যাবে না বলে সতর্ক করেন সৈয়দ রেফাত আহমেদ। তাঁর ভাষায়, একটি স্বায়ত্তশাসিত বিচার বিভাগ এমন হতে পারে না, যাকে কারও কাছে জবাবদিহি করতে হবে না। স্বাধীনতার সঙ্গে সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সমন্বয় থাকতে হবে। বিচার বিভাগের জবাবদিহি হতে হবে রাজনৈতিক ক্ষমতার কাছে নয়, আইনের কাছে।
বাংলাদেশের সাংবিধানিক পরিচয় প্রসঙ্গে সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে সাংবিধানিক আদর্শের অভাব খুব কমই ছিল। কিন্তু বারবার যে সমস্যা দেখা দিয়েছে, তা হলো এসব আদর্শকে স্থায়ীভাবে বাস্তবে রূপ দেওয়ার মতো যথেষ্ট স্বাধীন, দৃঢ় ও সক্ষম প্রতিষ্ঠান তৈরি করা যায়নি। তিনি বলেন, রাজনৈতিক বয়ান দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। কিন্তু প্রতিষ্ঠান একইভাবে দ্রুত তৈরি করা যায় না। প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে ধৈর্য, ধারাবাহিকতা, নিয়ম, সংযম, স্মৃতি এবং সর্বোপরি এই গ্রহণযোগ্যতা প্রয়োজন, কখনো কখনো একটি প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিকভাবে বৈধতা পাওয়া ব্যক্তিকেও ‘না’ বলতে হতে পারে।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনাকে ‘সাংবিধানিক মুহূর্ত’ হিসেবে উল্লেখ করে সাবেক প্রধান বিচারপতি বলেন, ওই সময় সাংবিধানিক অঙ্গীকার ও প্রাতিষ্ঠানিক বাস্তবতার মধ্যে যে দূরত্ব তৈরি হতে পারে, তা সামনে এসেছিল। একই সঙ্গে এমন প্রতিষ্ঠান তৈরির সুযোগ তৈরি হয়েছিল, যাতে সাংবিধানিক মূল্যবোধ সাময়িকভাবে ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের পছন্দ-অপছন্দের ওপর নির্ভরশীল না থাকে। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের পরিবর্তনের পর প্রশ্নটি শুধু ছিল না—কে ভিন্নভাবে ক্ষমতা প্রয়োগ করবে। আরও কঠিন প্রশ্ন ছিল, ক্ষমতাকেই কীভাবে আরও টেকসই প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা যায়।
বিচার বিভাগীয় সংস্কারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেন, তিনি প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে শুধু সাংবিধানিক ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবে টেকসই করার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা প্রয়োজন বলে মনে করেছিলেন। এ প্রেক্ষাপটে তিনি বিচার বিভাগ ও সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
সাবেক প্রধান বিচারপতি বলেন, তিনি ওই সচিবালয়কে শুধু প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস হিসেবে দেখেননি; বরং অর্থবহ বিচারিক স্বাধীনতার দিকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখেছিলেন। বিচারক নিয়োগের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের বৈধতা টিকে থাকতে হলে নিয়োগপ্রক্রিয়া হতে হবে মেধা, সততা, দক্ষতা ও স্বচ্ছ মানদণ্ডের ভিত্তিতে; ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে নয়।
তবে স্বায়ত্তশাসনের সঙ্গে সততা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন সৈয়দ রেফাত আহমেদ। তাঁর ভাষ্য, স্বাধীনতা কখনো অদক্ষতা, দুর্নীতি বা স্বেচ্ছাচারী প্রাতিষ্ঠানিক আচরণের ঢাল হতে পারে না। জবাবদিহি থাকতে হবে, তবে সেই জবাবদিহির মানদণ্ড ও প্রক্রিয়াও হতে হবে আইনসম্মত, স্বচ্ছ এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের স্থায়িত্বের ওপর গুরুত্ব দিয়ে সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেন, কোনো সংস্কার যদি শুধু একজন সংস্কারকের মেয়াদকাল পর্যন্ত টিকে থাকে, তাহলে সেটি প্রকৃত প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার নয়; সেটি সাময়িক প্রশাসন। তাঁর মতে, চূড়ান্ত লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন ব্যবস্থা তৈরি করা, যা নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের পরও টিকে থাকবে। এর মাধ্যমে এমন একটি ‘শুভচক্র’ তৈরি হবে, যা নিজেই নিজের স্থায়িত্বের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি তৈরি করবে।
সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেন, একটি রাষ্ট্রকে প্রতি পাঁচ বছর পরপর নতুন করে গড়ে তোলা যায় না। রাজনৈতিক ক্ষমতা যখনই এক হাত থেকে অন্য হাতে যায়, তখন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও নতুন করে উদ্ভাবন করা যায় না। প্রতিষ্ঠানের স্মৃতির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, আদালতের স্মৃতি থাকে, সংসদের স্মৃতি থাকে, সরকারি প্রশাসন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোরও স্মৃতি থাকে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলো যখন বারবার রাজনৈতিকীকরণের শিকার হয়, পাশ কাটিয়ে যাওয়া হয়, অধীনস্থ করা হয় অথবা একের পর এক দায়িত্বশীল ব্যক্তির পছন্দ-অপছন্দকে কেন্দ্র করে পুনর্গঠন করা হয়, তখন সেই প্রাতিষ্ঠানিক স্মৃতি হারিয়ে যায়।
বক্তৃতার শেষ অংশে সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেন, সাংবিধানিকতার স্থায়িত্ব নির্ভর করবে শুধু কতবার সাংবিধানিক আদর্শ ঘোষণা করা হলো, তার ওপর নয়; বরং সেই আদর্শ সংরক্ষণ করতে সক্ষম প্রতিষ্ঠান কতটা গড়ে তোলা যায়, তার ওপর। তিনি বলেন, ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আমাদের বলে দেয়—কী সুরক্ষিত রাখতে হবে। আর প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসন আমাদের বলে দেয়—কীভাবে সেই সুরক্ষা টেকসই করা যায়।’
সাবেক প্রধান বিচারপতির মতে, ২০২৪ সালের ঘটনাগুলো মনে করিয়ে দিয়েছে যে রাজনৈতিক বৈধতা ও প্রাতিষ্ঠানিক বৈধতা সব সময় এক বিষয় নয়। একটি সাংবিধানিক মুহূর্ত পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে, কিন্তু সেই পরিবর্তনকে ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যেতে পারে একমাত্র প্রতিষ্ঠানগুলোই।
সাবেক প্রধান বিচারপতি বলেন, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের সংস্কার-অভিজ্ঞতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো কীভাবে ভিন্নভাবে ক্ষমতা প্রয়োগ করা যায়, তা নয়; বরং কীভাবে এমন প্রতিষ্ঠান তৈরি করা যায়, যাতে ক্ষমতাই সাংবিধানিক নিয়ন্ত্রণের অধীন থাকে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য অধ্যাপক আবদুস সালাম। এতে সভাপতিত্ব করেন আইন অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকরামুল হক।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ভারতের তরুণ নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টি শুক্রবার দেশজুড়ে নতুন করে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেছে। লাখ লাখ নাগরিকের ভোটাধিকার অন্যায়ভাবে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে—এমন ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যেই মুম্বাইতে হাজার হাজার মানুষ এই আন্দোলনে শামিল হয়েছেন বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।
পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে গাজীপুরে শ্রমিক সমাবেশ করা হয়েছে। আগামী ১ ডিসেম্বরের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে সারা দেশে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী মারা গেছেন। রাইজিংবিডিকে এ তথ্য জানিয়েছেন বিডিনিউজের লেখক ও সিনিয়র সাংবাদিক আমীন আল রশীদ।