পার্থিব জীবনের পরম সুখ, পারিবারিক মোহ এবং নববিবাহিত জীবনের সব আকর্ষণ একনিমেষে তুচ্ছ করে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে কীভাবে অগ্রাধিকার দিতে হয়—তার এক হৃদয়স্পর্শী উপাখ্যান রচিত হয়েছিল ওহুদ ময়দানে।
এই কালজয়ী ইতিহাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র যুবক সাহাবি হজরত হানজালা ইবনে আবি আমির (রা.)।
ওহুদ যুদ্ধের সময় হানজালা (রা.) ছিলেন মাত্র ২৪ বছরের এক তেজোদৃপ্ত নওজোয়ান। ইসলামের আলো গ্রহণ করেছিলেন মাত্র দুই বছর আগে। তবে তাঁর পারিবারিক পটভূমি ছিল বেশ জটিল।
তাঁর পিতা আবু আমির ছিল সেকালে মদিনার একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ও ধর্মপণ্ডিত। পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবের উদ্ধৃতি দিয়ে সে সর্বদা আখেরি জামানার নবীর আগমনবার্তা প্রচার করত এবং জনগণকে তাঁর আনুগত্যের নসিহত করত।
নববিবাহিত জীবনের সব আকর্ষণ একনিমেষে তুচ্ছ করে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে কীভাবে অগ্রাধিকার দিতে হয়—তার এক হৃদয়স্পর্শী উপাখ্যান রচিত হয়েছিল ওহুদ ময়দানে।
কিন্তু যখন সত্য সত্যিই মহানবী (সা.) মদিনায় এলেন, তখন আত্মগরিমা ও নেতৃত্বের মোহে আবু আমির সত্য মেনে নিতে অস্বীকার করল। নিজের পুত্র হানজালা ইসলাম গ্রহণ করে ধন্য হলেও পিতা ইমান আনলেন না।
মহানবী (সা.) তাঁর কপটতা ও ঔদ্ধত্যের কারণে তাঁকে ‘আবু আমির আর-রাহিব’ (সন্ন্যাসী)-এর পরিবর্তে ‘আবু আমির আল-ফাসিক’ (পাপাচারী) হিসেবে আখ্যায়িত করেন। মদিনার মানুষ যখন ইসলামে দলে দলে প্রবেশ করছিল, আবু আমির তখন নিজ মাতৃভূমি ত্যাগ করে মক্কার কোরাইশদের সঙ্গে হাত মেলাতে চলে যায়। (ইবনে হিশাম, আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ, ২/৫৮, ১২৩)
ওহুদ যুদ্ধের ঠিক আগের রাতটি ছিল হানজালা (রা.)-এর জীবনের এক বিশেষ মুহূর্ত। সেদিন ছিল তাঁর বাসর রাত। সদ্য বিবাহিতা স্ত্রী জামিলা বিনতে আবদুল্লাহ ইবনে উবাইকে নিয়ে তখন তাঁর সুখময় নতুন জীবনের সূচনা।
কিন্তু শুক্রবার দিবাগত রাতের রেশ কাটতে না কাটতেই ভোরের আলোয় মদিনার অলিগলিতে রণনিনাদ ধ্বনিত হলো—মুশরিক বাহিনী ওহুদের দ্বারপ্রান্তে উপস্থিত এবং মহানবী (সা.) মুজাহিদদের নিয়ে ময়দানের দিকে রওনা হয়ে গেছেন।
যুদ্ধে যোগদানের সেই আহ্বান কানে আসতেই হানজালার অন্তরে ইমানের স্ফুলিঙ্গ জ্বলে উঠল। তিনি তখন অপবিত্র (সহবাসজনিত) অবস্থায় ছিলেন। ফরজ গোসল করতে যতটুকু সময়ের প্রয়োজন, মহানবীর সঙ্গে জিহাদে শামিল হতে সেই সামান্যতম বিলম্বকেও তাঁর কাছে ধর্মের প্রতি অবহেলার মতো মনে হলো।
তিনি এক মুহূর্ত দ্বিধা করলেন না। সদ্য পরিণীতা স্ত্রীর মায়াবী সান্নিধ্য পেছনে ফেলে, সেই অবস্থাতেই তরবারি হাতে অশ্ব ছুটিয়ে দিলেন ওহুদের ময়দানে। সেখানে পৌঁছেই তিনি নবীজির নেতৃত্বে প্রস্তুত মুজাহিদদের কাতারে গিয়ে দাঁড়ালেন। (ইবনে কাসির, আল-বিদায়াহ ওয়ান-নিহায়াহ, ৪/১১-১২)
একপর্যায়ে তিনি কোরাইশ সেনাপতি আবু সুফিয়ানের মুখোমুখি হলেন। চোখের পলকে আবু সুফিয়ানের ঘোড়ার পায়ে তরবারির আঘাত হানলেন এবং সে মাটিতে আছড়ে পড়ল।
রণক্ষেত্রে লড়াই যখন তীব্র রূপ নিল, অবিশ্বাসী শিবির থেকে কোরাইশদের অগ্রবর্তী দলে এসে দাঁড়াল হানজালার পিতা স্বয়ং আবু আমির। সে মদিনার আউস গোত্রকে প্রলুব্ধ করার অপচেষ্টা চালালে মুসলিম মুজাহিদরা তাকে চরম ধিক্কার দিয়ে পিছু হটতে বাধ্য করলেন।
এদিকে হানজালা (রা.) বীর বিক্রমে মুশরিকদের ব্যূহ ভেদ করে একেবারে শত্রুশিবিরের কেন্দ্রস্থলে ঢুকে পড়লেন। একপর্যায়ে তিনি কোরাইশ সেনাপতি আবু সুফিয়ানের মুখোমুখি হলেন। চোখের পলকে আবু সুফিয়ানের ঘোড়ার পায়ে তরবারির আঘাত হানলেন এবং সে মাটিতে আছড়ে পড়ল।
হানজালা যখন ইসলামের শীর্ষ শত্রুকে পরাস্ত করতে উদ্যত হলেন, ঠিক সেই মুহূর্তে পেছন থেকে ছুটে এল কোরাইশ যোদ্ধা শাদ্দাদ ইবনে আল-আসওয়াদ (ইবনে শাউব)। কাপুরুষের মতো পেছন থেকে অতর্কিত বর্শার আঘাত হেনে সে হানজালাকে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে ফেলে দিল। শহীদ হলেন তিনি। (ইমাম হাকিম, আল-মুস্তাদরাক আলাস সহিহাইন, ৩/২০৪)
লড়াই শেষে যখন মুসলিমরা শোকার্ত হৃদয়ে ৭০ জন শহীদের পবিত্র দেহ একত্র করছিলেন, তখন স্বয়ং মহানবী (সা.) নিহতদের কাছে গিয়ে বেহেশতের সুসংবাদ দিচ্ছিলেন। হানজালার মরদেহের পাশে এসে নবীজি অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন।
তিনি বিস্ময়ভরে সাহাবিদের বললেন, ‘আমি দেখতে পাচ্ছি, আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যবর্তী স্থানে রুপার পাত্রে রাখা মেঘের শীতল পানি দিয়ে ফেরেশতারা তোমাদের ভাই হানজালাকে গোসল করাচ্ছে!’
ইসলামের বিধান অনুযায়ী যুদ্ধের ময়দানে নিহত শহীদদের গোসল দেওয়া হয় না; বরং রক্তাক্ত পোশাকেই তাঁদের দাফন করা হয়। হানজালার ক্ষেত্রে এই ব্যতিক্রম দেখে মহানবী (সা.) সাহাবিদের নির্দেশ দিলেন, ‘তোমরা হানজালার স্ত্রীর কাছে গিয়ে খবর নাও, ঘর থেকে বের হওয়ার সময় তার কী অবস্থা ছিল?’
সাহাবিরা দ্রুত মদিনায় জামিলার কাছে গিয়ে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি সজল চোখে জানালেন—হানজালা নবীজির আহ্বান শুনে ফরজ গোসল করার সময়টুকুও নেননি; বরং অপবিত্র অবস্থাতেই রণক্ষেত্রে ছুটে গিয়েছিলেন।
মহানবী (সা.) তখন বললেন, ‘এ কারণেই মহান আল্লাহ ফেরেশতাদের পাঠিয়ে তাঁকে আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যে এই বিশেষ সম্মানজনক গোসল করিয়েছেন।’ (সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস: ৭০৩২)
পার্থিব জীবনের সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত ও আনন্দের রাত ছিল তাঁর বাসররাত। কিন্তু আল্লাহর ধর্ম ও রাসুলের আহ্বানের সামনে তিনি সেই সুখের মোহকে বিন্দুমাত্র স্থান দেননি।
সেদিন থেকেই ইসলামের ইতিহাসে সাহাবিদের কাছে হানজালা (রা.) পরিচিত হয়ে ওঠেন ‘গাসিলুল মালাইকা’ বা ‘ফেরেশতা কর্তৃক গোসলপ্রাপ্ত মহান ব্যক্তিত্ব’ হিসেবে।
পার্থিব জীবনের সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত ও আনন্দের রাত ছিল তাঁর বাসররাত। কিন্তু আল্লাহর ধর্ম ও রাসুলের আহ্বানের সামনে তিনি সেই সুখের মোহকে বিন্দুমাত্র স্থান দেননি।
নিজের জানমাল কিংবা নববধূর মায়াজালে আবদ্ধ না হয়ে তিনি অবলীলায় আত্মোৎসর্গ করেছিলেন সত্যের পথে। এই নিঃশর্ত প্রেমের প্রতিদান হিসেবে মহান রব তাঁকে এমন এক মর্যাদায় অভিষিক্ত করেছেন, যা কেয়ামত পর্যন্ত সমগ্র মানবজাতির কাছে এক চিরন্তন অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
নূরুল্লাহ মারূফ: আলেম ও লেখক
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
২ ওভারে ১৭ রানে পাকিস্তানের ২ উইকেট তুলে নিয়েছিল টাইগাররা।
অনৈতিক কার্যকলাপসহ সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির তিন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ফেনী সফরে যাচ্ছেন তারেক রহমান।