দেশে বাইকের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনায় বাইকারদের মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, শুধু মৃত্যুই নয়, বাইক দুর্ঘটনায় প্রচুর মানুষ আহতও হচ্ছেন। তাই বাইকারদের আরও সতর্কভাবে যান চালানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখতে হবে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক অভিযোগ করেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অধিকাংশের মালিক পুলিশ কর্মকর্তা। অথচ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরাই রাস্তায় দায়িত্ব পালন করছেন। সরকার অবৈধ অটোরিকশার কথা বললেও সেগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে না। অন্যদিকে বাইকারদের কাগজপত্র যাচাইয়ে পুলিশকে বেশি তৎপর দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে ফিটনেসবিহীন ও লক্কড়-ঝক্কড় বাসের বিরুদ্ধেও অভিযান দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন ওই সাংবাদিক।
এই প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, পুলিশ কর্মকর্তারা ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের মালিক, এমন ‘সুইপিং স্টেটমেন্ট’ যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়া দেওয়া ঠিক নয়। এ বিষয়ে তথ্য-প্রমাণসহ প্রতিবেদন করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, আপনি যদি তথ্য-প্রমাণ দিয়ে যেকোনো রিপোর্ট করেন, আমি এটাকে এনকারেজ করছি। আপনার এই তথ্যটাকে আমি উড়িয়ে দিচ্ছি তা বলছি না, কিন্তু আপনি যখন পাবলিক জায়গায় বলছেন, আপনার একটু গ্রাউন্ড থাকা লাগবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার ডিসইনফরমেশনের বিষয়ে কঠোর থাকবে। তবে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে করা প্রতিবেদনকে সরকার উৎসাহিত করবে।
অটোরিকশা নিয়ে নীতিমালা হচ্ছে
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব যানবাহন বৈধ না অবৈধ এভাবে বিষয়টি দেখলে রাস্তায় থাকা প্রায় প্রতিটি অটোরিকশাই প্রশ্নের মুখে পড়বে। তাই এ বিষয়ে একটি নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, অটোরিকশার সঙ্গে অনেক মানুষের জীবিকা ও যাতায়াত জড়িত। মানুষ এসব যানবাহনের মাধ্যমে সহজে চলাচল করতে পারছে। ফলে হুট করে সব অটোরিকশা বন্ধ না করে নীতিমালার মাধ্যমে কোথায় এগুলো চলবে এবং কীভাবে নিরাপদ রাখা যাবে, তা নির্ধারণ করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, আমরা এদের এলিমিনেটও করতে চাই না। আমরা চাই তারা কোথায় কোথায় থাকবেন, তাদের বাহনটি সেফটিওয়াইজ হবে।
শুধু বাইক নয়, সব যানবাহনের কাগজপত্র যাচাই
বাইকারদের কাগজপত্র যাচাইয়ের বিষয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, বাইকের কাগজপত্র যাচাইয়ে সমস্যার কিছু নেই। তবে শুধু বাইক নয়, রাস্তায় চলাচলকারী সব ধরনের যানবাহনের কাগজপত্র যাচাই করা দরকার।
তিনি বলেন, সবগুলো, বাইকসহ যত যত বাহন আছে সবকিছু যাচাই করা দরকার। পুলিশকে বাইকারদের কাগজপত্র যাচাই করতে বলা হবে এবং একই সঙ্গে অন্যান্য যানবাহনের ক্ষেত্রেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ সময় বাইকারদের সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশে বাইকের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনায় বাইকারদের মৃত্যুর সংখ্যাও অনেক বেড়েছে। শুধু মৃত্যু নয়, প্রচুর মানুষ আহত হন।
নিজের চিকিৎসক হিসেবে অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাইক দুর্ঘটনা খুব খারাপ হতে পারে। কারণ মানুষ পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পেতে পারেন। তাই বাইকারদের সতর্কভাবে বাইক চালানো এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেন তিনি।
ফরেক্স ট্রেডিং নিয়ে দ্রুত নীতিমালা নয়
সংবাদ সম্মেলনে ফরেক্স কারেন্সি ট্রেডিং নিয়ে নীতিমালা করার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে জাহেদ উর রহমান বলেন, এ মুহূর্তে খুব দ্রুত কোনো নীতিমালা করার পরিকল্পনা নেই। তবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে এবং তিনি নিজেও এ বিষয়ে কথা বলেছেন।
এক সাংবাদিক বলেন, বাংলাদেশে শত শত ব্রোকার কোটি কোটি টাকা প্রতিদিন ফরেক্স ট্রেডিং করছে। লাভ-লোকসান হলেও সরকার এ খাত থেকে কোনো রাজস্ব পাচ্ছে না। এর উত্তরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, তিনি বিষয়টি বুঝতে পারছেন এবং এই বাস্তবতা মেনেই কোনো না কোনোভাবে বিষয়টিকে নীতিমালার মধ্যে আনার প্রয়োজন আছে।
তবে ফরেক্স কারেন্সি ট্রেডিং এবং ক্রিপ্টোকারেন্সিকে এক করে না দেখার আহ্বান জানান জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, ক্রিপ্টোকারেন্সি রাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থাকে পাশ কাটানোর জন্য তৈরি হয়েছে। ফলে ক্রিপ্টো ট্রেডিংকে রাষ্ট্রের নীতিমালার অংশ করার বিষয়টি আলাদাভাবে দেখতে হবে।
তিনি বলেন, ফরেন কারেন্সি ট্রেডিং আরেক আলাদা জিনিস, সেটা হতে পারে, কিন্তু ক্রিপ্টো না। আমরা যেন এই দুটোকে একত্র করে না ফেলি।
প্রধানমন্ত্রীর ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন ক্রিপ্টো ট্রেডিংয়ের কাজে ব্যবহৃত হয়, এক সাংবাদিকের এমন বক্তব্যের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, কোনো ফোনে ক্যামেরা বা অন্য কোনো সুবিধা রয়েছে দেখে সেটি কী কাজে ব্যবহার করা হয়, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ব্যবহৃত ফোন ক্রিপ্টো ট্রেডিংয়ের জন্য ব্যবহার করা হয় এমন তথ্য যাচাইহীন। প্রধানমন্ত্রীর বিষয়ে এ ধরনের তথ্য বলা উচিত নয়।
ভিটামিন ডি সমৃদ্ধকরণ নিয়ে কাজ চলছে
তেলের মধ্যে ভিটামিন ডি ফোর্টিফিকেশন বা সমৃদ্ধকরণ নিয়ে জানতে চাইলে জাহেদ উর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তিনি নিজেও বিষয়টি এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
তিনি বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে এটা পারসু করার চেষ্টা করছি এবং আমি তাদের সঙ্গে কাজ করে চেষ্টা করব এটা যাতে দ্রুত করা যায়। এই ব্যাপারে সদিচ্ছা সরকারের আছে।
‘স্যার’ সম্বোধন নিয়ে মানসিকতা পরিবর্তনের আহ্বান
সরকারি সেবা নিতে গিয়ে ‘স্যার’ না বললে কর্মকর্তাদের অসন্তুষ্ট হওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, কাউকে ‘স্যার’ বলায় সমস্যা নেই। যে কেউ যেকোনো মানুষকে ‘স্যার’ বলতে পারেন। কিন্তু এটিকে সেবা পাওয়ার শর্তে পরিণত করা অত্যন্ত ভয়ংকর।
তিনি বলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঘোষণাই আছে যে সরকারি কর্মকর্তাদের ‘স্যার’ বলা যাবে না। এটি বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।তবে শুধু আইন বা নির্দেশনা দিয়ে এ ধরনের মানসিকতা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।
জাহেদ উর রহমান বলেন, এই যে আলাপটা হচ্ছে, এই আলাপটা হোক, আস্তে আস্তে আমাদের মানসিকতা একটু পাল্টাক, আশা করি পাল্টাবে।
সাংবাদিকের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল
একটি সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিলের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জাহেদ উর রহমান বলেন, বিষয়টি তিনি ব্যক্তিগতভাবে খতিয়ে দেখবেন।
সরকারকে প্রশ্ন করার কারণে অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল করা হয়েছে? এমন ধারণার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রশ্ন করার কারণে এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি মনে করেন না।
তিনি বলেন, সাংবাদিকরা প্রতিদিন সরকারকে বিভিন্ন প্রশ্ন করছেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অপতথ্য ছড়ানোর ক্ষেত্রেও সরকারের সহনশীলতা রয়েছে।
তিনি জানান, ছয় মাসের একটি তথ্য অনুযায়ী ৪৬৪টি বড় ধরনের অপতথ্যের মধ্যে ১৫৭টির লক্ষ্যবস্তু ছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
তবে ওই সাংবাদিকের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড কেন বাতিল করা হয়েছে, তা তিনি খতিয়ে দেখবেন বলে জানান।
চীনের সঙ্গে চুক্তি হয়নি, আলোচনা চলছে
চীনের সঙ্গে চুক্তি হয়ে গেছে, আগের ব্রিফিংয়ে এমন বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল বলে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, তিনি চুক্তি হয়েছে বলেননি। তাকে জানানো হয়েছিল, চীনের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং বেশি দামে কেন হচ্ছে এ নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল।
তিনি বলেন, চীনের সঙ্গে আলোচনা চলছে, এমন তথ্যই তাকে জানানো হয়েছিল।
মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার কর্মী বিনামূল্যে যাওয়ার তথ্য সঠিক
মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো নিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, ১০ হাজার কর্মী বিনামূল্যে যাওয়ার যে তথ্য তিনি দিয়েছিলেন, সেটি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এবং সঠিক তথ্য।
তিনি বলেন, তার কাছে থাকা ব্রিফিংয়ের কাগজে মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া তথ্যই থাকে এবং তিনি সেগুলো পড়ে শোনান।
উপদেষ্টা বলেন, ১০ হাজারের সংখ্যাটা ঠিক আছে। তবে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দুই লাখ ১০ হাজার কর্মী যাওয়ার যে সংখ্যা বলা হয়েছিল, মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে সেটি নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছে।
এমএএস/জেএইচ
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী মারা গেছেন। রাইজিংবিডিকে এ তথ্য জানিয়েছেন বিডিনিউজের লেখক ও সিনিয়র সাংবাদিক আমীন আল রশীদ।
শনিবার যেকোনো সময় কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে রূপপুরে নেওয়া হবে এ জ্বালানি। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে তরুণীকে আটকে রেখে সংঘবদ্ধভাবে পালাক্রমে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে পাঁচ ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মোখলেছুর রহমান মিঠু (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে ভুক্তভোগী তরুণীকে উদ্ধার করা হয়েছে।