জাতীয়

রপ্তানিকারকদের আগ্রহ কম, তবু বিদেশে ১০ মেলা আয়োজন করতে চায় ইপিবি

News সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ 0
রপ্তানিকারকদের আগ্রহ কম, তবু বিদেশে ১০ মেলা আয়োজন করতে চায় ইপিবি
রপ্তানিকারকদের আগ্রহ কম, তবু বিদেশে ১০ মেলা আয়োজন করতে চায় ইপিবি

যুক্তরাজ্য, জার্মানি, জাপান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, তুরস্ক ও ভারতে খাদ্যপণ্য, পাোশাকসহ বিভিন্ন বাংলাদেশি পণ্যের প্রদর্শনীর আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছিল রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)। গত অর্থবছরে এমন ১০টি মেলা বা প্রদর্শনীর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান করা হলেও বাংলাদেশি কোনো রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাতে আগ্রহ দেখায়নি। শেষ পর্যন্ত ওই সব মেলা হয়নি।

এ দেশের উদ্যোক্তাদের প্রদর্শনী বা মেলায় অংশগ্রহণ নিয়ে আগ্রহ না থাকলেও চলতি অর্থবছরে আবার নিজেদের ক্যালেন্ডারে ওই ১০টি মেলা রেখেছে ইপিবি, যা নিয়ে এখন প্রশ্ন তুলেছেন উদ্যোক্তাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

ইপিবির এবারের মেলা ক্যালেন্ডারে ৫০টি মেলা রয়েছে। একে একে এগুলোর প্রজ্ঞাপন জারি করা হচ্ছে। এবারের ক্যালেন্ডারের মধ্যে তৈরি পোশাক খাতে ১৮টি, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্যে ৭টি, সাধারণ শ্রেণিতে ১৩টি, ওষুধে ৩টি; গৃহসামগ্রী, হস্তশিল্প ও গৃহসজ্জাসামগ্রীতে ৪টি এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ২টি মেলা রয়েছে। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য এবং প্লাস্টিক ও রাবার খাতে রয়েছে একটি করে মেলা।

গত অর্থবছরে যেসব মেলায় কোনো বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়নি, এবার সেগুলোর কয়েকটিও রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তুরস্কের হালাল এক্সপো ও বিশ্ব হালাল সম্মেলন, যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক খাদ্য ও পানীয় মেলা ও সোর্স ফ্যাশন, জার্মানির এশিয়া অ্যাপারেল এক্সপো, দুবাইয়ের ইনডেক্স দুবাই, ভারতের ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল মেগা ট্রেড ফেয়ার, জাপানের লাইফস্টাইল উইক টোকিও, মালয়েশিয়ার গিফট ফেয়ার এবং জার্মানির ইউরোবাইক।

আগের বছর অংশগ্রহণ না থাকা মেলা আবার তালিকায় রাখার কারণ জানতে চাইলে ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ প্রথম আলোকে বলেন, ‘অনেক চিন্তা করেই নতুন মেলা ক্যালেন্ডার করা হয়েছে। নতুন এরই মধ্যে খবর পেয়েছি কিছু মেলা হবে না। যেমন: আফ্রিকায় ওষুধ খাতের মেলায় অংশ নিতে কেউ যেতে চাচ্ছেন না। “বেস্ট অব বাংলাদেশ ইন ইউরোপ” মেলাটিও না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। চামড়ার জন্য একটি থাকলেও ফ্যাশনবিষয়ক মেলায় চামড়া খাতও অংশ নিতে পারবে। ভালো হলে নতুন মেলা আয়োজনের ব্যবস্থা করার সুযোগ রয়েছে।’

চামড়া–প্লাস্টিকে কমেছে মেলা

বাংলাদেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাত চামড়া। পোশাকের বাইরে রপ্তানি বাড়াতে দীর্ঘদিন ধরেই এ খাতকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে বড় বড় মেলায় অংশ নেওয়াও এর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। কিন্তু মেলার সংখ্যা কমে যাওয়ায় সেই নীতির সঙ্গে ক্যালেন্ডারের সামঞ্জস্য নিয়ে অভিযোগ উঠেছে।

ইপিবি সূত্রে জানা গেছে, আগের বছরগুলোতে চামড়া খাতের জন্য চার থেকে পাঁচটি মেলা থাকলেও এবার রাখা হয়েছে মাত্র একটি। এটি হলো ইতালির গার্দাব্যাগস মেলা। গত অর্থবছরেও এ খাতের জন্য ছিল হংকংয়ের এপিএলএফ চামড়া ও উপকরণ মেলা।

প্লাস্টিক খাতেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ২০২৪–২৫ অর্থবছরের ক্যালেন্ডারে এ খাতের জন্য চারটি মেলা থাকলেও পরের অর্থবছরে তা নেমে আসে একটিতে। এবারও রাখা হয়েছে একটি মেলা। এবারেরটি হংকংয়ে অনুষ্ঠেয় খেলনা ও ক্রীড়াসামগ্রীর মেলা।

প্যাকেজিং, গৃহস্থালি সামগ্রী, শিল্পপণ্যসহ নানা ধরনের পণ্য তৈরি করে দেশের প্লাস্টিক খাত। এ খাতের জন্য কোনো আলাদা আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক মেলা রাখা হয়নি। রাখা হয়েছে খেলনা ও ক্রীড়াসামগ্রীর মেলা।

বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিপিজিএমইএ) সভাপতি শামীম আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, প্লাস্টিকের সবকিছু বিবেচনায় নিলে পোশাক খাতের পরই এ খাতের রপ্তানি অবদান সবচেয়ে বেশি। রপ্তানির পরিমাণ দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ইপিবি পাশাপাশি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও প্লাস্টিক খাতকে অবহেলা করছে। এ খাতের জন্য ক্যালেন্ডারে আরও মেলা থাকা দরকার।

সামুদ্রিক খাদ্য খাতেও মেলা কমেছে

সামুদ্রিক খাদ্য খাতেও মেলার সংখ্যা কমেছে। আগেরবার দক্ষিণ কোরিয়া, চীন ও রাশিয়ার কয়েকটি সামুদ্রিক খাদ্য মেলা ছিল। এবার এ খাতের জন্য রাখা হয়েছে শুধু বার্সেলোনার বৈশ্বিক সামুদ্রিক খাদ্য মেলা। কোন বাজারে বাংলাদেশের সামুদ্রিক খাদ্যের নতুন ক্রেতা পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি, তা বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অভিযোগ করেছেন।

এবারের ক্যালেন্ডারে নেদারল্যান্ডসে ‘বেস্ট অব বাংলাদেশ ইন ইউরোপ’ নামে একটি মেলাকে পোশাক খাতের তালিকায় রাখা হয়েছে। এটি হবে আগামী ২৪ ও ২৫ নভেম্বর। আগের অর্থবছরের ক্যালেন্ডারে একই ধরনের মেলা ছিল সাধারণ শ্রেণিতে। এবার সেটিকে পোশাক খাতের ১৮টি মেলার মধ্যে রাখা হয়েছে। এ মেলা দূতাবাস করার কথা থাকলেও করে থাকেন একজন ব্যক্তি। তিনি বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজ উদ্দিন।

জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৪ ও ৫ সেপ্টেম্বর নেদারল্যান্ডসে মোস্তাফিজ উদ্দিনের ব্যবস্থাপনায় একই ধরনের মেলা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, সেখানে একটি বুথের মূল্য ছিল প্রায় ১৫ লাখ টাকা, যা সাধারণ আন্তর্জাতিক মেলায় অংশ নেওয়ার খরচের তুলনায় অস্বাভাবিক বেশি। ওই মেলার জন্য ইপিবি থেকে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয় করেছে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজ উদ্দিনকে মোবাইল ফোনে চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

মেলা বাছাইয়ের ভিত্তি কতটা স্পষ্ট

বিদেশি মেলায় অংশগ্রহণের মূল উদ্দেশ্য নতুন ক্রেতা খোঁজা ও রপ্তানি আদেশ পাওয়া। তাই মেলা নির্বাচনের আগে আগের অংশগ্রহণের ফলাফল বিশ্লেষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো মেলায় কতজন ক্রেতা এসেছেন, কতটি ব্যবসায়িক যোগাযোগ তৈরি হয়েছে, কতটি রপ্তানি আদেশ পাওয়া গেছে এবং সরকারি অর্থ কত ব্যয় হয়েছে—এসব তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী মেলা নির্বাচন করা হলে সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা স্পষ্ট হয়।

নতুন ক্যালেন্ডার অনুমোদনের বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির গত শনিবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ তথ্য একেবারে বাতিল করে দেব না। তবে সততার সঙ্গে জবাব দিলে এটা বলতেই হবে, আমার হাতে এ পরিমাণ সময় নেই যে কোথায় কী মেলা হবে, তা দেখব। ইপিবি যা নিয়ে এসেছে, তাতে বলা হয়েছে এসব জায়গায় রপ্তানি সম্ভাবনা আছে। তাই অনুমোদন দিয়েছি। এমন কোনো জায়গা যদি ঠিক করা হয়ে থাকে যে অংশগ্রহণকারীরা যেতে চাচ্ছেন না, সেসব মেলা হবে না।’

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
স্বচ্ছ আর্থিক প্রতিবেদন-সুশাসন নিশ্চিতের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব
স্বচ্ছ আর্থিক প্রতিবেদন-সুশাসন নিশ্চিতের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব

সঠিক অডিট, স্বচ্ছ আর্থিক প্রতিবেদন-সুশাসন নিশ্চিতের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। আর শেয়ারবাজারে সুশাসন ফিরিয়ে আনতে হিসাববিদদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।

News অক্টোবর ৫, ২০২৬ 0
রামেক হাসপাতালে এবার স্যালাইন সংকট

রামেক হাসপাতালে এবার স্যালাইন সংকট

আপত্তির মুখে দিরাইয়ে মহিলা প্রীতিম্যাচ স্থগিত

আপত্তির মুখে দিরাইয়ে মহিলা প্রীতিম্যাচ স্থগিত

ছেলেকে কুপিয়ে হত্যার দেড় মাস পর বাবাকে গুলি করে হত্যা

ছেলেকে কুপিয়ে হত্যার দেড় মাস পর বাবাকে গুলি করে হত্যা

পৃথিবীর বৃহত্তম ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলার ৭৮তম আসরে থাকছে পাঞ্জেরী
পৃথিবীর বৃহত্তম ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলার ৭৮তম আসরে থাকছে পাঞ্জেরী

জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে ৭ থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় এ আয়োজনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রকাশক, লেখক, সাহিত্যিক, রাইটস এজেন্ট, অনুবাদক, প্রযুক্তিবিদ ও সৃজনশীল শিল্পের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। আন্তর্জাতিক প্রকাশনা শিল্পের এই গুরুত্বপূর্ণ মিলনমেলায় বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লিমিটেডও অংশ নিচ্ছে।

News অক্টোবর ৫, ২০২৬ 0
স্টক এক্সচেঞ্জে সরাসরি তালিকাভুক্তির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

স্টক এক্সচেঞ্জে সরাসরি তালিকাভুক্তির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

হানিট্র্যাপের অভিযোগে যুবদলের ২ নেতা গ্রেপ্তার, ৪ জনের পদ স্থগিত

হানিট্র্যাপের অভিযোগে যুবদলের ২ নেতা গ্রেপ্তার, ৪ জনের পদ স্থগিত

শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটি ২০-২২ অক্টোবর

শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটি ২০-২২ অক্টোবর

জলবায়ু পরিবর্তন ও অতিআহরণে কক্সবাজারে ইলিশ কমেছে ১১৩২ মেট্রিক টন
জলবায়ু পরিবর্তন ও অতিআহরণে কক্সবাজারে ইলিশ কমেছে ১১৩২ মেট্রিক টন

দেশের অন্যতম বৃহৎ সামুদ্রিক মৎস্যাঞ্চল কক্সবাজারে এক বছরের ব্যবধানে ইলিশ উৎপাদন প্রায় ২১ শতাংশ কমেছে। মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পানির তাপমাত্রা, লবণাক্ততা ও পানিপ্রবাহের পরিবর্তনের পাশাপাশি নদী-খালের নাব্যতা হ্রাস, উপকূলীয় চ্যানেলের সংকোচন এবং অতিরিক্ত মাছ আহরণ ইলিশের প্রজনন ও বিচরণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

News অক্টোবর ৫, ২০২৬ 0
আজান দেওয়ার সময় মুয়াজ্জিনকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ

আজান দেওয়ার সময় মুয়াজ্জিনকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ

হানিফসহ ৪ আসামির সর্বোচ্চ সাজা চায় প্রসিকিউশন

হানিফসহ ৪ আসামির সর্বোচ্চ সাজা চায় প্রসিকিউশন

কিশোরীকে অপহরণ করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় দুজনের যাবজ্জীবন

কিশোরীকে অপহরণ করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় দুজনের যাবজ্জীবন

0 Comments