আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) তার ঋণ কর্মসূচির নকশা ও শর্তগুলো পর্যালোচনা করছে। কোভিড-১৯ মহামারির আগে, ২০১৯ সালে এ বিষয়ে সর্বশেষ বড় পর্যালোচনা হয়েছিল। এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। বিশ্বের বহু দেশ সামষ্টিক অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীনতা ও ঋণসংকটে পড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে তাদের প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের সম্ভাবনার ওপর। ফলে আইএমএফের কর্মসূচি কীভাবে তৈরি ও বাস্তবায়িত হবে, সেই নীতিমালার গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।
এই পর্যালোচনায় অন্তত তিনটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
প্রথমত, ঋণ দেওয়ার শর্ত। যেসব দেশের অন্য কোনো উৎস থেকে অর্থ পাওয়ার সুযোগ নেই, তাদের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরানোই আইএমএফের অর্থায়নের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। অর্থনৈতিক মন্দার সময়ে সরকার যেন প্রয়োজনীয় ব্যয় বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে পারে এবং পরিস্থিতি ভালো হলে ব্যয় কমিয়ে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে পারে, সেই সুযোগ থাকতে হবে। কিন্তু এমন ঋণ পরিশোধে আইএমএফের অর্থ ব্যবহার করা উচিত নয়, যা নিজেই টেকসই নয়।
আইএমএফের নীতিমালাতেও বলা আছে, তহবিলের অর্থ পেতে হলে সংশ্লিষ্ট দেশের ঋণ পরিস্থিতি টেকসই হতে হবে। তা না হলে ঋণ পুনর্গঠনের মাধ্যমে পরিস্থিতি টেকসই করার উদ্যোগ নিতে হবে। আবার কোনো দেশ ঋণখেলাপি অবস্থায় থাকলেও আইএমএফ তাকে অর্থ দিতে পারে। অন্য ঋণদাতার কাছে বকেয়া থাকলেও অর্থায়ন করা সম্ভব। এর উদ্দেশ্য হওয়া উচিত ঋণ পুনর্গঠনের পথ সহজ করা, পুরোনো ঋণ শোধ করে নতুন ঋণের বোঝা বাড়ানো নয়।
দুঃখজনকভাবে অনেক উন্নয়নশীল দেশে এর উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। আইএমএফের কর্মসূচির আওতায় সরকার অবকাঠামো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় কমাচ্ছে, অথচ বেসরকারি ঋণদাতা বা অন্য ঋণদাতাদের পাওনা পরিশোধ অব্যাহত রাখছে। বিশেষ করে যেসব ঋণদাতা পুরোনো ঋণ পরিশোধের জন্য নতুন ঋণ দিতে রাজি নয়, তাদের পাওনা মেটাতে গিয়ে জনস্বার্থের বিনিয়োগ কমানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
গত বছর পোপ ফ্রান্সিসের জন্য তৈরি ভ্যাটিকানের জুবিলি প্রতিবেদনেও এ উদ্বেগ উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় উন্নয়নশীল দেশগুলোকে দেওয়া বহুপক্ষীয় অর্থায়নের অর্থ অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ বাড়ানোর বদলে বেসরকারি খাতে অর্থের বহির্গমন ঘটাতে সহায়তা করেছে বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

তাই আইএমএফের কর্মসূচিতে অস্থিতিশীল পুঁজিপ্রবাহ ঠেকানোর ব্যবস্থাও থাকতে হবে। নিয়ন্ত্রণহীন পুঁজি প্রবাহ উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতিতে অস্থিরতা বাড়ায়, বিনিময় হারকে অনিশ্চিত করে এবং বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করে। আইএমএফের অর্থ কোনোভাবেই পুঁজি পাচারে ব্যবহার করা যাবে না। দ্রুত মুনাফার আশায় এক দেশ থেকে অন্য দেশে অর্থের অস্থির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি আইএমএফের অর্থের অপব্যবহার রোধেও কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন।
দ্বিতীয়ত, আকস্মিক পরিস্থিতি মোকাবিলার পরিকল্পনা থাকতে হবে। আইএমএফের কর্মসূচি সাধারণত কিছু অর্থনৈতিক পূর্বাভাস ও অনুমানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়। কিন্তু অর্থনীতি কোনো স্থির সমীকরণ নয়। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে যুদ্ধ, বাণিজ্য সংঘাত, পণ্যের দামের ওঠানামা বা আর্থিক সংকটের মতো আকস্মিক ঘটনা ঘটতেই পারে। তাই কর্মসূচির প্রাথমিক অনুমানের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির বড় পার্থক্য হওয়া অস্বাভাবিক নয়।
এ কারণে কর্মসূচির নকশায় মধ্যমেয়াদি প্রবৃদ্ধির জন্য জরুরি বিনিয়োগ সুরক্ষিত রাখতে হবে। শিক্ষা, জ্ঞান ও অবকাঠামোর মতো খাতে বিনিয়োগ কমিয়ে সাময়িকভাবে হিসাব মেলানো হলে দীর্ঘ মেয়াদে অর্থনীতি আরও দুর্বল হতে পারে। তাতে একটি দেশ আইএমএফের ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে বারবার নতুন কর্মসূচির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে।
আইএমএফের অনেক কর্মসূচি প্রত্যাশিত ফল দেয়নি। এর কারণ হতে পারে কর্মসূচি বাস্তবায়নে ব্যর্থতা, ভুল অর্থনৈতিক পূর্বাভাস বা নতুন কোনো বিরূপ অভিঘাত। তাই কর্মসূচি ব্যর্থ হলে শুধু ব্যয় কমানোর পথে না গিয়ে কেন ব্যর্থতা ঘটেছে, তা শনাক্ত করতে হবে এবং সে অনুযায়ী বিকল্প পরিকল্পনা নিতে হবে।
এ ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও জবাবদিহির প্রশ্নটিও গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের সঙ্গে গোপন চুক্তি করে জনগণের কাছ থেকে কোনো শর্ত আড়াল করা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। যেমন প্রকাশ্য চুক্তিতে একটি রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলো, কিন্তু গোপন পার্শ্বচুক্তিতে বলা হলো, লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলে মূল্য সংযোজন কর বাড়াতে হবে। এ ধরনের ব্যবস্থা স্বচ্ছতার পরিপন্থী এবং গণতান্ত্রিক জবাবদিহিকে দুর্বল করে।
তৃতীয়ত, কর্মসূচির রাজনৈতিক ও সামাজিক সমর্থন নিশ্চিত করা জরুরি। আইএমএফের বিশেষ সুবিধার আওতায় নির্ধারিত সীমার বেশি ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, আইএমএফের ঋণের দায় শুধু বর্তমান সরকারের নয়; তা পরবর্তী সরকার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপরও বর্তায়।
আইএমএফের কর্মসূচির চূড়ান্ত লক্ষ্য হওয়া উচিত সংশ্লিষ্ট দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সূচকের উন্নতি। অন্য ঋণদাতাদের স্বল্পমেয়াদি ঋণখেলাপির ক্ষতি কমানো কিংবা কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করা এর উদ্দেশ্য হতে পারে না।
তাই কোনো কর্মসূচির প্রতি সমর্থন বলতে শুধু ক্ষমতাসীন সরকারের সম্মতি বা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি বোঝানো উচিত নয়। এর পেছনে ব্যাপক রাজনৈতিক ও সামাজিক সমর্থন থাকা দরকার। ক্ষমতাসীন সরকারের সিদ্ধান্তে দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের পাশাপাশি ক্ষমতায় টিকে থাকার রাজনৈতিক হিসাবও কাজ করতে পারে। ঋণদাতাদের সিদ্ধান্তেও কখনো রাজনৈতিক প্রভাব দেখা যায়। আইএমএফও তার বাইরে নয়।
এ ক্ষেত্রে সরকার ও আইএমএফের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির জন্য সংসদের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে। এতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে, জনগণের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে। গণতন্ত্রের পশ্চাদপসরণের এই সময়ে এমন জবাবদিহি আরও জরুরি।
শেষ পর্যন্ত আইএমএফের সাফল্য মাপা উচিত একটি দেশের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা দিয়ে শুধু নয়, তার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও পুনরুদ্ধারে অর্থায়ন কতটা ভূমিকা রাখল, তা দিয়ে। বিশেষ করে দরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতি হয়েছে কি না, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে।
আইএমএফের কর্মসূচির চূড়ান্ত লক্ষ্য হওয়া উচিত সংশ্লিষ্ট দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সূচকের উন্নতি। অন্য ঋণদাতাদের স্বল্পমেয়াদি ঋণখেলাপির ক্ষতি কমানো কিংবা কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করা এর উদ্দেশ্য হতে পারে না। ঋণ কর্মসূচি যদি মানুষের জীবন ও অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার বদলে শুধু পুরোনো ঋণ শোধের ব্যবস্থা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে সেই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্যই প্রশ্নের মুখে পড়বে।
মার্তিন গুজমান আর্জেন্টিনার সাবেক অর্থমন্ত্রী এবং জোসেফ ই স্টিগলিৎস অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত ও বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ।
স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট। অনুবাদ: সারফুদ্দিন আহমেদ
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় চার শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিলের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে রবিবার (১১ অক্টোবর) সকাল ৭টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে দুটি সংগঠন।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “অনেক কারখানায় অগ্নিনির্গমন পথের অভাব, বৈদ্যুতিক ত্রুটি এবং অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম ব্যবহারে প্রশিক্ষণের ঘাটতি রয়েছে।