জাতীয়

আবার ফিরছে সিডি ও ক্যাসেট, কারণ কী

News সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ 0
আবার ফিরছে সিডি ও ক্যাসেট, কারণ কী
আবার ফিরছে সিডি ও ক্যাসেট, কারণ কী

কথায় আছে, সময় নাকি বারবার ঘুরেফিরে একই জায়গায় আসে। কথাটি কতটুকু সত্যি, তা নিশ্চিত করা জানা যায় না। তবে গোল আকৃতির প্লাস্টিকের সিডির ক্ষেত্রে পুরোনো দিন বুঝি আবার ফিরছে। সত্যিই আবার বাজারে নতুন করে আসছে সিডি।

আজকালের নতুন পিসি কিংবা ল্যাপটপে সিডি প্লেয়ার থাকে না। আবার আগের মতো সিডি চালানোর ‘ডিস্কম্যান’ বা ক্যাসেট প্লেয়ারও পাওয়া যায় না। তা সত্ত্বেও বিশ্বজুড়ে হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে এই প্লাস্টিক ডিস্কের জনপ্রিয়তা। বিনোদন জগতের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘লুমিনেট’ (Luminate)-এর এক রিপোর্ট এমন তথ্য উঠে এসেছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, পুরোনো দিনের বড় ভিনাইল রেকর্ডের তুলনায় সিডি বিক্রির হার সবচেয়ে দ্রুত বাড়ছে। গত বছরই সিডি বিক্রি প্রায় ১৬ শতাংশ বেড়ে দেড় কোটি ছাড়িয়ে গেছে।

আবার আগের মতো সিডি চালানোর ‘ডিস্কম্যান’ বা ক্যাসেট প্লেয়ারও পাওয়া যায় না

কিন্তু গান শোনার এত অ্যাপস থাকতে মানুষ কেন আবার সিডির পেছনে ছুটছে?

এর পেছনে একেকজনের একেক রকম যুক্তি রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ৩১ বছর বয়সী মাইকেল সোয়ালবার্গ জানান, অনলাইনে শুধু টাচস্ক্রিনে গান না শুনে তিনি সরাসরি কোনো কিছুর বাস্তব স্পর্শ পেতে ভালোবাসেন। সিডির কভার খোলা, ভেতরে থাকা ছবির বুকলেট উল্টে দেখা, কাগজের সুবাস নেওয়া এবং প্রিয় শিল্পীর আঁকা অ্যালবামের ছবিগুলো হাতে নিয়ে দেখার আনন্দই তাঁকে সিডি কিনতে উৎসাহ জোগায়।

কারো কাছে এটি পুরোনো দিনের সুন্দর স্মৃতির মতো। আবার অনেকে মনে করেন, স্পটিফাই বা ইউটিউবের মতো স্ট্রিমিং অ্যাপগুলোর তুলনায় সিডিতে গানের সাউন্ড কোয়ালিটি অনেক স্পষ্ট ও নিখুঁত শোনা যায়।

তবে অনেকের জন্য এটি ফ্যাশন নয়। বরং এক ধরনের বাধ্যবাধকতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে এক কিশোর লিখেছে, তাদের স্কুলে মুঠোফোন আর ইয়ারবাড নেওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে গান শোনার বিকল্প উপায় হিসেবে সে বাসা থেকে বাবার সেই পুরোনো ডিস্কম্যানটিই ব্যবহার শুরু করেছে।

সিডি, ডিভিডি বা ব্লুরে ডিস্কের চেয়ে অনেক বেশি ধারণক্ষমতার ডিস্ক আসছে

কেন ফিরছে সিডি? আর কেনই–বা এটি সবচেয়ে টেকসই?

অন্যান্য অনেক কিছুর মতো সিডি জনপ্রিয় হওয়ার পেছনেও আংশিক অবদান কে–পপ ব্যান্ড বিটিএসের। তাদের অ্যালবাম বাজারে আসার পর লাখ লাখ সিডি বিক্রি হয়। তবে শুধু বিটিএস বা কে–পপই নয়, এই সিডি বিক্রি বাড়ায় বড় ভূমিকা রাখছে জেনজি ও আজকের তরুণ প্রজন্ম। অবাক করার মতো বিষয় হলো, এই তরুণেরাই এখন ৯০-এর দশক বা তারও আগের গান সিডিতে শুনতে বেশি পছন্দ করছে।

সময় যেন এক বৃত্তের মতো ঘুরেফিরে একই জায়গায় আসে। প্রযুক্তি যতই সামনের দিকে এগিয়ে যাক না কেন, মানুষ ঠিকই অতীতের স্মৃতিতে ফিরে যেতে চায়। আর সিডির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর অবিশ্বাস্য স্থায়িত্ব।

মহাবিশ্বের সবকিছুই সময়ের সঙ্গে ক্ষয়ে যায়। ভিনাইল রেকর্ড ব্যবহারের ফলে ক্ষয়ে যায়, আর ক্যাসেটের টেপ একসময় ধুলো হয়ে নষ্ট হয়। অন্যদিকে অনলাইনের গান তো স্পর্শই করা যায় না। ইন্টারনেট সমস্যা বা সাবস্ক্রিপশনের কারণে যেকোনো সময় পছন্দের গান গায়েব হয়ে যেতে পারে।

ঠিক এখানেই সিডি আলাদা। প্লেয়ারের লেজার রশ্মি কোনো ঘর্ষণ ছাড়াই সূক্ষ্ম কোড পড়ে গান বাজায়। তাই সিডি সহজে নষ্ট হয় না। যুগের পর যুগ নিখুঁত সাউন্ড কোয়ালিটি ধরে রাখে।

হাত থেকে পড়ে ভাঙা বা আঁচড় লাগা ছাড়া সিডির আসলে কোনো ক্ষয় নেই। এটি একবার বাজানো হোক কিংবা ১০ লাখ বার সিডির ভেতরের গানের মানের কোনো পরিবর্তন হবে না। মূলত বাস্তব অনুভূতির খোঁজে তরুণ প্রজন্ম আবার সিডির দিকে ঝুঁকছে।

সিডি কেন এত জনপ্রিয়?

সিডি যেমন ভালো সাউন্ড কোয়ালিটি দেয়, তেমনি এর দামও অনেক কম। ‘বেইলেন’ ব্যান্ডের সদস্য ডেভিড বেইলন জানান, ভিনাইল রেকর্ডের তুলনায় সিডি তৈরি করা অনেক সাশ্রয়ী। সংগীতশিল্পী জেমস কোয়েন্টিন ডিভাইন মনে করেন, সিডি সস্তা, দ্রুত পাওয়া যায় এবং সহজে বহন করা যায় বলেই এটি আবার নতুন করে ফিরছে। এমনকি ডাকযোগে পাঠানো বা প্রিয় মানুষের হাতে উপহার হিসেবে তুলে দেওয়ার জন্যও এটি সেরা।

চল্লিশ বছর বয়সী এলাদ মাসুরি কৈশোর থেকেই সিডি জমান। তার সংগ্রহে রয়েছে প্রায় ৫০০টি সিডি। তার মতে, ডিজিটাল গান শোনার চেয়ে হাতে স্পর্শ করা যায় এমন কিছুর অনুভূতিই আলাদা।

ছবিটি রাজধানীর আজিজ সুপার মার্কেট থেকে তোলা। ছবি: ইউসুফ সা’দ

হারিয়ে যাওয়া সেই সব দোকান

আজকাল আর আগের মতো ক্যাসেট, সিডি বা ডিভিডির দোকান চোখে পড়ে না। তবু স্মৃতির মায়া আর একধরনের জেদ থেকে দেশের কিছু দোকানের মালিক এখনো সিডি-ডিভিডির ব্যবসা ধরে রেখেছেন। নব্বইয়ের দশকে ক্যাসেট আর সিডির দোকানগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। প্রিয় শিল্পীর নতুন গানের অ্যালবাম কিংবা পছন্দের সিনেমা এলেই দোকানে ভিড় জমাত গানপ্রেমীরা।

সময় বদলেছে, বদলে গেছে মানুষের গান শোনা আর সিনেমা দেখার মাধ্যমও। তাই সেই রমরমা দোকানগুলো আজ প্রায় জনশূন্য। কেবল র‍্যাকে থরে থরে জমে আছে অজস্র সিডি। তবে বিশ্বজুড়ে জেনজি এবং নতুন প্রজন্মের মাধ্যমে সিডি নতুন করে ফিরছে। তাতে আশা করা যায়, অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশেও হয়তো গান শোনার এই পুরোনো মাধ্যমটি আবার প্রিয় হয়ে উঠবে।

সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
৩১ অক্টোবর সাত দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ 
৩১ অক্টোবর সাত দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ 

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণসহ সাত দাবিতে আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা হয়ে কুষ্টিয়া অভিমুখে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ লংমার্চ করবে ১১ দলীয় ঐক্য।

News অক্টোবর ৬, ২০২৬ 0
গরমে শরীরের ওপর চাপ বাড়ায় যেসব অভ্যাস

গরমে শরীরের ওপর চাপ বাড়ায় যেসব অভ্যাস

মানুষ যখন বিয়ে করে, তখন বিচ্ছেদের জন্য প্রস্তুত থাকে না: শেফালি শাহ

মানুষ যখন বিয়ে করে, তখন বিচ্ছেদের জন্য প্রস্তুত থাকে না: শেফালি শাহ

টাইগারদের প্রস্তুতি ম্যাচ ড্র

টাইগারদের প্রস্তুতি ম্যাচ ড্র

গ্যাস ও নিত্যপণ্যের বাজারে অভিযান, ৪২ জেলায় ১১৯ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
গ্যাস ও নিত্যপণ্যের বাজারে অভিযান, ৪২ জেলায় ১১৯ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে মূল্য ও সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দেশজুড়ে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

News অক্টোবর ৬, ২০২৬ 0
মিরসরাইয়ে ১৯.৬৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে র‍্যানকন লুব্রিকেন্টস

মিরসরাইয়ে ১৯.৬৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে র‍্যানকন লুব্রিকেন্টস

শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা

শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা

নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ ও সেবা সহজ করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: শিল্পমন্ত্রী

নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ ও সেবা সহজ করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: শিল্পমন্ত্রী

স্বচ্ছ আর্থিক প্রতিবেদন-সুশাসন নিশ্চিতের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব
স্বচ্ছ আর্থিক প্রতিবেদন-সুশাসন নিশ্চিতের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব

সঠিক অডিট, স্বচ্ছ আর্থিক প্রতিবেদন-সুশাসন নিশ্চিতের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। আর শেয়ারবাজারে সুশাসন ফিরিয়ে আনতে হিসাববিদদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।

News অক্টোবর ৫, ২০২৬ 0
রামেক হাসপাতালে এবার স্যালাইন সংকট

রামেক হাসপাতালে এবার স্যালাইন সংকট

আপত্তির মুখে দিরাইয়ে মহিলা প্রীতিম্যাচ স্থগিত

আপত্তির মুখে দিরাইয়ে মহিলা প্রীতিম্যাচ স্থগিত

ছেলেকে কুপিয়ে হত্যার দেড় মাস পর বাবাকে গুলি করে হত্যা

ছেলেকে কুপিয়ে হত্যার দেড় মাস পর বাবাকে গুলি করে হত্যা

0 Comments