জাতীয়

৯ হাজার নটিক্যাল মাইল বেশি ঘুরে এসে দুর্যোগের মুখে এমটি নিনেমিয়া

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
৯ হাজার নটিক্যাল মাইল বেশি ঘুরে এসে দুর্যোগের মুখে এমটি নিনেমিয়া
৯ হাজার নটিক্যাল মাইল বেশি ঘুরে এসে দুর্যোগের মুখে এমটি নিনেমিয়া

লোহিত সাগরে হুতি ও ইরানি ড্রোন আতঙ্কে প্রায় ৯ হাজার নটিক্যাল মাইল বেশি ঘুরে এসেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) অপরিশোধিত জ্বালানিবাহী ট্যাংকার জাহাজ ‌‘এমটি নিনেমিয়া’।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়ার পূর্বনির্ধারিত স্থানে পৌঁছায় জাহাজটি। কিন্তু সাগরে প্রবল স্রোতের কারণে নোঙর না করেই নিরাপত্তাজনিত কারণে মহেশখালীর গভীর সাগরে চলে যায়। সন্ধ্যায় আগের স্থানে এসে ক্রুড খালাসের কথা রয়েছে এমটি নিনেমিয়ার।

আরও পড়ুন

ড্রোন আতঙ্কে ৯ হাজার নটিক্যাল মাইল বেশি ঘুরে ক্রুড আনছে বিপিসি

এর আগে সৌদি আরবের ইয়ানবু থেকে প্রায় এক লাখ টনের বেশি অপরিশোধিত জ্বালানি নিয়ে গত ২৩ জুলাই বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয় ‌‘এমটি নিনেমিয়া’। ইস্টার্ন রিফাইনারির জন্য আমদানি করা এসব ক্রুড পরিবহন করছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)।

সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে স্বাভাবিক চার হাজার ২শ নটিক্যাল মাইল দূরত্বের রুটের পরিবর্তে সুয়েজ খাল, জিব্রাল্টার প্রণালি দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ হয়ে প্রায় ১৩ হাজার ১২৯ নটিক্যাল মাইল পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে এসেছে জাহাজটি।

বিএসসির ভাষ্য অনুযায়ী, স্বাভাবিক সময়ে সৌদি আরবের ইয়ানবু থেকে লোহিত সাগর দিয়ে বাব আল মান্দেব প্রণালি হয়ে (লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থল) বিপিসির আমদানি করা ক্রুডবাহী জাহাজ ভারত মহাসাগর হয়ে বাংলাদেশে আসতো। কিন্তু লোহিত সাগর ও বাব আল মান্দেবে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঝুঁকি থাকায় রুট পরিবর্তন করে সুয়েজ খাল-জিব্রাল্টার এবং দক্ষিণ আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ (কেপ অব গুড হোপ) হয়ে বাংলাদেশে আসতে হয়েছে নিনেমিয়াকে।

আরও পড়ুন

আরও ১ লাখ টন ক্রুড তেল নিয়ে আসবে সেই ‘এমটি নিনেমিয়া’

বিএসসির তথ্য অনুযায়ী, ইয়ানবু থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের দূরত্ব ৪২শ নটিক্যাল মাইল। ইয়ানবু থেকে অপরিশোধিত তেলের জাহাজ চট্টগ্রামে আসতে সময় লাগতো ১৩-১৫ দিন। রুট পরিবর্তনের কারণে ইয়ানবু থেকে বর্তমানে ১৩ হাজার ১২৯ নটিক্যাল মাইল পথ পাড়ি দিয়ে আসতে হচ্ছে এমটি নিনেমিয়াকে। এতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে আরও ৩৪ দিনের মতো সময় বেশি লাগছে।

এতে পার্সেলটি বহনের ক্ষেত্রে মূল ভাড়ার পাশাপাশি ৫৩ লাখ ৯৬ হাজার ৭৩৩ ডলার অতিরিক্ত খরচের কথা জানিয়ে গত ২৩ জুলাই বিপিসিকে চিঠি দেয় বিএসসি। যা বাংলাদেশি টাকায় ৬৬ কোটি ৬২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা (প্রতি ডলার ১২৩ দশমিক ৪৬ টাকা হিসেবে)।

নিনেমিয়া

যে পথ এখন ঘুরে আসছে জাহাজ

মূলত লোহিত সাগরকে ভূমধ্যসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করে সুয়েজ খাল। এটি ইউরোপ এশিয়ার সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত সমুদ্রপথ। পাশাপাশি ভূমধ্যসাগরকে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে যুক্ত করে জিব্রাল্টার প্রণালি। আর দক্ষিণ আফ্রিকার আটলান্টিক মহাসাগর উপকূলে অবস্থিত পাথুরে অন্তরীপ উত্তমাশা।

বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে বছরে প্রায় ৭২ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি পরিশোধন করে ইআরএল। এতে পরিশোধনে ব্যবহৃত শতভাগ অপরিশোধিত তেল আমদানি করতে হয়। বাংলাদেশ জি টু জি পদ্ধতিতে সৌদি আরব থেকে অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে মারবান ক্রুড আমদানি করে। আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের শতভাগ পরিবহন করে সরকারি পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিএসসি।

আরও পড়ুন

বুধবার নোঙর ফেলবে এমটি নিনেমিয়া, ৭ মে চালু হচ্ছে ইস্টার্ন রিফাইনারি

বিএসসির তথ্য বলছে, ২২ জুলাই লে-কেন সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে এক লাখ টন অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড টনপ্রতি ১২২ দশমিক ৩১৮৪৭১ ডলারে পরিবহনের দায়িত্ব পায় এমটি নিনেমিয়া। এজন্য জাহাজটি শিডিউল অনুযায়ী ২৩ জুলাই ইয়ানবু বন্দরে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল লোড করে। কিন্তু লোহিত সাগরে ইরানি হামলার আশঙ্কা থাকায় বাব আল মান্দেব দিয়ে জাহাজ চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ থাকার কথা জানিয়ে ওই দিনই বিএসসিকে ইমেইল দেয় জাহাজটির শিপিং এজেন্ট। ইমেইলে রুট পরিবর্তন করে বাব আল মান্দেবের পরিবর্তে বিকল্প রুট সুয়েজ খাল-কেপ অব গুড হোপ হয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আসার অনুমতি পায় জাহাজটি।

এমটি নিনেমিয়া শনিবার দুপুরে এসেছে। কিন্তু সাগর উত্তাল থাকার কারণে নির্ধারিত স্থানে নোঙর করতে পারেনি। আজ আবার নির্ধারিত স্থানে নোঙর করবে। আশা করছি সন্ধ্যা থেকে ক্রুড ডিসচার্জ (খালাস) শুরু হবে।-ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন অ্যান্ড প্ল্যানিং) মো. মোস্তাফিজার রহমান

বিএসসির তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি ২৬ দশমিক ৩ দিন বাঙ্কারিং খরচ হিসেবে দৈনিক ৪২ দশমিক ৫ টন ভিএলএসএফও (ভেরি লো সালফার ফার্নেস অয়েল) এবং দক্ষিণ আফ্রিকার শীতকালীন খারাপ আবহাওয়ার জন্য অতিরিক্ত ৭ শতাংশ জ্বালানি হিসেবে মোট ১১৯৫ দশমিক ৯৯২৫ টন বাংকারের মূল্য ১০ লাখ ৩৪ হাজার ৫৩৩ ডলার, ভূমধ্যসাগরে দৈনিক ৪২ দশমিক ৫ টন হিসেবে ৭ দশমিক ৬ দিনে ৩২৩ টন এমজিও (মেরিন গ্যাস অয়েল) বাঙ্কারিংয়ের মূল্য ৪ লাখ ৫২ হাজার ২শ ডলার, সুয়েজ খালের টোল ৫ লাখ ২০ হাজার ডলার এবং ৩৩ দশমিক ৯ দিনে অতিরিক্ত জাহাজের ভাড়া দৈনিক ১ লাখ ডলার হিসেবে ৩৩ লাখ ৯০ হাজার ডলার মিলে সাকুল্যে ৫৩ লাখ ৯৬ হাজার ৭৩৩ ডলার অতিরিক্ত ব্যয়ের কথা জানানো হয়।

কুতুবদিয়ায় জাহাজটির বর্তমান অবস্থানকুতুবদিয়ায় জাহাজটির বর্তমান অবস্থান

ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন অ্যান্ড প্ল্যানিং) মো. মোস্তাফিজার রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‌‌‘এমটি নিনেমিয়া শনিবার দুপুরে এসেছে। কিন্তু সাগরে প্রবল স্রোত থাকার কারণে নির্ধারিত স্থানে নোঙর করতে পারেনি। আজ আবার নির্ধারিত স্থানে নোঙর করবে। আশা করছি সন্ধ্যা থেকে ক্রুড ডিসচার্জ (খালাস) শুরু হবে।’

জাহাজটির স্থানীয় শিপিং এজেন্ট প্রাইম ওশান ট্রেড লিমিটেডের অপারেশনস ম্যানেজার প্রবীর কুমার রায় জাগো নিউজকে বলেন, ‘এমটি নিনেমিয়া স্থানীয় সময় শনিবার দুপুর একটায় কুতুবদিয়ার নির্ধারিত স্থানে আসে। কিন্তু সাগরে প্রবল স্রোত থাকার কারণে ক্যাপ্টেন জাহাজটি অ্যাংকরিং করতে অনিরাপদ বোধ করছিলেন। এজন্য লাইটারিং শুরু করা যায়নি।’

তিনি বলেন, ‘পরে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য জাহাজটিকে মহেশখালীর গভীর সাগরে নিয়ে যাওয়া হয়। আজ বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আগের অবস্থানে নোঙর করবে। আমাদের লাইটারও প্রস্তুত। সন্ধ্যার দিক থেকে লাইটারগুলো ক্রুড নিতে জাহাজের কাছে যেতে পারবে। আশা করছি সন্ধ্যা থেকে লাইটারিং শুরু হবে।’

এমটি নিনেমিয়া জাহাজটি ২০২৪ সালে নির্মিত। মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী জাহাজটির দৈর্ঘ্য ২৫০ মিটার, প্রস্থ ৪৪ মিটার। জাহাজটির ধারণক্ষমতা প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার ৮৩৯ টন।

এমডিআইএইচ/এএসএ

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
বাংলাদেশি পণ্য ও দক্ষ জনশক্তি নিতে আলজেরিয়ার প্রতি আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
বাংলাদেশি পণ্য ও দক্ষ জনশক্তি নিতে আলজেরিয়ার প্রতি আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো জোরদার করার সুযোগ রয়েছে। আলজেরিয়া বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক ও ফার্মাসিউটিক্যালস পণ্য আমদানি বাড়াতে পারে।”

News অক্টোবর ৫, ২০২৬ 0
ঢাবির আন্তঃবিভাগ নীতি বিতর্কে চ্যাম্পিয়ন পিএসিএসডিসি

ঢাবির আন্তঃবিভাগ নীতি বিতর্কে চ্যাম্পিয়ন পিএসিএসডিসি

তুরস্কের সঙ্গে এফটিএ আলোচনা এগিয়ে নিতে চান বাণিজ্যমন্ত্রী

তুরস্কের সঙ্গে এফটিএ আলোচনা এগিয়ে নিতে চান বাণিজ্যমন্ত্রী

চার দাবিতে প্রেসক্লাবের সামনে উর্দুভাষীদের বিক্ষোভ

চার দাবিতে প্রেসক্লাবের সামনে উর্দুভাষীদের বিক্ষোভ

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত জবি শিক্ষার্থীর পাশে ছাত্রদল আহ্বায়ক
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত জবি শিক্ষার্থীর পাশে ছাত্রদল আহ্বায়ক

গুরুতর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার ন্যাশনাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ইংরেজি বিভাগের ১৯তম আবর্তনের শিক্ষার্থী মিঠুন বৈরাগী।

News অক্টোবর ৫, ২০২৬ 0
গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে হবে বিরোধী দলকে: ডেপুটি স্পিকার

গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে হবে বিরোধী দলকে: ডেপুটি স্পিকার

গোপালগঞ্জে বাসচাপায় স্বামী-স্ত্রী নিহত

গোপালগঞ্জে বাসচাপায় স্বামী-স্ত্রী নিহত

ফাইভ স্টার হোটেলে কর্মপরিকল্পনা করে নারীর সমতা আসবে না: ইসি তাহমিদা

ফাইভ স্টার হোটেলে কর্মপরিকল্পনা করে নারীর সমতা আসবে না: ইসি তাহমিদা

0 Comments