জাতীয়

২৮ বছর পর বাবার ঋণ শোধ করতে পাওনাদারের খোঁজে সন্তান

News সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ 0
২৮ বছর পর বাবার ঋণ শোধ করতে পাওনাদারের খোঁজে সন্তান
২৮ বছর পর বাবার ঋণ শোধ করতে পাওনাদারের খোঁজে সন্তান

১৯৯৮ সালে পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী রণজিত ঘোষের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছিলেন পিরোজপুরের আবদুল খালেক শিকদার। সেই ঋণ শোধ করে যেতে পারেননি তিনি। মারা গেছেন ২০১১ সালে। ২৮ বছর পর বাবার ঋণ শোধ করতে পাওনাদারকে খুঁজছেন খালেক শিকদারের জ্যেষ্ঠ সন্তান কাঞ্চন শিকদার। তবে খোঁজ মিলছে না পাওনাদারের।

‘বঙ্গভিটা’ নামের একটি ফেসবুক পেজে এমন একটি পোস্ট করা হয় ১৪ সেপ্টেম্বর। পোস্টের সূত্র ধরে প্রথম আলো যোগাযোগ করে কাঞ্চন শিকদারের সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে জানান, মৃত্যুর আগে ঋণের কথা তাঁকে বলে যান বাবা খালেক শিকদার। তবে সে সময় তাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা সচ্ছল না থাকায় ঋণ পরিশোধের উদ্যোগ নিতে পারেননি। এখন সেই ঋণ শোধ করতে চান তিনি।

কাঞ্চন শিকদারের বয়স এখন ৪৫ বছর। তিনি পিরোজপুর সদরে খামারে গরু লালন–পালন করেন। এলাকায় মাছের ব্যবসাও রয়েছে তাঁর। একসময় তাঁর বাবা পিরোজপুর থেকে কাঁচা–পাকা ফল এনে পুরান ঢাকার ওয়াইজঘাটের আড়তে বিক্রি করতেন। সেখানকার একজন আড়তদার ছিলেন রণজিত ঘোষ। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নাম ছিল ‘প্রদীপ ভান্ডার’।

নব্বইয়ের দশকে যখন খালেক শিকদার প্রথম ঢাকায় ব্যবসা করতে আসেন, তখনই রণজিত ঘোষের সঙ্গে তাঁর পরিচয়। সে সময়েই রণজিত ঘোষের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা দাদন নিয়েছিলেন তিনি। কথা ছিল ব্যবসা করে সেই টাকা শোধ করবেন। তবে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ব্যবসা করেও টাকা শোধ করতে পারেননি। এরপর অসুস্থ হয়ে পড়লে গ্রামে ফিরে যান। ২০১১ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।

খালেক শিকদার যখন ব্যবসা করতেন, সে সময় পিরোজপুর থেকে লঞ্চে করে মালামাল কাঞ্চনই ঢাকায় আনতেন। সেই সূত্রে রণজিত ঘোষের সেই সময়কার বাসস্থান শাঁখারীবাজারে কয়েকবার গিয়েছেন তিনি।

২৮ বছর আগের সেই স্মৃতিকে সম্বল করে পাওনাদারের খোঁজে মাস তিনেক আগে ঢাকায় এসেছিলেন কাঞ্চন শিকদার। তবে খোঁজ পাননি। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘৯৮ সালে যে বাসাবাড়ি দ্যাখছি, বর্তমানের লগে তো হ্যার কোনো মিল নাই। হ্যার বাসার এক পাশে মন্দির, এক পাশে মসজিদ ছেলো। মসজিদ–মন্দির ওই জায়গায় আছে কিন্তু হেই বাসা নাই। হেইখানে ওহন বড় বড় বাসাবাড়ি।’

কাঞ্চন শিকদারের কাছে সেই সময়কার একটি রসিদ রয়েছে। যেখানে ঠিকানা লেখা ‘আহসান উল্লাহ রোড, আল ফেসানী মার্কেট, লোতনাল, ওয়াইজঘাট, ঢাকা-১১০০’। রণজিত ঘোষের আড়তের খোঁজে গত বুধবার সরেজমিনে যাই পুরান ঢাকার ওয়াইজঘাটে। তবে প্রদীপ ভান্ডার নামে কোনো আড়তের খোঁজ পাওয়া যায়নি।

‘প্রদীপ ভান্ডার’ নামের আড়ত থেকে দেওয়া এই রসিদ রয়েছে পিরোজপুরের ব্যবসায়ী কাঞ্চন শিকদারের কাছে, যিনি বাবার ঋণ পরিশোধের জন্য ওই আড়তের মালিককে খুঁজছেন

ওই এলাকার বেশ পুরোনো একজন ব্যবসায়ীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, একসময় রণজিত ঘোষ সেখানে ব্যবসা করতেন। প্রায় ১০ বছর আগে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে চলে গেছেন। বর্তমানে তাঁরা কোথায় থাকেন, সেই খোঁজ তাঁর কাছে নেই।

সদরঘাট থেকে পাটুয়াটুলী হয়ে ইসলামপুরের দিকে এগিয়ে বুড়িগঙ্গার পাড়ে এসে যেখানে সড়ক শেষ হয়েছে, সেটিই ওয়াইজঘাট। বুড়িগঙ্গার তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা ঢাকার পুরোনো বাণিজ্যিক এই এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল বর্তমান ওয়াইজঘাট। ১৮৪০ সালে প্রকাশিত জেমস টেইলরের ‘আ স্কেচ অব দ্য টপোগ্রাফি অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিকস অব ঢাকা’ বইয়ে তৎকালীন ঢাকার বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বুড়িগঙ্গার ঘাটগুলোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বর্ণনা পাওয়া যায়। নদীপথে পণ্য ও মানুষের যাতায়াতকে কেন্দ্র করে ঘাটের আশপাশে দোকান, গুদাম ও ব্যবসাকেন্দ্র গড়ে উঠেছিল। নদীর দিকে যাওয়া সড়কগুলোর শেষ প্রান্তে এসব ঘাট ছিল পণ্য পরিবহন ও বেচাকেনার গুরুত্বপূর্ণ স্থান। টেইলরের বর্ণনায় ঢাকার ব্যবসায়ীরা নদীর ঘাটমুখী সড়কগুলোতেও দোকান ও গুদাম স্থাপন করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে এই ঘাটই ওয়াইজঘাট নামে পরিচিত হয়ে ওঠে।

উনিশ শতকে ঢাকায় ওয়াইজ পদবির তিনজন পরিচিত ব্যক্তি ছিলেন—একজন ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ, একজন সিভিল সার্জন এবং অন্যজন নীলকর। ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুনের ‘ঢাকা: স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী’ বইয়ের তথ্য অনুযায়ী, নীলকর ওয়াইজের নামেই বুড়িগঙ্গার তীরের এই ঘাটের নামকরণ করা হয়।

২৮ বছর আগে নেওয়া এই ঋণকে বাবার রেখে যাওয়া অসমাপ্ত দায় হিসেবে দেখেন কাঞ্চন শিকদার। বিভিন্ন মাধ্যমে খুঁজে যাচ্ছেন পাওনাদারকে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘একসময় আমরা অভাবগ্রস্ত ছিলাম। দেনা শোধ করতে পারি নাই। অহন আল্লায় সুযোগ দিছে। বাবার দায়ডা শোধ করবার চাই।’

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
পাচারকারীদের ফেলে যাওয়া পলিথিনে মিলল কোটি টাকার আইস
পাচারকারীদের ফেলে যাওয়া পলিথিনে মিলল কোটি টাকার আইস

সীমান্তবর্তী এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে পলিথিন ব্যাগে মোড়ানো অবস্থায় একটি পিস্তল, এক রাউন্ড গুলি এবং এক কেজি ক্রিস্টাল মেথ ‘আইস’ উদ্ধার করেছে লালমনিরহাট বিজিবি ১৫ ব্যাটালিয়ন। উদ্ধারকৃত এসব অস্ত্র ও মাদকের আনুমানিক বাজার মূল্য ৫ কোটি ১ লাখ ২০০ টাকা।

News অক্টোবর ৩, ২০২৬ 0
গাজীপুরে পোশাক কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৮ ইউনিট

গাজীপুরে পোশাক কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৮ ইউনিট

চোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, মাঠে মিলল লাশ

চোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, মাঠে মিলল লাশ

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও ফুটপাত পুনর্দখল রোধে কঠোর অবস্থানে ডিএনসিসি: প্রশাসক

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও ফুটপাত পুনর্দখল রোধে কঠোর অবস্থানে ডিএনসিসি: প্রশাসক

২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির লক্ষ্য: ইবিতে অর্থ উপদেষ্টা
২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির লক্ষ্য: ইবিতে অর্থ উপদেষ্টা

অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, “২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।”

News অক্টোবর ৩, ২০২৬ 0
ডায়মন্ড প্লে বাটন সিএমভির ঘরে

ডায়মন্ড প্লে বাটন সিএমভির ঘরে

ভিনির ভারতে ফেরার রাতে দাপুটে জয় চায় ব্রাজিল

ভিনির ভারতে ফেরার রাতে দাপুটে জয় চায় ব্রাজিল

ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান ডিএসসিসি প্রশাসকের

ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান ডিএসসিসি প্রশাসকের

0 Comments