স্বামীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা করেছিলেন স্ত্রী। তবে পরে এক আসামির মায়ের করা একটি মামলায় নিজের ১৫ মাস বয়সী শিশুসহ ৭ দিন কারাগারে থাকতে হয়েছে তাঁকে। এ সময় দুই শিশুসন্তানকে রাখতে হয়েছে এতিমখানায়।
যে পাল্টা মামলায় ওই নারীকে কারাগারে পাঠানো হয় এর তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিবেদনে যাঁদের সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁদের তিনজনের দাবি, তাঁরা কোনো সাক্ষ্য দেননি।
ওই নারীর নাম ফাতেমা বেগম। তাঁর বাড়ি কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায়। গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান।
ফাতেমার স্বামীর নাম মুহাম্মদ কাশেম। তিনি পেশায় জেলে। ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল মহেশখালীর কুতুবজোমের কবির বাজার এলাকায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পরদিন ফাতেমা বেগম থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় আসামি করা হয় ১০ জনকে। তাঁদের একজন মো. রাসেল।
কাশেম হত্যার পর এ ঘটনার রক্তাক্ত ছবি, স্বজনদের আহাজারি ও শিশুদের কান্নার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে এলাকায় ক্ষোভ তৈরি হয়। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠা রাসেলের বসতবাড়িতে তখন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
প্রতিবেদনে সাক্ষী হিসেবে থাকা নুরুন্নাহার, মুন্নি আকতার ও মোতাহারা বেগমের সঙ্গে কথা বলে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। তাঁদের প্রত্যেকের দাবি, তাঁরা এই মামলায় কোনো সাক্ষ্য দেননি। এমনকি তাঁদের নাম সাক্ষী হিসেবে কীভাবে এসেছে, সেটিও তাঁরা জানেন না।
কাশেম হত্যা মামলার পর থেকে ফাতেমাকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠে আসামির স্বজনদের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে ২০২৫ সালের ৬ মে মহেশখালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করেন বলেও জানা যায়।
এরপর কাশেম হত্যা মামলার আসামি রাসেলের মা নুর জাহান বেগম ২০২৫ সালের ৩ আগস্ট মহেশখালী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি নালিশি দরখাস্ত করেন। এতে অভিযোগ করা হয়, ওই বছরের ২৪ মে সকাল আটটার দিকে কাশেমের স্ত্রী ফাতেমা, তাঁর মা, তিন ভাই, মামা, ছোট বোনসহ সাতজন রাসেলের মায়ের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও মালামাল লুট করেছেন।
আদালত অভিযোগটি মহেশখালী থানাকে তদন্তের আদেশ দেন। মামলাটির তদন্ত করেন মহেশখালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মোজাহেরুল ইসলাম। তিনি ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা বলা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বাদীপক্ষের দেওয়া সাতজন সাক্ষীর বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন, বাদীকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায় সাক্ষীদের জবানবন্দি নেওয়ার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
তবে প্রতিবেদনে সাক্ষী হিসেবে থাকা নুরুন্নাহার, মুন্নি আকতার ও মোতাহারা বেগমের সঙ্গে কথা বলে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। তাঁদের প্রত্যেকের দাবি, তাঁরা এই মামলায় কোনো সাক্ষ্য দেননি। এমনকি তাঁদের নাম সাক্ষী হিসেবে কীভাবে এসেছে, সেটিও তাঁরা জানেন না।
তাঁদের ভাষ্য, ২০২৫ সালের ২৪ মে কোনো ঘরবাড়ি ভাঙচুর বা লুটপাটের ঘটনা ঘটেনি। ২৩ এপ্রিল কাশেম হত্যার দিন এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হলে রাসেলের বাড়িঘরে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। তবে এতে কাশেমের পরিবারের কেউ জড়িত ছিলেন না বলে তাঁরা দাবি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান, আয়েশা বেগম, মমতাজ বেগমসহ কয়েকজনও ২৪ মে কোনো ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, কাশেম হত্যার পর তাঁর পরিবারকে চাপে রাখতে ও প্রতিশোধ নিতে ফাতেমার বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করা হয়েছে।
মামলাটির বাদী নুর জাহান বেগমের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলার চেষ্টা করা হয়। তাঁকে এলাকায় গিয়ে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাঁর মুঠোফোন নম্বরও বন্ধ পাওয়া যায়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. মোজাহেরুল ইসলাম দাবি করেন তিনি সাক্ষীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। সাক্ষীদের বক্তব্যে ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আদালতে দেওয়া অভিযোগের তদন্তের ক্ষেত্রে বাদীর দেওয়া সাক্ষীদের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। তাই তাঁদের বাইরে অন্য কারও সাক্ষ্য নেওয়া হয়নি।’
মো. মোজাহেরুল ইসলাম দাবি করেন, ঘটনাটি এক বছর আগের হওয়ায় এখন তাঁর সব তথ্য মনে নেই। নথি দেখে বলতে হবে। বর্তমানে তিনি কর্মস্থলে নেই। তিনি এখন মহেশখালীর মাতারবাড়ি পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত।
জানতে চাইলে মহেশখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রতুল কুমার শীল বলেন, ভাঙচুরের মামলাটির বিস্তারিত তাঁর মনে নেই। বিষয়টি জেনে পরে জানাবেন। তিনি বলেন, ‘সব সাক্ষীর জবানবন্দি একই ধরনের হয়ে থাকলে বিষয়টি আদালতের নজরে আসার কথা। এ বিষয়ে আদালত ব্যবস্থা নেবেন।’
আসামি রাসেলের মায়ের করা মামলাটিতে গত ৩১ আগস্ট রাতে ফাতেমা, তাঁর শাশুড়ি রাশেদা বেগম এবং নাছিমা আকতার নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ১ সেপ্টেম্বর তাঁদের আদালতে হাজির করা হলে রাশেদা বেগম ও নাছিমা আকতার জামিন পান। তবে ১৫ মাস বয়সী শিশুসহ ফাতেমাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
রাশেদা বেগমের ভাষ্য, গ্রেপ্তারের সময়ই তাঁরা জানতে পারেন, তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং তাঁদের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। জামিন পাওয়ার পরও তাঁদের কাশেম হত্যা মামলার আসামিদের স্বজনেরা হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।
মহেশখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান হোসাইনের আদালত গতকাল সোমবার দুপুরে ফাতেমা বেগমের জামিন মঞ্জুর করেন। তাঁর আইনজীবী মো. আনছার প্রথম আলোকে বলেন, এক হাজার টাকা বন্ডে ফাতেমার জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
কুতুবজোম ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মাহমুদুল হক বলেন, ফাতেমার ছোট তিন কক্ষের একটি ঘর। মাটির দেয়াল ও টিনের চালের ওই ঘরেই স্বামীকে হারানোর পর শাশুড়ি ও তিন সন্তানকে নিয়ে থাকতেন তিনি। তাঁর বড় মেয়ে রাজমিন আকতার চতুর্থ শ্রেণিতে এবং ছোট মেয়ে মিশকাত জান্নাত প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। মা কারাগারে যাওয়ার পর দুই মেয়েকে কুতুবজোমের তাজিয়াকাটা সুমাইয়া (রা.) এতিমখানায় রাখা হয়।
কুতুবজোম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শেখ কামাল বলেন, ২০২৫ সালের ২৪ মে এলাকায় কোনো ঘরবাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি। তবে কাশেম হত্যার পর উত্তেজিত লোকজন রাসেলের পরিবারের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছিলেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। শেখ কামাল বলেন, নিহত কাশেম ও আসামি রাসেল আত্মীয়। সামান্য টাকার বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। মামলার তাঁর পরিবারকে দুর্বল করতেই পাল্টা মামলাটি করা হয়েছে। সেই মামলায় ১৫ মাস বয়সী শিশুসহ ফাতেমাকে কারাগারে থাকতে হলো।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
বাংলাদেশি নাটক দেশ-বিদেশে দর্শক চাহিদার শীর্ষে। বৈচিত্র্যপূর্ণ গল্প, বাস্তবিক ও দৃষ্টিনন্দন উপস্থাপনা, বড় বাজেট- সব মিলিয়ে বাড়ছে দর্শক, আসছে রেভিনিউ।
পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তায় পৌঁছেছে ইউরেনিয়াম।
২০২০-২১ অর্থবছরে সারাদেশে ইলিশ উৎপাদন হয় ৫ দশমিক ৬৫ লাখ মেট্রিক টন। একই অর্থবছরে শুধু চাঁদপুরে ইলিশ উৎপাদন হয় ৩৩ হাজার ৯৯২ মেট্রিক টন।