জাতীয়

১০ গোলে হারের পর কিরণের সমালোচনা ও তাবিথের প্রশংসা বাটলারের!

News সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ 0
১০ গোলে হারের পর কিরণের সমালোচনা ও তাবিথের প্রশংসা বাটলারের!
১০ গোলে হারের পর কিরণের সমালোচনা ও তাবিথের প্রশংসা বাটলারের!

এশিয়ান গেমস নারী ফুটবলে প্রথম ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ১০-০ গোলে হারের পর সংবাদ সম্মেলনে বিতর্কিত মন্তব্য করে আবার‌ও আলোচনায় এসেছেন জাতীয় নারী ফুটবল দলের ইংলিশ কোচ পিটার বাটলার।

ঋতুপর্ণা, মনিকা চাকমাসহ ছয়জন সিনিয়র খেলোয়াড়কে বাইরে রেখে একাদশ সাজিয়ে প্রথমার্ধেই ৭ গোল হজম করে বসেন পিটার। দ্বিতীয়ার্ধে খেলেন আরও ৩ গোল। নারী ফুটবলে নিজেদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হারের লজ্জাজনক রেকর্ড হয়ে থাকলো এই এশিয়ান গেমস।

ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে পিটার বাটলার তরুণদের সুযোগ দিয়ে আগামী দিনের জন্য প্রস্তুত করার কথা বলেন।

এশিয়ান গেমসের মতো বড় আসর এবং উত্তর কোরিয়ার মতো দলের বিপক্ষে এই পরীক্ষা-নীরিক্ষা রীতিমতো হাস্যরস তৈরি করেছে ফুটবল অঙ্গনে। পিটার বাটলার যেন বাংলাদেশকে তের বছর পেছনে নিয়ে গেলেন।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হওয়ার মাত্র ৩ বছর পর ২০১৩ সালে ঢাকায় এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে বাংলাদেশ ৯-০ গোলে হেরেছিল থাইল্যান্ডের কাছে।

আরও পড়ুন

সংবাদ সম্মেলনে বাটলার / বাফুফে এই লেভেলের ফুটবল বোঝে না, আমি কারো হাতের পুতুল না

অথচ বাংলাদেশ যখন প্রতিপক্ষের জালে ভুরিভুরি গোল দেওয়া শিখলো তখন বাটলারের হাতে পড়ে দলটি যেন ছন্নছাড়া। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা হাতছাড়া হওয়ার পর এবার সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হারের লজ্জা পেলো তারা।

সাবিনা-কৃষ্ণাদের বিদায় করে দিয়ে সেই যে সমালোচনা ডেকে এনেছেন পিটার, তা যেন চলছেই। এর আগে সংবাদ সম্মেলনে পিটার অভিযোগ করেছেলিন, বাফুফের কেউ ফুটবল বোঝেন না।

আবার সেই পিটার বাটলারই সোমবার উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে লজ্জাজনক হারের পর সংবাদ সম্মেলনে ভূয়সী প্রশংসা করলেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের। সভাপতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশও করেছেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বাফুফে নারী উইংয়ের চেয়ারপার্সন মাহফুজা আক্তার কিরণের কিঞ্চিত সমালোচনাও করলেন।

পিটার বাটলার বলেছেন, 'তরুণ খেলোয়াড় তৈরি ও উন্নতির এই নীতি বাস্তবায়ন করা সঠিক নাকি ভুল? হয়তো নারী উইংয়ের প্রধান আমাদের কাজের এই উন্নয়নমূলক দিকটি পছন্দ করেন না। আর সেটিই আমাদের অন্য একটি আলোচনার দিকে নিয়ে যায়। বাফুফে সভাপতি এই মেয়েদের ব্যাপারে সত্যিই খুব সহানুভূতিশীল ও সমর্থনকারী। আমার এই আড়াই বছরের মেয়াদে উনি আমাকে যে সমর্থন দিয়েছেন, সেটির জন্য আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ।'

উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের ফল নিয়ে পিটারের মূল্যায়ন, 'আমার মনে হয়, যে জিনিসটি আপনাদের মাথায় রাখতে হবে তা হলো- মাঠে আমাদের অনেক তরুণ, সত্যিই খুব অল্প বয়সী খেলোয়াড় ছিল। আমাদের দলে ১৫ বছরের একটি মেয়েও রয়েছে। তাই এখানে এখানে একটা বড় পার্থক্য রয়েছে। অনেকেই হয়তো এসে বলবে যে তরুণ খেলোয়াড়দের খেলার সুযোগ দেওয়া উচিত। কিন্তু মনে রাখতে হবে, আমাদের কোনো স্বীকৃত লিগ নেই। আমি কোনো অজুহাত দিচ্ছি না। কারণ আজকের ফলাফলের পুরো দায়ভার আমি নিচ্ছি। কারণ ওরা আমারই খেলোয়াড়। তবে আমাদের দলে দুটি ভিন্ন দল বা বিভাগ রয়েছে। একটি বয়স্কদের গ্রুপ এবং একটি তরুণদের গ্রুপ।'

দলের কিছু ইস্যু উল্লেখ করে পিটার বাটলার বলেন,' এখানে কিছু সমস্যা ও ইস্যু রয়েছে। মাঠের বাইরে কী ঘটছে বা না ঘটছে, তা আমি নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। তবে আমি অকপটে বলবো সভাপতি অত্যন্ত আন্তরিক হলেও অনেকে তা নন। রাতের মাঝপথে খেলোয়াড়দের কল করা, কনফারেন্স কল করা, এভাবে আপনি কখনো একটি দল তৈরি করতে পারবেন না।'

নিজের ক্যারিয়ারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে পিটার বাটলার বলেন, 'আমি পেশাদার ফুটবল কোচ। ইংল্যান্ডে ৫০০ এর বেশি ম্যাচ খেলেছি। আমি কোনো বোকা নই। আমি অনেক জায়গা ঘুরে এসেছি, অনেক জাতীয় পুরুষ ফুটবল দলের কোচিং করিয়েছি। তাই আমি নির্বোধ নই এবং আমি বুঝি কখন পরিস্থিতি প্রতিকূলে কাজ করে।'

আজকের এই ফলাফল তরুণ মেয়েদের জন্য দু:খজনক উল্লেখ করে বাটলার বলেছেন, 'এই তরুণ মেয়েগুলোর জন্য এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আমি এখানে তাদের জন্যই আছি। তবে আমার মনে হয় দ্বিতীয়ার্ধে তারা ভালো খেলেছে। আমি খেলোয়াড়দের চাপ কিছুটা কমানোর চেষ্টা করেছি। কারণ এটি মাথায় রাখা দরকার, এই ম্যাচের ফলাফল ১-০ বা ১০-০ বড় বিষয় ছিল না। কারণ আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো মিয়ানমার ম্যাচ।'

 আর‌আই/আইএইচএস/

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
তাপস-নানকের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ ১২ অক্টোবর
তাপস-নানকের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ ১২ অক্টোবর

মামলার ২৮ আসামির মধ্যে চারজন বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন- সাবেক আনসার সদস্য মোহাম্মদ ওমর ফারুক, মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, থানা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেন এবং যুবলীগ কর্মী কে এম ফজলে রাব্বী। অন্যরা পলাতক।

News অক্টোবর ৮, ২০২৬ 0
জীবননাশের আশঙ্কা জিয়াউল আহসানের, ভার্চ্যুয়ালি হাজিরা চায় প্রসিকিউশন

জীবননাশের আশঙ্কা জিয়াউল আহসানের, ভার্চ্যুয়ালি হাজিরা চায় প্রসিকিউশন

বিমানযাত্রীর পায়ুপথে ৩টি স্বর্ণের ডিম, দাম পৌনে ২ কোটি টাকা 

বিমানযাত্রীর পায়ুপথে ৩টি স্বর্ণের ডিম, দাম পৌনে ২ কোটি টাকা 

ঢাবির ২২ শিক্ষক বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ গবেষকের তালিকায়

ঢাবির ২২ শিক্ষক বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ গবেষকের তালিকায়

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু

এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরো ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে ২৯৪ জনের মৃত্যু হলো।

News অক্টোবর ৮, ২০২৬ 0
সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্সের মুনাফা বেড়েছে

সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্সের মুনাফা বেড়েছে

বিশ্বসেরা গবেষকদের তালিকায় রাবির ১৬ গবেষক

বিশ্বসেরা গবেষকদের তালিকায় রাবির ১৬ গবেষক

বাড়িভাড়ায় চিড়েচ্যাপ্টা ঢাকার জীবন

বাড়িভাড়ায় চিড়েচ্যাপ্টা ঢাকার জীবন

টাঙ্গাইলে বিয়ের রাতেই বরের মৃত্যু
টাঙ্গাইলে বিয়ের রাতেই বরের মৃত্যু

টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় বিয়ের রাতেই অসুস্থ হয়ে আয়নাল হক (৩৮) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। নববধূকে ঘরে তোলার কয়েক ঘণ্টার মাথায় তার এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

News অক্টোবর ৮, ২০২৬ 0
সাহিত্যে নোবেল পেলেন অ্যান কারসন

সাহিত্যে নোবেল পেলেন অ্যান কারসন

চবিতে চালু হলো চাকসু ডিজিটাল লার্নিং হাব

চবিতে চালু হলো চাকসু ডিজিটাল লার্নিং হাব

জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ একাডেমি হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ একাডেমি হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

0 Comments